পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
jugantor
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

  আফরোজা বেগম  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

মানবাধিকার

প্রশ্ন : অটিস্টিক শিশুর তিনটি বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : অটিস্টিক শিশুর তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেয়া হলো-

* তারা সব কাজ বা বিষয় একই নিয়মে করতে চায়। দৈনিক কাজের রুটিন বদল হলে খুবই উত্তেজিত হয়।

* তারা হয়তো কোনো খেলনা নিয়ে না খেলে বরং শক্ত করে ধরে বসে থাকে, গন্ধ নেয় বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে।

* কোনো কোনো আটিস্টিক শিশু চমৎকার প্রতিভার অধিকারী হয় যেমন- ছবি আঁকা অঙ্ক করা বা গান গাওয়া।

প্রশ্ন : শিশু অধিকার লঙ্ঘনে তিনটি উদাহরণ দাও।

উত্তর : আমাদের সামাজে প্রতিনিয়ত শিশুদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শিশু অধিকার লঙ্ঘনের তিনটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো।

* অনেক শিশু তাদের পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।

* অনেক শিশু খেত-খামারে ইটের ভাটায়, দোকানে, কলকারখানায় কাজ করে। যদিও বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে শিশুশ্রম বেআইনি।

* পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় শহরের অনেক শিশু গৃহহীন।

সুতরাং, শিশু অধিকার সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

প্রশ্ন : নারী-অধিকার লঙ্ঘনের তিনটি উদাহরণ দাও।

উত্তর : নারীরা সামজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও পরুষশাসিত সমাজে নানাভাবে নারী অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিচে নারী অধিকার লঙ্ঘনের তিনটি উদাহরণ দেওয়া হলো।

* মেয়েরা ছেলেদের মতো শিক্ষার সমান সুযোগ পায় না।

* কাজের ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের মতো সমান পারিশ্রমিক পায় না।

* বাড়িতে কাজে সহায়তাকারীরা যথাযথ পারিশ্রমিক খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পায় না। আবার তারা অনেক সময় বিদেশে পাচারও হয়ে যায়।

সুতারাং নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবার সচেষ্ট হতে হবে।

প্রশ্ন : কোন প্রতিষ্ঠান মানবাধিকারকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে? কখন?

উত্তর : জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে অনুমোদন করেছে ‘মানবাধিকার সার্বজনীন ঘোষণাপত্র।’ এ ঘোষণাপত্র অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, নারী-পুরুষ, আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের এই অধিকারগুলো আছে। সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারগুলো হচ্ছে মানবাধিকার তাই ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস হিসাবে সারা বিশ্ব পালন করে।

প্রশ্ন : শিশুশ্রমের কারণে শিশুরা কোন অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়?

উত্তর : অনেক শিশু দারিদ্র্যের কারণে কাজ করতে বাধ্য হয়। গ্রামে শিশুরা ক্ষেতে, ইটের ভাটায় কাজ করে। শহরের শিশুরা বাসাবাড়িতে, দোকানে, কল-কারখানায় কাজ করে। অনেকে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। শিশু শ্রমের কারণে শিশুরা নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন-

* শিশু শ্রমিকরা সাধারণত লেখাপড়ার সুযোগ পায় না। তারা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ শিক্ষার অধিকার একটি প্রধান মানবাধিকার।

* অনেক সময় আমরা সামান্য কারণে বা বিনা কারণে শিশুদের শারীরিক নির্যাতন করি। বাড়িতে কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা কখনো কখনো এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়।

* অনেক সময় তাদের বাড়ির অন্যদের সমান খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয় না। এতে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।

* আমাদের দেশ থেকে প্রায়ই শিশুদের বিদেশে পাচার করে তাদের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক কাজে ব্যবহার করা হয়। এসব কাজ করতে গিয়ে অনেকে আহত হয় বা মারা যায়।

* অনেক শিশুর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন কল-কারখানায় নানা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত থাকে। ফলে তাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকে না।

সুতরাং শিশুরা শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, জীবনের নিরাপত্তা লাভসহ নানা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আসলে তারা সব ধরনের ন্যায্য মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

 আফরোজা বেগম 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

মানবাধিকার

প্রশ্ন : অটিস্টিক শিশুর তিনটি বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : অটিস্টিক শিশুর তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেয়া হলো-

* তারা সব কাজ বা বিষয় একই নিয়মে করতে চায়। দৈনিক কাজের রুটিন বদল হলে খুবই উত্তেজিত হয়।

* তারা হয়তো কোনো খেলনা নিয়ে না খেলে বরং শক্ত করে ধরে বসে থাকে, গন্ধ নেয় বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে।

* কোনো কোনো আটিস্টিক শিশু চমৎকার প্রতিভার অধিকারী হয় যেমন- ছবি আঁকা অঙ্ক করা বা গান গাওয়া।

প্রশ্ন : শিশু অধিকার লঙ্ঘনে তিনটি উদাহরণ দাও।

উত্তর : আমাদের সামাজে প্রতিনিয়ত শিশুদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শিশু অধিকার লঙ্ঘনের তিনটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো।

* অনেক শিশু তাদের পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।

* অনেক শিশু খেত-খামারে ইটের ভাটায়, দোকানে, কলকারখানায় কাজ করে। যদিও বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে শিশুশ্রম বেআইনি।

* পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় শহরের অনেক শিশু গৃহহীন।

সুতরাং, শিশু অধিকার সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

প্রশ্ন : নারী-অধিকার লঙ্ঘনের তিনটি উদাহরণ দাও।

উত্তর : নারীরা সামজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও পরুষশাসিত সমাজে নানাভাবে নারী অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিচে নারী অধিকার লঙ্ঘনের তিনটি উদাহরণ দেওয়া হলো।

* মেয়েরা ছেলেদের মতো শিক্ষার সমান সুযোগ পায় না।

* কাজের ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের মতো সমান পারিশ্রমিক পায় না।

* বাড়িতে কাজে সহায়তাকারীরা যথাযথ পারিশ্রমিক খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পায় না। আবার তারা অনেক সময় বিদেশে পাচারও হয়ে যায়।

সুতারাং নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবার সচেষ্ট হতে হবে।

প্রশ্ন : কোন প্রতিষ্ঠান মানবাধিকারকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে? কখন?

উত্তর : জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে অনুমোদন করেছে ‘মানবাধিকার সার্বজনীন ঘোষণাপত্র।’ এ ঘোষণাপত্র অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, নারী-পুরুষ, আর্থিক অবস্থাভেদে বিশ্বের সব দেশের সব মানুষের এই অধিকারগুলো আছে। সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারগুলো হচ্ছে মানবাধিকার তাই ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস হিসাবে সারা বিশ্ব পালন করে।

প্রশ্ন : শিশুশ্রমের কারণে শিশুরা কোন অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়?

উত্তর : অনেক শিশু দারিদ্র্যের কারণে কাজ করতে বাধ্য হয়। গ্রামে শিশুরা ক্ষেতে, ইটের ভাটায় কাজ করে। শহরের শিশুরা বাসাবাড়িতে, দোকানে, কল-কারখানায় কাজ করে। অনেকে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। শিশু শ্রমের কারণে শিশুরা নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন-

* শিশু শ্রমিকরা সাধারণত লেখাপড়ার সুযোগ পায় না। তারা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ শিক্ষার অধিকার একটি প্রধান মানবাধিকার।

* অনেক সময় আমরা সামান্য কারণে বা বিনা কারণে শিশুদের শারীরিক নির্যাতন করি। বাড়িতে কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা কখনো কখনো এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়।

* অনেক সময় তাদের বাড়ির অন্যদের সমান খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয় না। এতে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।

* আমাদের দেশ থেকে প্রায়ই শিশুদের বিদেশে পাচার করে তাদের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক কাজে ব্যবহার করা হয়। এসব কাজ করতে গিয়ে অনেকে আহত হয় বা মারা যায়।

* অনেক শিশুর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন কল-কারখানায় নানা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত থাকে। ফলে তাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকে না।

সুতরাং শিশুরা শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, জীবনের নিরাপত্তা লাভসহ নানা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আসলে তারা সব ধরনের ন্যায্য মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন