বিসিএস প্রিলিমিনারি শেষ সময়ের প্রস্তুতি ১
jugantor
বিসিএস প্রিলিমিনারি শেষ সময়ের প্রস্তুতি ১
রবিউল আলম লুইপা, ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

  ক্যাম্পাস ডেস্ক  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিসিএস প্রিলিমিনারি শেষ সময়ের প্রস্তুতি ১

খুব দ্রুতই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। প্রিলি পরীক্ষায় সফলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শেষ সময়ের পরিকল্পিত প্রস্তুতি। এর জন্য-

* প্রতিটি সাবজেক্ট রিভিশনের জন্য ৫-৬ দিন মাথায় রেখে আগামী ৪৫ দিনের একটা রুটিন করে ফেলতে পারেন। যে সাবজেক্টটির রিভিশন শেষ হবে সেটির ওপর বিষয়ভিত্তিক মডেল টেস্ট এবং প্রিলি পরীক্ষার আগের ৭ দিন ৭টি মডেল টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেন। এতে আপনার সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ যেমন আসবে, কয়টি প্রশ্ন উত্তর দিলে কয়টি ভুল হচ্ছে সে সম্পর্কে একটা ধারণাও পেয়ে যাবেন। প্রতিটি মডেল টেস্ট দেওয়ার পর আগের মডেল টেস্টের চেয়ে কতটা বেশি দাগাতে পারলেন আর কতগুলো কম ভুল হলো সেটি পর্যালোচনা করবেন। বেশিরভাগ প্রার্থীর প্রিলি পরীক্ষায় ফেলের প্রধান কারণ ভুল উত্তর দিয়ে নেগেটিভ মার্কিংয়ের শিকার হওয়া।

* খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে নতুন পড়া পড়বেন না। আগের প্রিলি প্রশ্নগুলো এনালাইসিস করলে দেখবেন, সাম্প্রতিক তথ্য থেকে ৩-৪টির বেশি প্রশ্ন করা হয়নি। উপরন্তু বিগত প্রশ্ন থেকেই প্রচুর প্রশ্ন রিপিট এসেছে। তাই বিগত সময়ের বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রশ্নগুলো পড়ে যাবেন বারবার। এ ক্ষেত্রে প্রফেসরস প্রকাশনীর কারেন্ট এফেয়ার্স বিশেষ সংখ্যাটা ভালো করে দেখে যেতে পারেন।

* গণিত বিষয়ের জন্য দিন নির্দিষ্ট না রেখে প্রতিদিনই কমবেশি গণিতচর্চা করুন। প্রতিদিনের গণিতচর্চায় আপনার পড়ার একঘেয়েমি যেমন কাটবে, গণিতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাগুলোও কমে আসবে।

* বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি যত সময় দিয়েই পড়েন, সবক’টি প্রশ্ন কমন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে গণিত ও মানসিক দক্ষতা, সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ প্রভৃতি বিষয়ে বিগত প্রশ্ন বা আপনার পড়ার মধ্য থেকেই প্রশ্ন কমন আসবে। তাই অনিশ্চয়তার পেছনে কম সময় ব্যয় করে নিশ্চিত নম্বরের জন্য বেশি সময় দিন। নম্বর নিশ্চিত করতে একই পড়া বারবার পড়ুন।

* বিগত ৫ বিসিএসের প্রিলি রেজাল্টে দেখা গেছে মোটামোটি ১২০ নম্বরের মতো পেলে প্রিলিতে উত্তীর্ণ সম্ভব। তাই কোনো সাবজেক্টে আপনার দুর্বলতা থাকলে সেটি নিয়ে না ভেবে নিজের শক্তির ওপর বেশি জোর দিন। প্রিলিতে যেহেতু সাবজেক্ট ওয়াইজ আলাদা পাশ করতে হয় না, তাই গণিতের ১৫ নম্বর বা ইংরেজি সাহিত্যের ১৫ নম্বর স্কিপ করেও প্রিলিতে টেকা সম্ভব।

* পরীক্ষার আগের এক সপ্তাহ কী পড়বেন তা এখন থেকেই মাথায় রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা মনে রাখার টেকনিকগুলো খাতায় টুকে রাখুন যেন পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে একনজর চোখ বুলিয়ে যেতে পারেন। পরীক্ষার আগে নোট খাতাতে চোখ বুলালে অনেক ভুলে যাওয়া টপিক মনে রাখতে সুবিধা হয়।

* পরীক্ষার হলে কোন সাবজেক্টের পর কোন সাবজেক্টের উত্তর দেবেন, কোন সাবজেক্টের জন্য কত সময় বরাদ্দ রাখবেন প্রভৃতি আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। প্রয়োজনে বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় আপনার পরিকল্পনা এপ্লাইয়ের বাস্তবতা ও সম্ভাব্যতা করে দেখুন।

* শেষ সময়ের একটি বড় প্রস্তুতি হলো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা। অনেক প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষার আগে অসুস্থ হলে আপনার এত দিনের সব প্রস্তুতি ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাবেন। মনে রাখবেন, যে কোনো জায়গায় সফল হওয়ার কী পয়েন্ট হলো কনফিডেন্ট থাকা। আপনাকে প্রিলি টিকতেই হবে ভেবে মানসিক স্ট্রেস না নিয়ে ভাবুন আপনি আপনার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন, বাকিটা ভাগ্য।

বিসিএস প্রিলিমিনারি শেষ সময়ের প্রস্তুতি ১

রবিউল আলম লুইপা, ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)
 ক্যাম্পাস ডেস্ক 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বিসিএস প্রিলিমিনারি শেষ সময়ের প্রস্তুতি ১
ফাইল ছবি

খুব দ্রুতই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। প্রিলি পরীক্ষায় সফলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শেষ সময়ের পরিকল্পিত প্রস্তুতি। এর জন্য-

* প্রতিটি সাবজেক্ট রিভিশনের জন্য ৫-৬ দিন মাথায় রেখে আগামী ৪৫ দিনের একটা রুটিন করে ফেলতে পারেন। যে সাবজেক্টটির রিভিশন শেষ হবে সেটির ওপর বিষয়ভিত্তিক মডেল টেস্ট এবং প্রিলি পরীক্ষার আগের ৭ দিন ৭টি মডেল টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেন। এতে আপনার সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ যেমন আসবে, কয়টি প্রশ্ন উত্তর দিলে কয়টি ভুল হচ্ছে সে সম্পর্কে একটা ধারণাও পেয়ে যাবেন। প্রতিটি মডেল টেস্ট দেওয়ার পর আগের মডেল টেস্টের চেয়ে কতটা বেশি দাগাতে পারলেন আর কতগুলো কম ভুল হলো সেটি পর্যালোচনা করবেন। বেশিরভাগ প্রার্থীর প্রিলি পরীক্ষায় ফেলের প্রধান কারণ ভুল উত্তর দিয়ে নেগেটিভ মার্কিংয়ের শিকার হওয়া।

* খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে নতুন পড়া পড়বেন না। আগের প্রিলি প্রশ্নগুলো এনালাইসিস করলে দেখবেন, সাম্প্রতিক তথ্য থেকে ৩-৪টির বেশি প্রশ্ন করা হয়নি। উপরন্তু বিগত প্রশ্ন থেকেই প্রচুর প্রশ্ন রিপিট এসেছে। তাই বিগত সময়ের বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রশ্নগুলো পড়ে যাবেন বারবার। এ ক্ষেত্রে প্রফেসরস প্রকাশনীর কারেন্ট এফেয়ার্স বিশেষ সংখ্যাটা ভালো করে দেখে যেতে পারেন।

* গণিত বিষয়ের জন্য দিন নির্দিষ্ট না রেখে প্রতিদিনই কমবেশি গণিতচর্চা করুন। প্রতিদিনের গণিতচর্চায় আপনার পড়ার একঘেয়েমি যেমন কাটবে, গণিতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাগুলোও কমে আসবে।

* বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি যত সময় দিয়েই পড়েন, সবক’টি প্রশ্ন কমন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে গণিত ও মানসিক দক্ষতা, সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ প্রভৃতি বিষয়ে বিগত প্রশ্ন বা আপনার পড়ার মধ্য থেকেই প্রশ্ন কমন আসবে। তাই অনিশ্চয়তার পেছনে কম সময় ব্যয় করে নিশ্চিত নম্বরের জন্য বেশি সময় দিন। নম্বর নিশ্চিত করতে একই পড়া বারবার পড়ুন।

* বিগত ৫ বিসিএসের প্রিলি রেজাল্টে দেখা গেছে মোটামোটি ১২০ নম্বরের মতো পেলে প্রিলিতে উত্তীর্ণ সম্ভব। তাই কোনো সাবজেক্টে আপনার দুর্বলতা থাকলে সেটি নিয়ে না ভেবে নিজের শক্তির ওপর বেশি জোর দিন। প্রিলিতে যেহেতু সাবজেক্ট ওয়াইজ আলাদা পাশ করতে হয় না, তাই গণিতের ১৫ নম্বর বা ইংরেজি সাহিত্যের ১৫ নম্বর স্কিপ করেও প্রিলিতে টেকা সম্ভব।

* পরীক্ষার আগের এক সপ্তাহ কী পড়বেন তা এখন থেকেই মাথায় রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা মনে রাখার টেকনিকগুলো খাতায় টুকে রাখুন যেন পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে একনজর চোখ বুলিয়ে যেতে পারেন। পরীক্ষার আগে নোট খাতাতে চোখ বুলালে অনেক ভুলে যাওয়া টপিক মনে রাখতে সুবিধা হয়।

* পরীক্ষার হলে কোন সাবজেক্টের পর কোন সাবজেক্টের উত্তর দেবেন, কোন সাবজেক্টের জন্য কত সময় বরাদ্দ রাখবেন প্রভৃতি আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। প্রয়োজনে বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় আপনার পরিকল্পনা এপ্লাইয়ের বাস্তবতা ও সম্ভাব্যতা করে দেখুন।

* শেষ সময়ের একটি বড় প্রস্তুতি হলো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা। অনেক প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষার আগে অসুস্থ হলে আপনার এত দিনের সব প্রস্তুতি ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাবেন। মনে রাখবেন, যে কোনো জায়গায় সফল হওয়ার কী পয়েন্ট হলো কনফিডেন্ট থাকা। আপনাকে প্রিলি টিকতেই হবে ভেবে মানসিক স্ট্রেস না নিয়ে ভাবুন আপনি আপনার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন, বাকিটা ভাগ্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন