পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
jugantor
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

  আফরোজা বেগম  

০৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

উত্তরা, ঢাকা

নারী-পুরুষ সমতা

প্রশ্ন : বেগম রোকেয়া সম্পর্কে তিনটি বাক্য লেখ।

উত্তর : বেগম রোকেয়া সম্পর্কে তিনটি বাক্য নিচে দেয়া হলো:

* নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার শিক্ষার প্রতি প্রবল ঝোঁক বা অনুরাগ থাকায় তিনি নানা প্রতিকূল পরিবেশে নিজের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেন।

* তার অক্লান্ত পরিশ্রমে ভারতীয় উপমহাদেশের মেয়েরা ধীরে ধীর শিক্ষার আলো পেতে থাকেন। নারী শিক্ষা বিস্তারে তার এ অবদান অসামান্য ও অনন্য।

* ভারতীয় উপমহাদেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজকে সচেতন করতে অসামান্য অবদান রাখেন বেগম রোকেয়া।

সুতরাং বেগম রোকেয়ার এ অসামান্য অবদানের জন্য তার জন্মদিন, ৯ ডিসেম্বরকে বাংলাদেশ সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীর অনুপাত কত?

উত্তর : শিক্ষা লাভের অধিকার প্রত্যেক শিশুর একটি মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশ সরকার ছয় বছরের ওপরে সব শিশুর জন্য শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে। শিক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য মফস্বলে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা বা নারীশিক্ষার জন্য উপবৃত্তিসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীর অনুপাত নিম্নরূপ :

ছাত্রী ভর্তি ৮৪%

ছাত্র ভর্তি ৮১%

সুতরাং, ছাত্রী ভর্তি : ছাত্রভর্তি = ৮৪ : ৮১% = ৮৪ : ৮১

অর্থাৎ, ছাত্র ও ছাত্রী ভর্তির সংখ্যা প্রায় সমান সমান। কিন্তু যত সংখ্যা ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয় তাদের একটা বিশাল অংশ ঝরে যায়। নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ঝরে যাওয়া রোধ করে ছাত্রছাত্রীর ভর্তির অনুপাত ১০০ : ১০০ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের সব শিশুকে শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য

প্রশ্ন : সমাজের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য উল্লেখ কর।

উত্তর : সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে আমাদের কিছু কর্তব্য আছে। সমাজের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য নিচে দেয়া হলো-

* ছোটদের ভালোবাসব ও দেখাশোনা করব।

* কারও ক্ষতি করব না; সবার উপকার করতে চেষ্টা করব।

* সমাজের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন মেনে চলব।

* সুবিধাবঞ্চিতদের সহযোগিতা করব এবং বয়স্কদের শ্রদ্ধা করব।

সুতরাং সমাজের প্রতি আমাদের কর্তব্যগুলো সঠিকভাবে পালন করব।

প্রশ্ন : রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য উল্লেখ কর।

উত্তর : নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। শিশুদেরও রাষ্ট্রের প্রতি কিছু কর্তব্য আছে, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের সে কর্তব্য আরও বেশি।

রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য নিচে উল্লেখ করা হলো-

রাষ্ট্র প্রদত্ত শিক্ষা লাভ :

রাষ্ট্র প্রদত্ত শিক্ষা গ্রহণ করা আমাদের কর্তব্য

রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা :

রাষ্ট্রের শাসন মেনে চলব। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।

আইন মেনে চলা :

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমাদের দেশের সব আইন মেনে চলা আমাদের কর্তব্য। আইন অমান্য করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়।

নিয়মিত কর প্রদান :

নিয়মিত কর দেয়া নাগরিক হিসাবে আমাদের কর্তব্য। এ কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে রাষ্ট্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়।

সুতরাং, রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য সুচারুভাবে পালন করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

প্রশ্ন : প্রাথমিক চিকিৎসা বক্সের চারটি সরঞ্জামের নাম লিখ।

ঘরে-বাইরে বিভিন্ন দুর্ঘটনার হাত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদের নিত্যসঙ্গী হলো প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স।

প্রাথমিক চিকিৎসা বক্সের চারটি সরঞ্জাম নিচে দেয়া হলো-

* জীবাণু নাশক * থার্মোমিটার * ব্যান্ডেল * কাঁচি

প্রশ্ন : অপরিচিত মানুষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে তোমার বন্ধুকে কী বলবে?

উত্তর : সমাজে চলতে গেলে বিভিন্ন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। অনেক সময়ই এরা বিপজ্জনক ও অনিরাপদ হয়। এরা কিডন্যাপিংসহ নানা ভয়ঙ্কর অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকে। এসব লোকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমি আমার বন্ধুকে নিচের পরামর্শ বা উপদেশ দেব।

যেমন-

* অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সতর্ক বা সাবধান থাকতে হবে।

* অপরিচিত বা অচেনা লোকের সঙ্গে আলাপচারিতা বা সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে।

* অপরিচিত লোকজন চকলেট, আইসক্রিম বা অন্য কোনো খাবার দিলে তা নেওয়া বা খাওয়া যাবে না।

* বাড়িতে কোনো অপরিচিত লোক এলে তার পরিচয় জেনে তাকে ঢুকতে দিতে হবে। তাকে না চিনলে দরজার খোলা যাবে না।

* কোনো অপরিচিত ব্যক্তি যদি জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে চিৎকার করে বিষয়টি অন্যকে জানাতে হবে।

* বিভিন্ন চেষ্টার পরও যদি অপরিচিত লোকের হাতে বন্দি হয়ে যায় তাহলে ভয় পাওয়া যাবে না। হতাশ হওয়া যাবে না। কৌশলে বুদ্ধি করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বা মুক্তির জন্য অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

* অপরিচিত লোক পরিবারের বা আপনজনদের সম্পর্কে কোনো দুঃসংবাদ দিলে তাড়াহুড়া করে তার সঙ্গে যাওয়া যাবে না। বরং সংবাদটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করতে হবে।

* যাত্রাপথে, ভ্রমণে বাস, ট্রেন ইত্যাদি যানবাহনে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবর খাওয়া যাবে না।

* চলার পথে হকার থেকে বিভিন্ন খাবার যেমন : সিদ্ধ ডিম, ডাব ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো মোটকথা, অপরিচিতদের থেকে দূরে ও সাবধানে থাকাই শ্রেয়। তাদের এড়িয়ে চলতে হবে।

তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে বড়দের সাহায্য নিতে হবে বা পুলিশকে খবর দিতে হবে।

প্রশ্ন : বাড়িতে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায় সে সম্পর্কে তোমার বন্ধুকে কী বলবে?

উত্তর : বাড়ি বলতে নিরাপদ স্থান তা ভাবার কোনো কারণ নেই। বাড়িকে নিরাপদ করতে হলে কিছু নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাড়িতে যেভাবে নিরাপদ থাকা যায় সে সম্পর্কে আমি আমার বন্ধুকে নিচের পরামর্শগুলো দেব-

* ছুরি, কাঁচিজাতীয় ধারালো জিনিস সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।

* খালি পায়ে বা ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক তার ধরা যাবে না।

* ওষুধ ও কীটনাশকের গায়ে স্পষ্ট করে লিখে রাখতে হবে যেন ভুলবশত কেউ খেয়ে না ফেলে

* গ্যাসের চুলা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর বন্ধ রাখতে হবে।

* আগুনের ব্যবহারে সতর্ক থাকা।

* অপরিচিতদের পরিচয় জেনে ঘরের দরজা খুলতে হবে।

* বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স রাখতে হবে।

সুতরাং, বাড়িতে দুর্ঘটনার হাত থেকে রাক্ষার জন্য তথা নিরাপদ থাকার জন্য আমি উপরের নিয়মগুলো মেনে চলব ও আমার বন্ধুকেও এগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেব।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

 আফরোজা বেগম 
০৪ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

উত্তরা, ঢাকা

নারী-পুরুষ সমতা

প্রশ্ন : বেগম রোকেয়া সম্পর্কে তিনটি বাক্য লেখ।

উত্তর : বেগম রোকেয়া সম্পর্কে তিনটি বাক্য নিচে দেয়া হলো:

* নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার শিক্ষার প্রতি প্রবল ঝোঁক বা অনুরাগ থাকায় তিনি নানা প্রতিকূল পরিবেশে নিজের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেন।

* তার অক্লান্ত পরিশ্রমে ভারতীয় উপমহাদেশের মেয়েরা ধীরে ধীর শিক্ষার আলো পেতে থাকেন। নারী শিক্ষা বিস্তারে তার এ অবদান অসামান্য ও অনন্য।

* ভারতীয় উপমহাদেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজকে সচেতন করতে অসামান্য অবদান রাখেন বেগম রোকেয়া।

সুতরাং বেগম রোকেয়ার এ অসামান্য অবদানের জন্য তার জন্মদিন, ৯ ডিসেম্বরকে বাংলাদেশ সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীর অনুপাত কত?

উত্তর : শিক্ষা লাভের অধিকার প্রত্যেক শিশুর একটি মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশ সরকার ছয় বছরের ওপরে সব শিশুর জন্য শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে। শিক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য মফস্বলে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা বা নারীশিক্ষার জন্য উপবৃত্তিসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীর অনুপাত নিম্নরূপ :

ছাত্রী ভর্তি ৮৪%

ছাত্র ভর্তি ৮১%

সুতরাং, ছাত্রী ভর্তি : ছাত্রভর্তি = ৮৪ : ৮১% = ৮৪ : ৮১

অর্থাৎ, ছাত্র ও ছাত্রী ভর্তির সংখ্যা প্রায় সমান সমান। কিন্তু যত সংখ্যা ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয় তাদের একটা বিশাল অংশ ঝরে যায়। নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ঝরে যাওয়া রোধ করে ছাত্রছাত্রীর ভর্তির অনুপাত ১০০ : ১০০ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের সব শিশুকে শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য

প্রশ্ন : সমাজের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য উল্লেখ কর।

উত্তর : সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে আমাদের কিছু কর্তব্য আছে। সমাজের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য নিচে দেয়া হলো-

* ছোটদের ভালোবাসব ও দেখাশোনা করব।

* কারও ক্ষতি করব না; সবার উপকার করতে চেষ্টা করব।

* সমাজের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন মেনে চলব।

* সুবিধাবঞ্চিতদের সহযোগিতা করব এবং বয়স্কদের শ্রদ্ধা করব।

সুতরাং সমাজের প্রতি আমাদের কর্তব্যগুলো সঠিকভাবে পালন করব।

প্রশ্ন : রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য উল্লেখ কর।

উত্তর : নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। শিশুদেরও রাষ্ট্রের প্রতি কিছু কর্তব্য আছে, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের সে কর্তব্য আরও বেশি।

রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের চারটি কর্তব্য নিচে উল্লেখ করা হলো-

রাষ্ট্র প্রদত্ত শিক্ষা লাভ :

রাষ্ট্র প্রদত্ত শিক্ষা গ্রহণ করা আমাদের কর্তব্য

রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা :

রাষ্ট্রের শাসন মেনে চলব। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।

আইন মেনে চলা :

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমাদের দেশের সব আইন মেনে চলা আমাদের কর্তব্য। আইন অমান্য করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়।

নিয়মিত কর প্রদান :

নিয়মিত কর দেয়া নাগরিক হিসাবে আমাদের কর্তব্য। এ কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে রাষ্ট্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়।

সুতরাং, রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য সুচারুভাবে পালন করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

প্রশ্ন : প্রাথমিক চিকিৎসা বক্সের চারটি সরঞ্জামের নাম লিখ।

ঘরে-বাইরে বিভিন্ন দুর্ঘটনার হাত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদের নিত্যসঙ্গী হলো প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স।

প্রাথমিক চিকিৎসা বক্সের চারটি সরঞ্জাম নিচে দেয়া হলো-

* জীবাণু নাশক * থার্মোমিটার * ব্যান্ডেল * কাঁচি

প্রশ্ন : অপরিচিত মানুষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে তোমার বন্ধুকে কী বলবে?

উত্তর : সমাজে চলতে গেলে বিভিন্ন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। অনেক সময়ই এরা বিপজ্জনক ও অনিরাপদ হয়। এরা কিডন্যাপিংসহ নানা ভয়ঙ্কর অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকে। এসব লোকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমি আমার বন্ধুকে নিচের পরামর্শ বা উপদেশ দেব।

যেমন-

* অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সতর্ক বা সাবধান থাকতে হবে।

* অপরিচিত বা অচেনা লোকের সঙ্গে আলাপচারিতা বা সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে।

* অপরিচিত লোকজন চকলেট, আইসক্রিম বা অন্য কোনো খাবার দিলে তা নেওয়া বা খাওয়া যাবে না।

* বাড়িতে কোনো অপরিচিত লোক এলে তার পরিচয় জেনে তাকে ঢুকতে দিতে হবে। তাকে না চিনলে দরজার খোলা যাবে না।

* কোনো অপরিচিত ব্যক্তি যদি জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে চিৎকার করে বিষয়টি অন্যকে জানাতে হবে।

* বিভিন্ন চেষ্টার পরও যদি অপরিচিত লোকের হাতে বন্দি হয়ে যায় তাহলে ভয় পাওয়া যাবে না। হতাশ হওয়া যাবে না। কৌশলে বুদ্ধি করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বা মুক্তির জন্য অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

* অপরিচিত লোক পরিবারের বা আপনজনদের সম্পর্কে কোনো দুঃসংবাদ দিলে তাড়াহুড়া করে তার সঙ্গে যাওয়া যাবে না। বরং সংবাদটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করতে হবে।

* যাত্রাপথে, ভ্রমণে বাস, ট্রেন ইত্যাদি যানবাহনে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবর খাওয়া যাবে না।

* চলার পথে হকার থেকে বিভিন্ন খাবার যেমন : সিদ্ধ ডিম, ডাব ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো মোটকথা, অপরিচিতদের থেকে দূরে ও সাবধানে থাকাই শ্রেয়। তাদের এড়িয়ে চলতে হবে।

তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে বড়দের সাহায্য নিতে হবে বা পুলিশকে খবর দিতে হবে।

প্রশ্ন : বাড়িতে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায় সে সম্পর্কে তোমার বন্ধুকে কী বলবে?

উত্তর : বাড়ি বলতে নিরাপদ স্থান তা ভাবার কোনো কারণ নেই। বাড়িকে নিরাপদ করতে হলে কিছু নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাড়িতে যেভাবে নিরাপদ থাকা যায় সে সম্পর্কে আমি আমার বন্ধুকে নিচের পরামর্শগুলো দেব-

* ছুরি, কাঁচিজাতীয় ধারালো জিনিস সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।

* খালি পায়ে বা ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক তার ধরা যাবে না।

* ওষুধ ও কীটনাশকের গায়ে স্পষ্ট করে লিখে রাখতে হবে যেন ভুলবশত কেউ খেয়ে না ফেলে

* গ্যাসের চুলা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর বন্ধ রাখতে হবে।

* আগুনের ব্যবহারে সতর্ক থাকা।

* অপরিচিতদের পরিচয় জেনে ঘরের দরজা খুলতে হবে।

* বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স রাখতে হবে।

সুতরাং, বাড়িতে দুর্ঘটনার হাত থেকে রাক্ষার জন্য তথা নিরাপদ থাকার জন্য আমি উপরের নিয়মগুলো মেনে চলব ও আমার বন্ধুকেও এগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন