একাদশ শ্রেণির যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র
jugantor
একাদশ শ্রেণির যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র

  আবদুল কুদ্দুস  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ শ্রেণির যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র

প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ

মোহাম্মদপুর, ঢাকা

যুক্তির উপাদান

উদ্দীপক

ইমরান আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল বৃষ্টি নামতে পারে যদিও পরে দেখা গেল বৃষ্টি আর হয়নি। আবার সাখাওয়াত তার বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করে বলল, ‘আজ হয় আমার জন্মদিন’।

ক) বিশ্লেষক যুক্তিবাক্য কাকে বলে?

খ) যুক্তিবাক্যে পরিণত কর-

i) মানুষ স্বার্থপর ii) লোকটি ভালো নয়

গ) সাখাওয়াতের কথাটির কয়টি অংশ আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ইমরানের কাজ ও সাখাওয়াতের কথার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? মতামত দাও।

উত্তর : ক. যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য থাকে না বরং উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশবিশেষ উল্লেখ করা হয় তাকে বিশ্লেষক যুক্তিবাক্য বলে।

উত্তর : খ. যুক্তিবাক্যে পরিণত করা হলো-

মানুষ স্বার্থপর-কিছু মানুষ হয় স্বার্থপর-I (বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য)

লোকটি ভালো নয়-লোকটি নয় ভালো-E (সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য)

উত্তর : গ. সাখাওয়াতের কথাটি যেহেতু একটি যুক্তিবাক্য তাই এর তিনটি অংশ রয়েছে।

দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তিবাক্য বলে। সাখাওয়াতের কথাটি হচ্ছে, ‘আজ হয় আমার জন্মদিন’-এখানে তিনটি অংশ হচ্ছে : ১. আজ (উদ্দেশ্য পদ) ২. হয় (সংযোজক) ও ৩. আমার জন্মদিন (বিধেয় পদ)। দেখা যাচ্ছে, এ বাক্যে উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যে সম্পর্কের একটি সদর্থক স্বীকৃতি রয়েছে।

একটি যুক্তিবাক্যে তিনটি অংশ থাকে। এ তিনটি অংশ হচ্ছে- (১) উদ্দেশ্য পদ (২) বিধেয় পদ ও (৩) সংযোজক। এগুলোর মধ্যে সংযোজক ছাড়াও বাক্য হয় কিন্তু যুক্তিবাক্য হয় না।

উদ্দেশ্য পদ : কোনো যুক্তিবাক্যে যে পদ সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বলা হয় উদ্দেশ্য পদ। যেমন, উদ্দীপকে ‘আজ হয় আমার জন্মদিন’ যুক্তিবাক্যে ‘আজ’ সম্পর্কে স্বীকার করা হয়েছে। তাই এটি উদ্দেশ্য পদ।

বিধেয় পদ : কোনো যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বলা হয় বিধেয় পদ। যেমন, উক্ত বাক্যে ‘আমার জন্মদিন’ হচ্ছে বিধেয় পদ, কারণ ওই দিন সম্পর্কে এটা বলা হয়েছে।

সংযোজক : যে শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির প্রকাশ ঘটে তাকে সংযোজক বলা হয়। যেমন, সাখাওয়াতের উক্তিটিতে ‘হয়’ শব্দটির মাধ্যমে সম্পর্কের একটি সদর্থক স্বীকৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তর : ঘ. হাঁ, ইমরানের কাজ ও সাখাওয়াতের কথার মধ্যে পার্থক্য আছে। ইমরানের কাজটি হচ্ছে একটি অবধারণ আর সাখাওয়াতের কথাটি হচ্ছে একটি যুক্তিবাক্য।

দুটি ধারণার মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির মানসিক প্রক্রিয়াকে অবধারণ বলে। যেমন, ইমরান আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছিল, বৃষ্টি নামতে পারে, যা সে কাউকে বলেনি বরং তার মনেই ছিল তাই এটি একটি অবধারণ। অন্যদিকে সাখাওয়াতের উক্তিটিতে যুক্তিবাক্য হওয়ার প্রতিটি শর্ত বিদ্যমান থাকায় সেটি একটি যুক্তিবাক্য। নিচে এ দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখানো হলো-

(১) দুটি ধারণার মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির মানসিক প্রক্রিয়াকে অবধারণ বলে, অন্যদিকে দুটি পদের মধ্যে সম্পর্কের প্রকাশকারী রূপকে যুক্তিবাক্য বলে।

(২) অবধারণ একটি মানসিক প্রক্রিয়া অন্যদিকে যুক্তিবাক্য ভাষায় প্রকাশিত রূপ।

(৩) কোনো যুক্তিবাক্য হওয়ার জন্য প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে তাকে অবধারণ হতে হবে কিন্তু কোনো অবধারণ যুক্তিবাক্যের ওপর নির্ভরশীল নয়।

(৪) অবধারণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু যুক্তিবাক্য হতে হলে তাকে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। যেমন, ‘উদ্দেশ্য-সংযোজক-বিধেয়’ এ ক্রমধারা অনুসরণ করা যা অবধারণের ক্ষেতে প্রযোজ্য নয়।

(৫) কয়েকটি অবধারণ মিলে কোনো যুক্তি হতে পারে না কিন্তু কয়েকটি যুক্তিবাক্য মিলে একটি যুক্তি হতে পারে।

(৬) যুক্তিবাক্যের উপাদান হলো শব্দ ও পদ যা সবাই স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারে, অন্যদিকে অবধারণের উপাদান কেবল দুটি ধারণা যা কেবল একজনের মনের মধ্যেই থাকে।

(৭) যুক্তিবাক্যের পরিসর কম হয়ে থাকে কিন্তু অবধারণের পরিধি তুলনামূলকভাবে বেশি।

সুতরাং স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে অবধারণ ও যুক্তিবাক্য এক জিনিস নয়।

একাদশ শ্রেণির যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র

 আবদুল কুদ্দুস 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
একাদশ শ্রেণির যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র
ছবি: সংগৃহীত

প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ

মোহাম্মদপুর, ঢাকা

যুক্তির উপাদান

উদ্দীপক

ইমরান আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল বৃষ্টি নামতে পারে যদিও পরে দেখা গেল বৃষ্টি আর হয়নি। আবার সাখাওয়াত তার বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করে বলল, ‘আজ হয় আমার জন্মদিন’।

ক) বিশ্লেষক যুক্তিবাক্য কাকে বলে?

খ) যুক্তিবাক্যে পরিণত কর-

i) মানুষ স্বার্থপর ii) লোকটি ভালো নয়

গ) সাখাওয়াতের কথাটির কয়টি অংশ আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) ইমরানের কাজ ও সাখাওয়াতের কথার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? মতামত দাও।

উত্তর : ক. যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য থাকে না বরং উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশবিশেষ উল্লেখ করা হয় তাকে বিশ্লেষক যুক্তিবাক্য বলে।

উত্তর : খ. যুক্তিবাক্যে পরিণত করা হলো-

মানুষ স্বার্থপর-কিছু মানুষ হয় স্বার্থপর-I (বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য)

লোকটি ভালো নয়-লোকটি নয় ভালো-E (সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য)

উত্তর : গ. সাখাওয়াতের কথাটি যেহেতু একটি যুক্তিবাক্য তাই এর তিনটি অংশ রয়েছে।

দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তিবাক্য বলে। সাখাওয়াতের কথাটি হচ্ছে, ‘আজ হয় আমার জন্মদিন’-এখানে তিনটি অংশ হচ্ছে : ১. আজ (উদ্দেশ্য পদ) ২. হয় (সংযোজক) ও ৩. আমার জন্মদিন (বিধেয় পদ)। দেখা যাচ্ছে, এ বাক্যে উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যে সম্পর্কের একটি সদর্থক স্বীকৃতি রয়েছে।

একটি যুক্তিবাক্যে তিনটি অংশ থাকে। এ তিনটি অংশ হচ্ছে- (১) উদ্দেশ্য পদ (২) বিধেয় পদ ও (৩) সংযোজক। এগুলোর মধ্যে সংযোজক ছাড়াও বাক্য হয় কিন্তু যুক্তিবাক্য হয় না।

উদ্দেশ্য পদ : কোনো যুক্তিবাক্যে যে পদ সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বলা হয় উদ্দেশ্য পদ। যেমন, উদ্দীপকে ‘আজ হয় আমার জন্মদিন’ যুক্তিবাক্যে ‘আজ’ সম্পর্কে স্বীকার করা হয়েছে। তাই এটি উদ্দেশ্য পদ।

বিধেয় পদ : কোনো যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বলা হয় বিধেয় পদ। যেমন, উক্ত বাক্যে ‘আমার জন্মদিন’ হচ্ছে বিধেয় পদ, কারণ ওই দিন সম্পর্কে এটা বলা হয়েছে।

সংযোজক : যে শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির প্রকাশ ঘটে তাকে সংযোজক বলা হয়। যেমন, সাখাওয়াতের উক্তিটিতে ‘হয়’ শব্দটির মাধ্যমে সম্পর্কের একটি সদর্থক স্বীকৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তর : ঘ. হাঁ, ইমরানের কাজ ও সাখাওয়াতের কথার মধ্যে পার্থক্য আছে। ইমরানের কাজটি হচ্ছে একটি অবধারণ আর সাখাওয়াতের কথাটি হচ্ছে একটি যুক্তিবাক্য।

দুটি ধারণার মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির মানসিক প্রক্রিয়াকে অবধারণ বলে। যেমন, ইমরান আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছিল, বৃষ্টি নামতে পারে, যা সে কাউকে বলেনি বরং তার মনেই ছিল তাই এটি একটি অবধারণ। অন্যদিকে সাখাওয়াতের উক্তিটিতে যুক্তিবাক্য হওয়ার প্রতিটি শর্ত বিদ্যমান থাকায় সেটি একটি যুক্তিবাক্য। নিচে এ দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখানো হলো-

(১) দুটি ধারণার মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির মানসিক প্রক্রিয়াকে অবধারণ বলে, অন্যদিকে দুটি পদের মধ্যে সম্পর্কের প্রকাশকারী রূপকে যুক্তিবাক্য বলে।

(২) অবধারণ একটি মানসিক প্রক্রিয়া অন্যদিকে যুক্তিবাক্য ভাষায় প্রকাশিত রূপ।

(৩) কোনো যুক্তিবাক্য হওয়ার জন্য প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে তাকে অবধারণ হতে হবে কিন্তু কোনো অবধারণ যুক্তিবাক্যের ওপর নির্ভরশীল নয়।

(৪) অবধারণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু যুক্তিবাক্য হতে হলে তাকে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। যেমন, ‘উদ্দেশ্য-সংযোজক-বিধেয়’ এ ক্রমধারা অনুসরণ করা যা অবধারণের ক্ষেতে প্রযোজ্য নয়।

(৫) কয়েকটি অবধারণ মিলে কোনো যুক্তি হতে পারে না কিন্তু কয়েকটি যুক্তিবাক্য মিলে একটি যুক্তি হতে পারে।

(৬) যুক্তিবাক্যের উপাদান হলো শব্দ ও পদ যা সবাই স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারে, অন্যদিকে অবধারণের উপাদান কেবল দুটি ধারণা যা কেবল একজনের মনের মধ্যেই থাকে।

(৭) যুক্তিবাক্যের পরিসর কম হয়ে থাকে কিন্তু অবধারণের পরিধি তুলনামূলকভাবে বেশি।

সুতরাং স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে অবধারণ ও যুক্তিবাক্য এক জিনিস নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন