পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
jugantor
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

  আফরোজা বেগম  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

প্রশ্ন : ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পোশাকের উদাহরণ দাও।

উত্তর. ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পোশাকের উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো-

* দকবান্দা দকসারি-গারো নৃ-গোষ্ঠীর মেয়েদের পোশাক।

* পিন-এক ধরনের ব্লাউজ। খাসি নারীরা পরেন।

* ফুংগ মারুং-পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি খাসি পুরুষদের পোশাক

* ওয়াংলাই-ম্রো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক

* রিনাই ও রিসা-ত্রিপুরা মেয়েদের নিচের অংশ রিনাই ও ওপরের অংশকে রিসা বলে। সুতরাং শুধু নামেই নয়; পোশাকের গড়নেরও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য।

প্রশ্ন : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসবের উদাহরণ দাও।

উত্তর : সাধারণ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষ্যে নানা উৎসব পালন করে। নিচে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসবের উদাহরণ দেওয়া হলো-

* ওয়াংগালা-গারোদের ফসল তোলার উৎসব। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পালন করা হয়।

* বৈসু বা বিশু- বাংলা বছরের শেষ দু’দিন ও নববর্ষের প্রথম দিন ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠী এ উৎসব পালন করে।

* ফাগুয়া বা ফাল্গুন- ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব।

* বিজু উৎসব- চাকমা নৃ-গোষ্ঠী বাংলা নববর্ষের সময় তিন দিন ধরে উৎসব পালন করে।

* সাংগ্রাই- মারমা নৃ-গোষ্ঠী প্রতি বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় দিনে এ উৎসব পালন করে।

সুতরাং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানগুলোতেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য।

প্রশ্ন : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর খাদ্যের উদাহরণ দাও :

উত্তর : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাদ্যের উদাহরণ নিচে দেওয়া হল-

নীপ্পি : মারমা নৃ-গোষ্ঠী শুঁটকি মাছ দিয়ে খাবারটি তৈরি হয়। এটি খুব সুস্বাদু ও মজাদার খাবার।

নালিতা : সাঁওতালরা পাটশাক দিয়ে এ খাবারটি তৈরি করেন।

সিঞ্জেদা : মণিপুরি নৃ-গোষ্ঠীরা নানা ধরনের শাকসবজি দিয়ে এ খাবারটি তৈরি করেন।

* গারো সমাজের ঐতিহ্যবাহী খাবারের একটি হচ্ছে কচি বাঁশের কোড়ল দিয়ে রান্না করা খাদ্য।

* খাসিদের প্রধান খাদ্যগুলো হলো ভাত, মাংস, শুঁটকি মাছ, মধু ইত্যাদি। তবে খাসিয়ারা পান-সুপারিকে খুবই পবিত্র মনে করে। অতিথিদের তারা পান, সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করেন।

সুতরাং প্রত্যেক নৃ-গোষ্ঠীর আলাদা আলাদা ঐতিহ্যবাহী খাবার রয়েছে।

প্রশ্ন : ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি আমরা কীভাবে গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ করতে পারি?

উত্তর : গণতন্ত্রের অর্থ জনগণের শাসন। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন রকম কাজ করি। এসব কাজ করতে আমাদের অনেক সময় নানা রকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সম্মান করাকে বলে গণতান্ত্রিক মনোভাব।

অতি প্রাচীনকাল থেকে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যাদের জীবনযাপন পদ্ধতি পাহাড়কেন্দ্রিক তারাই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশে ৪৫টির বেশি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর রয়েছে। যেমন : চাকমা, গারো, খাসি, ম্রো, সাঁওতাল, মণিপুরী, ত্রিপুরা ইত্যাদি।

এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আমাদের মূলধারার একটা বিশেষ অংশজুড়ে রয়েছে। এদের বাদ দিয়ে জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। এরা অতিপ্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বিভিন্ন পাহাড়ে জীবনযাপন শুরু করে ও পাহাড় এবং গ্রামভিত্তিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এদের ভাষা, পোশাক-আশাক, সংস্কৃতি, জীবনধারা নিজস্ব ভাবধারায় গড়ে ওঠে। যে কোনো জাতীয় ইস্যুতে যেমন : শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে নানা জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের মতামত প্রকাশের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আর সব বাংলাদেশির মতো সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকারগুলোতে সমান অংশগ্রহণ থাকতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। তাদের মতামতকে মূল্যায়ন করতে হবে। সবার সমান অংশগ্রহণে ঐক্যের ভিত্তিতে জাতীয় সমাস্যার সমাধান করতে হবে। তারা বর্তমানে তাদের গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশের সম্পূর্ণ সুযোগ পাচ্ছে। আর এ সুযোগ পেয়ে বর্তমানে তাদের অনেকেই পাহাড়ভিত্তিক সমাজ ছেড়ে আমাদের সঙ্গে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা অর্জন করছে ও আমাদের মতোই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ পাচ্ছে।

সুতরাং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি অন্যসব বাংলাদেশের মতো সমান গুরুত্ব ও সুযোগ দিয়ে গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ করতে পারি।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

 আফরোজা বেগম 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

প্রশ্ন : ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পোশাকের উদাহরণ দাও।

উত্তর. ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পোশাকের উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো-

* দকবান্দা দকসারি-গারো নৃ-গোষ্ঠীর মেয়েদের পোশাক।

* পিন-এক ধরনের ব্লাউজ। খাসি নারীরা পরেন।

* ফুংগ মারুং-পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি খাসি পুরুষদের পোশাক

* ওয়াংলাই-ম্রো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক

* রিনাই ও রিসা-ত্রিপুরা মেয়েদের নিচের অংশ রিনাই ও ওপরের অংশকে রিসা বলে। সুতরাং শুধু নামেই নয়; পোশাকের গড়নেরও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য।

প্রশ্ন : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসবের উদাহরণ দাও।

উত্তর : সাধারণ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিভিন্ন উপলক্ষ্যে নানা উৎসব পালন করে। নিচে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসবের উদাহরণ দেওয়া হলো-

* ওয়াংগালা-গারোদের ফসল তোলার উৎসব। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পালন করা হয়।

* বৈসু বা বিশু- বাংলা বছরের শেষ দু’দিন ও নববর্ষের প্রথম দিন ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠী এ উৎসব পালন করে।

* ফাগুয়া বা ফাল্গুন- ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব।

* বিজু উৎসব- চাকমা নৃ-গোষ্ঠী বাংলা নববর্ষের সময় তিন দিন ধরে উৎসব পালন করে।

* সাংগ্রাই- মারমা নৃ-গোষ্ঠী প্রতি বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় দিনে এ উৎসব পালন করে।

সুতরাং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানগুলোতেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য।

প্রশ্ন : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর খাদ্যের উদাহরণ দাও :

উত্তর : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাদ্যের উদাহরণ নিচে দেওয়া হল-

নীপ্পি : মারমা নৃ-গোষ্ঠী শুঁটকি মাছ দিয়ে খাবারটি তৈরি হয়। এটি খুব সুস্বাদু ও মজাদার খাবার।

নালিতা : সাঁওতালরা পাটশাক দিয়ে এ খাবারটি তৈরি করেন।

সিঞ্জেদা : মণিপুরি নৃ-গোষ্ঠীরা নানা ধরনের শাকসবজি দিয়ে এ খাবারটি তৈরি করেন।

* গারো সমাজের ঐতিহ্যবাহী খাবারের একটি হচ্ছে কচি বাঁশের কোড়ল দিয়ে রান্না করা খাদ্য।

* খাসিদের প্রধান খাদ্যগুলো হলো ভাত, মাংস, শুঁটকি মাছ, মধু ইত্যাদি। তবে খাসিয়ারা পান-সুপারিকে খুবই পবিত্র মনে করে। অতিথিদের তারা পান, সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করেন।

সুতরাং প্রত্যেক নৃ-গোষ্ঠীর আলাদা আলাদা ঐতিহ্যবাহী খাবার রয়েছে।

প্রশ্ন : ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি আমরা কীভাবে গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ করতে পারি?

উত্তর : গণতন্ত্রের অর্থ জনগণের শাসন। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন রকম কাজ করি। এসব কাজ করতে আমাদের অনেক সময় নানা রকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সম্মান করাকে বলে গণতান্ত্রিক মনোভাব।

অতি প্রাচীনকাল থেকে পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যাদের জীবনযাপন পদ্ধতি পাহাড়কেন্দ্রিক তারাই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশে ৪৫টির বেশি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর রয়েছে। যেমন : চাকমা, গারো, খাসি, ম্রো, সাঁওতাল, মণিপুরী, ত্রিপুরা ইত্যাদি।

এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আমাদের মূলধারার একটা বিশেষ অংশজুড়ে রয়েছে। এদের বাদ দিয়ে জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। এরা অতিপ্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বিভিন্ন পাহাড়ে জীবনযাপন শুরু করে ও পাহাড় এবং গ্রামভিত্তিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এদের ভাষা, পোশাক-আশাক, সংস্কৃতি, জীবনধারা নিজস্ব ভাবধারায় গড়ে ওঠে। যে কোনো জাতীয় ইস্যুতে যেমন : শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে নানা জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের মতামত প্রকাশের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আর সব বাংলাদেশির মতো সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকারগুলোতে সমান অংশগ্রহণ থাকতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। তাদের মতামতকে মূল্যায়ন করতে হবে। সবার সমান অংশগ্রহণে ঐক্যের ভিত্তিতে জাতীয় সমাস্যার সমাধান করতে হবে। তারা বর্তমানে তাদের গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশের সম্পূর্ণ সুযোগ পাচ্ছে। আর এ সুযোগ পেয়ে বর্তমানে তাদের অনেকেই পাহাড়ভিত্তিক সমাজ ছেড়ে আমাদের সঙ্গে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা অর্জন করছে ও আমাদের মতোই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ পাচ্ছে।

সুতরাং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি অন্যসব বাংলাদেশের মতো সমান গুরুত্ব ও সুযোগ দিয়ে গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ করতে পারি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন