পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান
jugantor
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

  আফরোজা বেগম  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

অধ্যায় : বায়ু

প্রশ্ন : ভেজা কাপড় যত দ্রুত সম্ভব শুকানো প্রয়োজন। কিন্তু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরের ভেতর কীভাবে দ্রুত কাপড় শুকাতে পারি?

উত্তর : রোদ বা সূর্যের আলো এবং বায়ুপ্রবাহ ভেজা কাপড়কে শুকাতে পারে। যেহেতু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে এবং ঘরের ভেতরে কাপড়টি শুকাতে হবে সেহেতু রোদ বা সূর্যের আলো পাওয়া যাবে না। তাই বায়ুপ্রবাহের গতিকে বাড়িয়ে দ্রুত কাপড়কে শুকানো যেতে পারে।

ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখলে বায়ুপ্রবাহের গতি কমে যায়। ঘরের ভেতরের আবদ্ধ বায়ু ভেজা কাপড়ের পানিকে দ্রুত জলীয়বাষ্পে পরিণত করতে পারে না। তাই ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিলে ভেতরের জলীয়বাষ্প পূর্ণ বাতাস দরজা-জানালা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং বাইরে থেকে কম আর্দ্র বা কম জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কাপড় থেকে বেশি করে পানি শোষণ করে দ্রুত কাপড়কে শুকানো যেতে পারে। বায়ুপ্রবাহের গতিকে বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক পাখা ছাড়া যেতে পারে।

সুতরাং, ঘরের ভেতরে বায়ুপ্রবাহ বাড়িয়ে দ্রুত ঘরের ভেতরে কাপড় শুকাতে পারি।

প্রশ্ন : রিসাইকেল প্রক্রিয়া কীভাবে বায়ুদূষণ কমাতে পারে?

উত্তর : রিসাইকেল শব্দের অর্থ পুনরায় চক্রাকারে ব্যবহার করা। আমরা বিভিন্ন জিনিস রিসাইকেল করে বায়ুদূষণ কমাতে পারি। যেমন-

* বিভিন্ন ধরনের পচনশীল ময়লা-আবর্জনা রাস্তাঘাটে এদিক-সেদিকি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখলে তা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বায়ু দূষিত হয়। পরিবেশ নোংরা হয়। এসব ময়লা-আবর্জনা মাটি চাপা দিয়ে পরিবেশবান্ধব জৈব সার তৈরি করে জমির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে পরিবেশ তথা বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে পারি।

* ময়লা-আবর্জনা দিয়ে বায়ো প্লান্টের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জ্বালানি তৈরি করতে পারি ও বায়ুকে দূষণমুক্ত করতে পারি।

* বিভিন্ন কাগজ বা ব্যবহৃত খেলনা ব্যবহারের পর তা ডাস্টবিনে না ফেলে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় তা ব্যবহার করতে পারি।

* ফেলে দেওয়া বিভিন্ন বস্তু থেকে সুন্দর সুন্দর সো-পিস বানিয়ে বায়ুদূষণ রোধ করতে পারি।

সুতরাং, রি-সাইকেলিংয়ের মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমাতে পারি।

প্রশ্ন : কী কী কারণে বায়ু দূষিত হয়? মানুষ কীভাবে বায়ুদূষণ করছে?

উত্তর : বায়ু আমাদের জন্য খুব দরকারি। বায়ুর স্বাভাবিক উপাদান পরিবর্তন হওয়াকে বায়ুদূষণ বলে।

* বিভিন্ন ধরনের পদার্থ মেযন- রাসায়নিক পদার্থ, গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া অথবা দুর্গন্ধ বায়ুতে মিশে বায়ু দূষিত করে।

* প্রাকৃতিক বিভিন্ন কারণে যেমন- আগ্নেয়গিরি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি নানা কারণে বায়ু দূষিত হয়।

মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ডও বায়ুকে দূষিত করে। যেমন-

* জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষিত হয়।

কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে।

* গাছপালা পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন ধোঁয়া থেকেও বায়ু দূষিত হয়।

* যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও মলমূত্র ত্যাগের কারণে বায়ুতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং বায়ু দূষিত হয়।

* যেখানে-সেখানে কফ, থুথু ফেললে এবং পায়খানা-প্রস্রাব করলে রোগ-জীবাণু বায়ুতে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।

* যেখানে-সেখানে আবর্জনা ও মৃত জীবজন্তু ফেললে এগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও বায়ু দূষণ ঘটায়।

* চামড়ার কারখানার দূষিত বর্জ্যরে দুর্গন্ধ বায়ুদূষণ করে।

* রান্নার চুলা, মোটর গাড়ির অব্যবহৃত টায়ার পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করে।

* গাছপালা, বন-বাদাড় কাটার ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পায় ও বায়ু দূষিত হয়।

সুতরাং, মানুষের বেশ কিছু অসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডই পরিবেশে বায়ু দূষণের মূল কারণ। মানুষ প্রতিনিয়ত নানাভাবে বায়ুদূষণ করেই চলেছে।

প্রশ্ন : মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কী?

উত্তর : মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক। বায়ুদূষণের ফলে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন-

* ফুসফুসের ক্যান্সার।

* শ্বাসজনিত রোগ (হাঁপানি)।

* হৃদরোগ (উচ্চ রক্তচাপ)

* হাঁচি-কাশি।

* অ্যালার্জি।

* ব্রঙ্কাইটিস।

* হাম, যক্ষ্মা, বসন্তের মতো নানা বায়ুবাহিত রোগ ছড়ায়।

* সিসাযুক্ত ধোঁয়া শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রক্তে সিসার পরিমাণ বেড়ে গেলে ক্ষুধা কমে যায়, রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। কিনডি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের অসুবিধা দেখা দেয়। রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়।

সুতরাং, দূষিত বায়ুর জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

 আফরোজা বেগম 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

অধ্যায় : বায়ু

প্রশ্ন : ভেজা কাপড় যত দ্রুত সম্ভব শুকানো প্রয়োজন। কিন্তু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরের ভেতর কীভাবে দ্রুত কাপড় শুকাতে পারি?

উত্তর : রোদ বা সূর্যের আলো এবং বায়ুপ্রবাহ ভেজা কাপড়কে শুকাতে পারে। যেহেতু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে এবং ঘরের ভেতরে কাপড়টি শুকাতে হবে সেহেতু রোদ বা সূর্যের আলো পাওয়া যাবে না। তাই বায়ুপ্রবাহের গতিকে বাড়িয়ে দ্রুত কাপড়কে শুকানো যেতে পারে।

ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখলে বায়ুপ্রবাহের গতি কমে যায়। ঘরের ভেতরের আবদ্ধ বায়ু ভেজা কাপড়ের পানিকে দ্রুত জলীয়বাষ্পে পরিণত করতে পারে না। তাই ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিলে ভেতরের জলীয়বাষ্প পূর্ণ বাতাস দরজা-জানালা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং বাইরে থেকে কম আর্দ্র বা কম জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কাপড় থেকে বেশি করে পানি শোষণ করে দ্রুত কাপড়কে শুকানো যেতে পারে। বায়ুপ্রবাহের গতিকে বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক পাখা ছাড়া যেতে পারে।

সুতরাং, ঘরের ভেতরে বায়ুপ্রবাহ বাড়িয়ে দ্রুত ঘরের ভেতরে কাপড় শুকাতে পারি।

প্রশ্ন : রিসাইকেল প্রক্রিয়া কীভাবে বায়ুদূষণ কমাতে পারে?

উত্তর : রিসাইকেল শব্দের অর্থ পুনরায় চক্রাকারে ব্যবহার করা। আমরা বিভিন্ন জিনিস রিসাইকেল করে বায়ুদূষণ কমাতে পারি। যেমন-

* বিভিন্ন ধরনের পচনশীল ময়লা-আবর্জনা রাস্তাঘাটে এদিক-সেদিকি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখলে তা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বায়ু দূষিত হয়। পরিবেশ নোংরা হয়। এসব ময়লা-আবর্জনা মাটি চাপা দিয়ে পরিবেশবান্ধব জৈব সার তৈরি করে জমির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে পরিবেশ তথা বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে পারি।

* ময়লা-আবর্জনা দিয়ে বায়ো প্লান্টের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জ্বালানি তৈরি করতে পারি ও বায়ুকে দূষণমুক্ত করতে পারি।

* বিভিন্ন কাগজ বা ব্যবহৃত খেলনা ব্যবহারের পর তা ডাস্টবিনে না ফেলে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় তা ব্যবহার করতে পারি।

* ফেলে দেওয়া বিভিন্ন বস্তু থেকে সুন্দর সুন্দর সো-পিস বানিয়ে বায়ুদূষণ রোধ করতে পারি।

সুতরাং, রি-সাইকেলিংয়ের মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমাতে পারি।

প্রশ্ন : কী কী কারণে বায়ু দূষিত হয়? মানুষ কীভাবে বায়ুদূষণ করছে?

উত্তর : বায়ু আমাদের জন্য খুব দরকারি। বায়ুর স্বাভাবিক উপাদান পরিবর্তন হওয়াকে বায়ুদূষণ বলে।

* বিভিন্ন ধরনের পদার্থ মেযন- রাসায়নিক পদার্থ, গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া অথবা দুর্গন্ধ বায়ুতে মিশে বায়ু দূষিত করে।

* প্রাকৃতিক বিভিন্ন কারণে যেমন- আগ্নেয়গিরি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি নানা কারণে বায়ু দূষিত হয়।

মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ডও বায়ুকে দূষিত করে। যেমন-

* জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষিত হয়।

কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে।

* গাছপালা পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন ধোঁয়া থেকেও বায়ু দূষিত হয়।

* যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও মলমূত্র ত্যাগের কারণে বায়ুতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং বায়ু দূষিত হয়।

* যেখানে-সেখানে কফ, থুথু ফেললে এবং পায়খানা-প্রস্রাব করলে রোগ-জীবাণু বায়ুতে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।

* যেখানে-সেখানে আবর্জনা ও মৃত জীবজন্তু ফেললে এগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও বায়ু দূষণ ঘটায়।

* চামড়ার কারখানার দূষিত বর্জ্যরে দুর্গন্ধ বায়ুদূষণ করে।

* রান্নার চুলা, মোটর গাড়ির অব্যবহৃত টায়ার পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করে।

* গাছপালা, বন-বাদাড় কাটার ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পায় ও বায়ু দূষিত হয়।

সুতরাং, মানুষের বেশ কিছু অসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডই পরিবেশে বায়ু দূষণের মূল কারণ। মানুষ প্রতিনিয়ত নানাভাবে বায়ুদূষণ করেই চলেছে।

প্রশ্ন : মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কী?

উত্তর : মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক। বায়ুদূষণের ফলে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন-

* ফুসফুসের ক্যান্সার।

* শ্বাসজনিত রোগ (হাঁপানি)।

* হৃদরোগ (উচ্চ রক্তচাপ)

* হাঁচি-কাশি।

* অ্যালার্জি।

* ব্রঙ্কাইটিস।

* হাম, যক্ষ্মা, বসন্তের মতো নানা বায়ুবাহিত রোগ ছড়ায়।

* সিসাযুক্ত ধোঁয়া শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রক্তে সিসার পরিমাণ বেড়ে গেলে ক্ষুধা কমে যায়, রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। কিনডি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের অসুবিধা দেখা দেয়। রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়।

সুতরাং, দূষিত বায়ুর জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন