ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
jugantor
ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

  মো. মুজাম্মেল হক  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

ইবাদত

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : সাওম বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : সাওম আরবি শব্দ। এর ফার্সি প্রতিশব্দ হলো রোজা। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাওম হলো সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সঙ্গে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা। আল্লামা আবুল হাসান বলেন-নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকার নাম সাওম।

প্রশ্ন : ‘সাওম ঢাল স্বরূপ’ বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : সাওম মানুষকে কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে নিরাপদ থাকতে সহায়তা করে বলে একে ঢাল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাওম ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ। প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক নর-নারীর ওপর সাওম ফরজ। যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন মানুষের জীবন রক্ষা করে, তেমনি সাওম খারাপ কাজ না করার ঢাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সাওম মানুষকে সব ধরনের কু-প্রবৃত্তি ও বিবাদ, মিথ্যাচার, অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখে। সাওমের মাধ্যমে মানুষ সংযমী হতে পারে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘সাওম ঢালস্বরূপ।’

প্রশ্ন : ‘রমজান মাস সহানুভূতির মাস’ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : রমজান মাস সহানুভূতির মাস উক্তিটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী।

রমজান মাসে সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। সাওম পালন করে এরূপ ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কীরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয়। আর এজন্য এ মাসকে বলা হয় সহানুভূতির মাস।

প্রশ্ন : ‘সাওম শুধু আমার জন্য আমি নিজে এর প্রতিদান দেব’-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : সাওমের মাধ্যমে মানুষের মনে তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। সাওম পালনের প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেবেন। সব সৎ কাজের প্রতিদান আল্লাহ দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু সাওমের প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেবেন এবং এর পরিমাণ নির্ধারিত নয়। আল্লাহতায়ালা তার ইচ্ছানুযায়ী তা প্রদান করবেন। সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহতায়ালা বলেন-‘সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’

প্রশ্ন : জাকাত বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে জাকাত বলে। নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে জাকাত ফরজ হয়। এক্ষেত্রে জাকাত প্রদানে ধনীর সম্পদ পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও বৃদ্ধি পায়। তাই একে জাকাত বলা হয়।

প্রশ্ন : ‘জাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধন বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার উৎসগুলোর মধ্যে জাকাত হলো অন্যতম। জাকাত ধনী ও গরিবের বৈষম্য দূর করে।

অর্থনৈতিকভাবে ধনী ও গরিব উভয় শ্রেণির মানুষ সমাজে রয়েছে। ধনী ও গরিবের মাঝে আর্থিক সমন্বয়সাধন করাতে মহান আল্লাহ জাকাতের বিধান দিয়েছেন। জাকাত আদায় করলে সমাজের দুর্বল লোকেরাও আর্থিকভাবে সবল হয়ে উঠবে। ফলে ধনী ও গরিবের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। এতে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধন হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন-জাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধন।

প্রশ্ন : ‘জাকাত অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার’-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : জাকাত অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার। ধনীদের শরিয়তের বিধান অনুসারে জাকাত আদায় করা একান্ত আবশ্যক। জাকাত প্রদান করা দরিদ্রের প্রতি ধনী লোকদের কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং জাকাত হলো দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার। কেউ ইসলামের অনুসারী হলে তার উচিত স্বেচ্ছায় জাকাত প্রদান করা এবং অসহায় লোকদের কাছে তা পৌঁছে দেয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের (ধনীদের) সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে। পরিণামে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

প্রশ্ন : হজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি। হজের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা প্রদক্ষিণ করা।

ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজের মাসে নির্ধারিত দিনগুলোতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো জিয়ারত করাকে হজ বলে। শরহে বিকায়া গ্রন্থকার বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে সুনির্দিষ্ট স্থান জিয়ারত করাই হজ।

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

 মো. মুজাম্মেল হক 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র শিক্ষক

মিরপুর বাংলা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

ইবাদত

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

প্রশ্ন : সাওম বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : সাওম আরবি শব্দ। এর ফার্সি প্রতিশব্দ হলো রোজা। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাওম হলো সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সঙ্গে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা। আল্লামা আবুল হাসান বলেন-নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকার নাম সাওম।

প্রশ্ন : ‘সাওম ঢাল স্বরূপ’ বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : সাওম মানুষকে কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে নিরাপদ থাকতে সহায়তা করে বলে একে ঢাল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাওম ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ। প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক নর-নারীর ওপর সাওম ফরজ। যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন মানুষের জীবন রক্ষা করে, তেমনি সাওম খারাপ কাজ না করার ঢাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সাওম মানুষকে সব ধরনের কু-প্রবৃত্তি ও বিবাদ, মিথ্যাচার, অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখে। সাওমের মাধ্যমে মানুষ সংযমী হতে পারে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘সাওম ঢালস্বরূপ।’

প্রশ্ন : ‘রমজান মাস সহানুভূতির মাস’ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : রমজান মাস সহানুভূতির মাস উক্তিটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী।

রমজান মাসে সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। সাওম পালন করে এরূপ ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কীরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয়। আর এজন্য এ মাসকে বলা হয় সহানুভূতির মাস।

প্রশ্ন : ‘সাওম শুধু আমার জন্য আমি নিজে এর প্রতিদান দেব’-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : সাওমের মাধ্যমে মানুষের মনে তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। সাওম পালনের প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেবেন। সব সৎ কাজের প্রতিদান আল্লাহ দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু সাওমের প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেবেন এবং এর পরিমাণ নির্ধারিত নয়। আল্লাহতায়ালা তার ইচ্ছানুযায়ী তা প্রদান করবেন। সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহতায়ালা বলেন-‘সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’

প্রশ্ন : জাকাত বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে জাকাত বলে। নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে জাকাত ফরজ হয়। এক্ষেত্রে জাকাত প্রদানে ধনীর সম্পদ পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও বৃদ্ধি পায়। তাই একে জাকাত বলা হয়।

প্রশ্ন : ‘জাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধন বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার উৎসগুলোর মধ্যে জাকাত হলো অন্যতম। জাকাত ধনী ও গরিবের বৈষম্য দূর করে।

অর্থনৈতিকভাবে ধনী ও গরিব উভয় শ্রেণির মানুষ সমাজে রয়েছে। ধনী ও গরিবের মাঝে আর্থিক সমন্বয়সাধন করাতে মহান আল্লাহ জাকাতের বিধান দিয়েছেন। জাকাত আদায় করলে সমাজের দুর্বল লোকেরাও আর্থিকভাবে সবল হয়ে উঠবে। ফলে ধনী ও গরিবের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। এতে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধন হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন-জাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধন।

প্রশ্ন : ‘জাকাত অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার’-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : জাকাত অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার। ধনীদের শরিয়তের বিধান অনুসারে জাকাত আদায় করা একান্ত আবশ্যক। জাকাত প্রদান করা দরিদ্রের প্রতি ধনী লোকদের কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং জাকাত হলো দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার। কেউ ইসলামের অনুসারী হলে তার উচিত স্বেচ্ছায় জাকাত প্রদান করা এবং অসহায় লোকদের কাছে তা পৌঁছে দেয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের (ধনীদের) সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে। পরিণামে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

প্রশ্ন : হজ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি। হজের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা প্রদক্ষিণ করা।

ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজের মাসে নির্ধারিত দিনগুলোতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো জিয়ারত করাকে হজ বলে। শরহে বিকায়া গ্রন্থকার বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে সুনির্দিষ্ট স্থান জিয়ারত করাই হজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন