অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা
jugantor
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা

  ড. সনজিত পাল  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

ভাব ও কাজ

-কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বিদ্রোহী কবি হিসাবে খ্যাত। তার কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে। অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেছেন। এজন্য তাকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন থেকে কলকাতায় ফিরে তিনি সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তার রচনাবলি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সাম্যবাদী চেতনাভিত্তিক কবিতা, শ্যামাসংগীত, ইসলামিগান ও গজল লিখে প্রশংসা পেয়েছেন। তিনি আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহারে কুশলতা দেখিয়েছেন। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার সাহিত্যসাধনায় ছেদ ঘটে। ১৯৭২ সালে কবিকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক পান। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। ‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি প্রবন্ধ। এ প্রবন্ধে তিনি ভাব ও কাজের সম্পর্ক, পার্থক্য ও জাতীয় স্বার্থে এদের ব্যবহার করার কৌশল ও গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। কাজ ও ভাবের মধ্যে পার্থক্য অনেক। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম কিন্তু শুধু ভাব দিয়ে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। তার জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। ভাবের দ্বারা মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায় কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহা ছাড়া যে কোনো ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। [চলবে]

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা

 ড. সনজিত পাল 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা
প্রতীকী ছবি

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

ভাব ও কাজ

-কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বিদ্রোহী কবি হিসাবে খ্যাত। তার কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে। অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেছেন। এজন্য তাকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন থেকে কলকাতায় ফিরে তিনি সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তার রচনাবলি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সাম্যবাদী চেতনাভিত্তিক কবিতা, শ্যামাসংগীত, ইসলামিগান ও গজল লিখে প্রশংসা পেয়েছেন। তিনি আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহারে কুশলতা দেখিয়েছেন। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার সাহিত্যসাধনায় ছেদ ঘটে। ১৯৭২ সালে কবিকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক পান। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। ‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি প্রবন্ধ। এ প্রবন্ধে তিনি ভাব ও কাজের সম্পর্ক, পার্থক্য ও জাতীয় স্বার্থে এদের ব্যবহার করার কৌশল ও গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। কাজ ও ভাবের মধ্যে পার্থক্য অনেক। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম কিন্তু শুধু ভাব দিয়ে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। তার জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। ভাবের দ্বারা মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায় কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহা ছাড়া যে কোনো ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। [চলবে]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন