পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান
jugantor
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

  আফরোজা বেগম  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

উত্তরা, ঢাকা

সুস্থ জীবনের জন্য খাদ্য

প্রশ্ন : খাদ্য সংরক্ষণের তিনটি উপায় বর্ণনা কর।

উত্তর : বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিভিন্নভাবে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। যেমন :

* চাল, ডাল, গম ইত্যাদি রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

* মাছ, মাংস, সবজি, ফল ইত্যাদি ফ্রিজের ঠান্ডায় বেশ কিছু দিন ভালো থাকে। এ ছাড়াও হিমাগারে শাকসবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি সংরক্ষণ করে বছরের বিভিন্ন সময় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

* ফল থেকে তৈরি জ্যাম, জেলি, আচার ইত্যাদি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। চিনি, সিরকা বা তেল দিয়ে জলপাই, বরই, আম ইত্যাদি খাদ্য অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়।

সুতরাং খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।

প্রশ্ন : খাদ্য সংরক্ষণের উপকারিতা কী?

উত্তর : খাদ্য সংরক্ষণের উপকারিতা অনেক। যেমন-

* মাছ, মাংস, সবজি, ফল, দুগ্ধজাত খাদ্য ইত্যাদি খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচে নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্য সংরক্ষণ খাবারে পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জš§াতে বাধা দেয়। * খাদ্য সংরক্ষণ অপচয় রোধ করে। * খাদ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌসুমি খাদ্যদ্রব্য সারা বছর পাওয়া যায়। * খাদ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে অনেক দূরবর্তী এলাকায় সহজে খাবার সরবরাহ করা যায়। * খাদ্যদ্রব্যকে টাটকা ও তাজা রাখে * পরিবারের তথা দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করে।

সুতরাং খাদ্য সংরক্ষণের উপকারিতা অনেক।

প্রশ্ন : সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন কেন?

উত্তর : সুষম খাদ্য : যে খাদ্যে বা খাদ্য তালিকায় খাদ্যের ছয়টি উপাদান বয়স, পেশা ও দৈহিক চাহিদা অনুসারে সঠিক পরিমাণে থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে। যেমন : দুধ, খিচুড়ি ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয়তা : * কর্মক্ষম থাকার জন্য আমাদের সঠিক পরিমাণ পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। সুষম খাদ্য গ্রহণ না করলে শরীরের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। * সুষম খাদ্যের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। * সহজেই রোগে আক্রান্ত হব। * অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। * অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে ওজনজনিত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

* যারা শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের খাদ্য বেশি খাওয়া প্রয়োজন।

সুতরাং, প্রত্যেকেরই উচিত নিয়মিত সুষম খাদ্য খেয়ে রোগমুক্ত ও সুস্থ থাকা।

প্রশ্ন : কীভাবে আমরা সুষম খাদ্য পেতে পারি?

উত্তর : সুষম খাদ্য : যে খাদ্যে ছয়টি উপাদান (শর্করা, আমিষ, øেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) বয়স, পেশা, দৈহিক চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে থাকে তাকেই সুষম খাদ্য বলে।

সুষম খাদ্য পাওয়া : সুষম খাদ্য বলতে খাদ্যের প্রতিটি দল থেকে সঠিক পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করাকে বোঝায়।

* এক খাবারের সঙ্গে অন্য খাবার মিশিয়ে মিশ্র খাবার তৈরির মাধ্যমে সুষম খাবার পাওয়া যেতে পারে। যেমন- চাল, ডাল ও সবজি মিশিয়ে সবজি খিচুড়ি তৈরি করে মিশ্র খাদ্য পেতে পারি।

* এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেও সুষম খাবার পেতে পারি।

সুতরাং আমরা মিশ্র খাবার তৈরির মাধ্যমে সুষম খাবার পেতে পারি।

প্রশ্ন : কোন কোন খাদ্যে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়?

উত্তর : খাবারকে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় করতে নিচের খাদ্যে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। যেমন- * মিষ্টি * জেলি * চকলেট * আইসক্রিম

* চিপস * কোমল পানীয় ইত্যাদি

এসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে এসব খাবার আমরা ত্যাগ করব।

যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন

প্রশ্ন : ৬টি খাদ্য দল কী কী

উত্তর : পুষ্টির ওপর ভিত্তি করে সব খাদ্যকে ৬টি দলে ভাগ করা যায়।

যথা : * শর্করা- খাদ্যশস্য ও আলু * ভিটামিন- শাকসবজি ও ফলমূল

* আমিষ- মাছ, মাংস ও ডাল * স্নেহ- তেল ও চর্বি * খনিজ লবণ- শাকসবজি ও ফলমূল * পানি- ঐ

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান

 আফরোজা বেগম 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান
ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

উত্তরা, ঢাকা

সুস্থ জীবনের জন্য খাদ্য

প্রশ্ন : খাদ্য সংরক্ষণের তিনটি উপায় বর্ণনা কর।

উত্তর : বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিভিন্নভাবে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। যেমন :

* চাল, ডাল, গম ইত্যাদি রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

* মাছ, মাংস, সবজি, ফল ইত্যাদি ফ্রিজের ঠান্ডায় বেশ কিছু দিন ভালো থাকে। এ ছাড়াও হিমাগারে শাকসবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি সংরক্ষণ করে বছরের বিভিন্ন সময় বাজারে সরবরাহ করা হয়।

* ফল থেকে তৈরি জ্যাম, জেলি, আচার ইত্যাদি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। চিনি, সিরকা বা তেল দিয়ে জলপাই, বরই, আম ইত্যাদি খাদ্য অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়।

সুতরাং খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।

প্রশ্ন : খাদ্য সংরক্ষণের উপকারিতা কী?

উত্তর : খাদ্য সংরক্ষণের উপকারিতা অনেক। যেমন-

* মাছ, মাংস, সবজি, ফল, দুগ্ধজাত খাদ্য ইত্যাদি খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচে নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্য সংরক্ষণ খাবারে পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জš§াতে বাধা দেয়। * খাদ্য সংরক্ষণ অপচয় রোধ করে। * খাদ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌসুমি খাদ্যদ্রব্য সারা বছর পাওয়া যায়। * খাদ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে অনেক দূরবর্তী এলাকায় সহজে খাবার সরবরাহ করা যায়। * খাদ্যদ্রব্যকে টাটকা ও তাজা রাখে * পরিবারের তথা দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করে।

সুতরাং খাদ্য সংরক্ষণের উপকারিতা অনেক।

প্রশ্ন : সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন কেন?

উত্তর : সুষম খাদ্য : যে খাদ্যে বা খাদ্য তালিকায় খাদ্যের ছয়টি উপাদান বয়স, পেশা ও দৈহিক চাহিদা অনুসারে সঠিক পরিমাণে থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে। যেমন : দুধ, খিচুড়ি ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয়তা : * কর্মক্ষম থাকার জন্য আমাদের সঠিক পরিমাণ পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। সুষম খাদ্য গ্রহণ না করলে শরীরের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। * সুষম খাদ্যের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। * সহজেই রোগে আক্রান্ত হব। * অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। * অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে ওজনজনিত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

* যারা শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের খাদ্য বেশি খাওয়া প্রয়োজন।

সুতরাং, প্রত্যেকেরই উচিত নিয়মিত সুষম খাদ্য খেয়ে রোগমুক্ত ও সুস্থ থাকা।

প্রশ্ন : কীভাবে আমরা সুষম খাদ্য পেতে পারি?

উত্তর : সুষম খাদ্য : যে খাদ্যে ছয়টি উপাদান (শর্করা, আমিষ, øেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) বয়স, পেশা, দৈহিক চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে থাকে তাকেই সুষম খাদ্য বলে।

সুষম খাদ্য পাওয়া : সুষম খাদ্য বলতে খাদ্যের প্রতিটি দল থেকে সঠিক পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করাকে বোঝায়।

* এক খাবারের সঙ্গে অন্য খাবার মিশিয়ে মিশ্র খাবার তৈরির মাধ্যমে সুষম খাবার পাওয়া যেতে পারে। যেমন- চাল, ডাল ও সবজি মিশিয়ে সবজি খিচুড়ি তৈরি করে মিশ্র খাদ্য পেতে পারি।

* এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেও সুষম খাবার পেতে পারি।

সুতরাং আমরা মিশ্র খাবার তৈরির মাধ্যমে সুষম খাবার পেতে পারি।

প্রশ্ন : কোন কোন খাদ্যে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়?

উত্তর : খাবারকে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় করতে নিচের খাদ্যে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। যেমন- * মিষ্টি * জেলি * চকলেট * আইসক্রিম

* চিপস * কোমল পানীয় ইত্যাদি

এসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে এসব খাবার আমরা ত্যাগ করব।

যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন

প্রশ্ন : ৬টি খাদ্য দল কী কী

উত্তর : পুষ্টির ওপর ভিত্তি করে সব খাদ্যকে ৬টি দলে ভাগ করা যায়।

যথা : * শর্করা- খাদ্যশস্য ও আলু * ভিটামিন- শাকসবজি ও ফলমূল

* আমিষ- মাছ, মাংস ও ডাল * স্নেহ- তেল ও চর্বি * খনিজ লবণ- শাকসবজি ও ফলমূল * পানি- ঐ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন