প্রিয় ক্যাম্পাস : ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান

  সেলিম কামাল ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরীক্ষা দিয়ে কেবলই নিচের ফ্লোরে নামল সিএসই ডিপার্টমেন্টের ছাত্র সানজিদ। মিষ্টি হাসি মুখে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল ক্যাম্পাস থেকে। ওকে জিজ্ঞেস করলাম- কেমন লাগছে এ ক্যাম্পাস। সে জানাল, ‘এক কথায় দারুণ। এখান প্রতিটি শিক্ষার্থীরই প্রিয় ক্যাম্পাস এটি। কারণ আমাদের শিক্ষকরা সবাই ভীষণ সহযোগিতাপ্রবণ। এখানে রাজনীতির কোনো প্রভাব নেই। শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, কোনো কিছু কেউ চাপিয়ে দেন না। সুবিশাল লাইব্রেরি আছে- যেখানে প্রয়োজনীয় সব বই পাওয়া যায়।’

‘সাশ্রয়ী খরচে মানসম্পন্ন শিক্ষা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৩ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। ৩০ জন ফাউন্ডেশন মেম্বারের মধ্য থেকে ২১ জনকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি ট্রাস্টি বোর্ড। তুলনামূলক কম ফ্যাকাল্টি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়- প্রায় চার হাজার (বিদেশিসহ)। শিক্ষকের সংখ্যাও দেড় শতাধিক। এ বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হয়েছে আশুলিয়ার স্থায়ী ক্যাম্পাসে। ২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে এ ক্যাম্পাস।

একনজরে

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বছরে তিনটি সেমিস্টারে ভর্তি কার্যক্রম চলে- স্প্রিং (জানুয়ারি-এপ্রিল), সামার (মে-আগস্ট) ও ফল (সেপ্টম্বর-ডিসেম্বর) সেমিস্টার। এখানে চার বছরের স্নাতক কোর্সগুলো হল- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ও ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ, এলএলবি ও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার এবং স্নাতকোত্তর কোর্সগুলো হল- এমবিএ (সান্ধ্যকালীন), ইএমবিএ (সান্ধ্যকালীন), এলএলএম, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং (সান্ধ্যকালীন), ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে স্পোকেন ইংলিশ এবং চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট কোর্স চালু। প্রতিটি প্রোগ্রামের খরচই সাধ্যের মধ্যে। এখানে অধ্যাপকরা খুব ভালো, দক্ষ ও আন্তরিক। ক্লাসরুমের বাইরেও নানা বিষয়ে তারা শিক্ষার্থীদের পারামর্শ দিয়ে থাকনে। তাদের কাছ থেকে লেখাপড়ার বাইরেও নানা বিষয়ে ব্যক্তিগত সহযোগিতা নেয়া যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ায় যেমন মনোযোগ বাড়ে, ফল ভালো হয়, তেমনি জীবনও সুন্দর হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসরুমেই ডিজিটালাইজড। সবকয়টি বিভাগ সাজানো-গোছানো। আমাদের খরচ তুলনামূলক কম, বিষয়গুলো ভালো। ক্লাস রুটিন হিসাব কষে করা। কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে সকালে একটি, বিকালে আরেকটি ক্লাস হয়, এখানে কিন্তু টানা ক্লাস চলে। লাইব্রেরিতে বইয়ের কালেকশনও ভালো। আমাদের প্রতিটি ক্লাসের কার্যক্রম বছরজুড়ে বজায় থাকে বলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়েরই সহশিক্ষার পরিবেশ খুব ভালো। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাহিত্য আড্ডা, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টিতে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, আইন অনুষদে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায় অনুষদে বিজনেস কেস কম্পিটিশন ইত্যাদি হয় প্রতি সেমিস্টারের নতুন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা হয়। ফলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টিশীলতার চরম বিকাশ ঘটে। নিয়মিত ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টিশীলতার চরম বিকাশ ঘটে। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দিচ্ছে। ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও নানা সুবিধার মধ্যে ডিজিটাল লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব অন্যতম। পুরো ক্যাম্পাসেই ইন্টারনেট ব্যবহার ফ্রি। প্রতিটি ক্লাসরুমেই আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষা-উপকরণের মাধ্যম পাঠদান করা হয়। শিক্ষকরা বেশিরভাগই পূর্ণকালীন, অনেকেরই পিএইচডি ডিগ্রি আছে। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ১৯টি দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতামূলক চুক্তি আছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা উন্নত দেশগুলোতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে অথবা স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য সেখানে যান। তাদের মেধার স্বীকৃতি হিসেবে ভাইস চ্যান্সেলর ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।

বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে থাকে। পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে, বিভিন্ন কোটায় ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। এ ছাড়া আইন অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও মেধাবী কিন্তু অতি দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১০০% আর্থিক সহায়তা। এসব আর্থিক সহায়তার বাইরে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা সুদে শিক্ষার্থী ঋণের ব্যবস্থা করে- যা শিক্ষার্থী কর্মজীবনে প্রবেশ করে শোধ করতে পারে। এ ছাড়া প্রতি বছর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রদত্ত স্কলারশিপ ফান্ড থেকে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর পরও যদি কোনো ছাত্র আর্থিক কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে অক্ষম হয়- সে ক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদের কোনো কোনো সদস্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করেন।

সুবিশাল লাইব্রেরি

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সমৃদ্ধ লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। বর্তমানে এটি কোহা ইন্টিগ্রেটেড লাইব্রেরি সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয়। ব্যবহারকারীরা অনলাইন পাবলিক অ্যাকসেস ক্যাটালগের (ওপেক) মাধ্যমে যে কোনো জায়গা থেকে বই সার্চ, প্রোফাইল চেক এবং নিজেরাই তাদের বইয়ের মেয়াদ বাড়াতে পারে। বর্তমানে এ লাইব্রেরিতে ৫ হাজার শিরোনামের ১৬ হাজারের বেশি বই রয়েছে। আরও রয়েছে দেশি-বিদেশি জার্নাল, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা। ৮০০-এর বেশি অডিও ভিজ্যুয়াল, ২৫০০০-এর বেশি অনলাইন জার্নাল এবং ই-বুকের একসেস সুবিধা আছে। ই-রিসোর্স ব্যবহার করার জন্য রিমোট একসেস সুবিধা দেয়া হয় মাই অ্যাথেনসের মাধ্যমে। এ ছাড়া রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিক্ষকদের জন্য টিচার্স কর্নার এবং ওয়াইফাই সুবিধা। লাইব্রেরি ইনচার্জ সোনিয়া নাজনীন জানান, এটি সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সপ্তাহে সাত দিন খোলা থাকে।

যত সাফল্য

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মানের বিষয়ে আপসহীন থেকে দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা আজ দেশের বিভিন্ন সরকরি-বেসরকারি পর্যয়ে উচ্চ প্রতিষ্ঠিত। তাদের দাবি অনুযায়ী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবার সেরা। এমনকি অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সেরা হিসেবে দেশে এবং দেশের বাইরে সুনাম অর্জন করেছে। তা ছাড়া অনেক বিজনেস গ্র্যাজুয়েট ব্যাংকের এমডিসহ অনেক উচ্চপর্যায়ে আসীন। তা ছাড়া অনেকে উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটরাও সমান তালে দেশের বিভিন্ন আইটি ফার্মে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এবং ইংলিশ গ্র্যাজুয়েটরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করছেন এবং ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিতে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তাই আমি বলব, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। তা ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ের খরচের হেরফের রয়েছে। তবে খরচ হিসাব করলে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি মধ্যবিত্তের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে।

বিভিন্ন ক্লাব ও ফোরাম

শিক্ষার্থীদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে এই ক্যাম্পাসে আছে কম্পিউটারিং ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরাম, আর্থ কেয়ার ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাব, জার্নালিস্ট ফোরাম, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, মুট কোর্ট সোসাইটি, সোশ্যাল বিজনেস অ্যান্ড এন্টারপ্রেণারশিপ ক্লাব, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি রাইটার্স ফোরাম, ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ ক্লাব ও আই ট্রিপল ই ইইউসহ ১৭টি ক্লাব। সবগুলো ক্লাবই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৌরব আনছে। স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইনচার্জ মো. ফেরদাউস জানান ২০১৬ সালে কালাচারাল ক্লাবের ছয়জন সদস্য ভারতে নবম সাউথ এশিয়ান ফেস্ট গান ও নৃত্য শাখায় ১০টি দেশের মধ্যে ভালো কারায় পুরস্কৃত হয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্পোর্টস ক্লাবের ১৪ সদস্যের দল চীন ঘুরে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দলকে হারিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুট কোর্ট সোসাইটির একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ‘ফিলিপ জেসাস ইন্টারন্যাশনাল ল’ মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০১৭-এ ৩০টি নতুন দলের মধ্যে লিখিত ও মৌখিকে সেরা হয়ে ‘বেস্ট নিউ টিম’ সম্মাননা পেয়েছে। এ বছরেও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি মুট কোর্ট দল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ফিলিপ জেসাস ইন্টারন্যাশনাল ল’ মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০১৮তে অংশগ্রহণ করতে ওয়াশিংটন ঘুর এসেছে।

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শুরু হচ্ছে ফল সেশনে ভর্তি প্রক্রিয়া। ভর্তি ফরম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাডমিশন অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ফরম সঠিকভাবে পূরণ করে পাসপোর্ট আকারে ছবি যুক্ত করতে হবে। সঙ্গে জমা দিতে হবে এসএসসি ও এইচএসসির সব সনদ, নম্বরপত্রের সত্যায়িত কপি, প্রশংসাপত্র ও আবেদন ফি জমার রসিদ।

মানের ক্ষেত্রে আমরা আপসহীন

প্রফেসর ড. নূরুল ইসলাম, ভাইস চ্যান্সেলর, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর থেকে আমি দায়িত্ব পালন করছি। আমি সবাইকে নিয়ে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উন্নয়নকল্পে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। ফ্যাকাল্টির সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আরও ৫-৬টি নতুন বিষয় বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ঠিক রাখতে আমরা গরিব মেধাবীদের দিকে বেশি নজর রাখছি। টাকার অভাবে কারও পড়ালেখা যেন বন্ধ না হয়, এ ব্যাপারে বোর্ড সদস্যদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। এ কারণেই আমরা বলছি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি একটি অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন অবকাঠামোগত সুবিধা ভোগ করতে পারে সেজন্য আশুলিয়াস্থ নতুন ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীকেই আমরা স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে যাব। সেখানে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য হোস্টেল তৈরি হচ্ছে। এখন যারা সেখানে ক্লাস করছে, তাদের যাতায়াত খরচ লাগছে না। কারণ সে দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।

আমাদের ক্যাম্পাসটি সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত। আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করে না। শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন রয়েছেন।

পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরা এক্সট্রা কারিকুলামেও খুব ভালো করছে। ১৭টি ক্লাব ও ফোরামের মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে। আর এ কারণেই আমাদের শিক্ষার্থীরা পাস করার পর কেউ বেকার থাকছে না। অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করার পরও এটা আমাদের অনেক বড় কৃতিত্ব বলে আমি মনে করি।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, আমার ৫৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এখানকার শিক্ষার্থীদের মতো এত সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে আর কোথাও দেখিনি।

আমার একটা মনোকষ্ট- বিদেশে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম শোনা যায় না। তাই আমার স্বপ্ন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সুনামের শিখরে পৌঁছে দেয়া।

সততা হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি নিজে সৎ না হলে আরেকজন সৎ উপহার দিতে পারব না। আর এ কারণেই আমার মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য যদি লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি না করেন- তাহলে এ দেশ একদিন সত্যিকারের সোনার বাংলা হবেই।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter