এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা

যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র

  আবদুল কুদ্দুস ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা

আরোহ অনুমান ও আরোহ অনুমানের ভিত্তি

উদ্দীপক

সেলিনা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করছে। বিভিন্ন দেশের ভূমিকম্প সে পর্যবেক্ষণ করেছে। তার বান্ধবী নিশাত ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। তার ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য সে বানরের ওপর তা প্রয়োগ করে।

ক) কারণ কাকে বলে?

খ) সূর্য পূর্বদিক থেকে উদিত হয়- এটি কেন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ?

গ) সেলিনা ও নিশাতের গবেষণায় আরোহের কোন কোন ভিত্তির ইঙ্গিত এসেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) সেলিনা ও নিশাতের গবেষণায় যে দুটি বিষয় এসেছে সেগুলোর মধ্যে কোনটিকে তোমার কাছে বেশি সুবিধাজনক মনে হয়? মতামত দাও।

উত্তর : ক.

একটি ঘটনার সদর্থক ও নঞর্থক সব শর্তের সমষ্টি হচ্ছে কারণ।

উত্তর : খ.

সূর্য পূর্বদিক থেকে উদিত হয়- এটি একটি ভ্রান্ত নিরীক্ষণ।

এক বস্তুকে আরেক বস্তু বা এক জিনিসকে আরেক জিনিস মনে করাকেই ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বলে। আমাদের ইন্দ্রিয়ানুভূতির ভুল নির্দেশনা থেকে এ ধরনের নিরীক্ষণের উদ্ভব ঘটে। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো মাঝে মাঝে আমাদের প্রতারিত করে। যার কারণে একটি জিনিসকে আমরা অন্য জিনিস বলে ভুল করি। আসলে পৃথিবীর নিজ অক্ষপথে ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘূর্ণনের ফলে ২৪ ঘণ্টা পর সকাল বেলায় আমরা সূর্যকে প্রতিদিন একই জায়গায় দেখি। এ জন্য মনে করি সূর্য নিচ থেকে উপরে উঠে আসে বা উদিত হয়। আসলে সূর্য একই জায়গায় থাকে। এই ভুল সবাই করে তাই এটাকে সার্বজনীন ভ্রান্ত নিরীক্ষণ বলে।

উত্তর : গ.

সেলিনা ও নিশাতের গবেষণায় আরোহের বস্তুগত ভিত্তিদ্বয়ের ইঙ্গিত এসেছে। সেগুলো হচ্ছে নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ ।

পরীক্ষণ বলতে বোঝায়, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম পরিবেশে উৎপাদিত ঘটনাবলির নিয়ন্ত্রিত প্রত্যক্ষণকে। অন্যদিকে নিরীক্ষণ হচ্ছে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে সাধারণ বা প্রাকৃতিক ঘটনাকে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রত্যক্ষণ করা। পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ হচ্ছে আরোহের বস্তুগত ভিত্তি। যে দুটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আরোহ অনুমান বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে উঠে বা বস্তুগতভাবে সত্য হতে সহায়তা করে সেগুলোকে আরোহের বস্তুগত ভিত্তি বলে।

উদ্দীপকে দেখা যায় নিশাত ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। তার ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য সে বানরের উপর তা প্রয়োগ করে। আসলে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মান যাচাইয়ের মেশিন। আর এগুলো সম্ভব কেবল বিশেষ কৃত্রিম পরিবেশে। তাই এ কাজটি হবে পরীক্ষণের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সেলিনা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করছে। বিভিন্ন দেশের ভূমিকম্প সে পর্যবেক্ষণ করেছে। ভূমিকম্প স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘটে থাকে। এখানে ভূমিকম্পের প্রকৃতি, ক্ষয়-ক্ষতি, কারণ ইত্যাদি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করাটা তার জন্য খুব জরুরি। কিন্ত এ কাজটির জন্য কোনো যন্ত্রপাতি বা মেশিনের প্রয়োজন নেই। তাই সেলিনার কাজটি নিরীক্ষণের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর : ঘ.

সেলিনা ও নিশাতের গবেষণায় যে দুটি বিষয় এসেছে সেগুলো হচ্ছে- আরোহ অনুমানের দুটি বস্তুগত ভিত্তি যথাক্রমে নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ। এ দুটি জিনিসের মধ্যে আমার কাছে পরীক্ষণের তুলনায় নিরীক্ষণকে বেশি সুবিধাজনক মনে হয়। এর কারণ নিচে উল্লেখ করা হল।

* নিরীক্ষণ সহজ-সরল প্রক্রিয়া : প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনা প্রবাহ থেকেই নিরীক্ষণ করতে হয়। এর জন্য কোনো বিশেষ বা কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজন হয় না, তাই এটি একটি সহজ-সরল প্রক্রিয়া। কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতি বা গবেষণাগার ছাড়া সহজেই নিরীক্ষণ করা যায় যা পরীক্ষণে সম্ভব নয়।

* নিরীক্ষণের স্থান পরীক্ষণের আগে : নিরীক্ষণ প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘটে। অর্থাৎ পরীক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নির্মাণের আগেই নিরীক্ষণ-কার্য চলে আসছে। তাছাড়া কোনো কিছু পরীক্ষণ করতে হলে আগেই তা পরীক্ষণের জন্য উপযুক্ত কি না তা নিরীক্ষণ করতে হয়।

* নিরীক্ষণের পরিধি বেশি : কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রকৃতির কোনো ঘটনাকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রত্যক্ষণ করাই হচ্ছে নিরীক্ষণ। অর্থাৎ প্রকৃতির অসংখ্য দৃষ্টান্ত থেকে প্রয়োজন মতো কোনো একটিকে বা একাধিক বিষয়কে নির্বাচন করে নিরীক্ষণ করতে হয়। অন্যদিকে বিশেষ কাজের পরীক্ষণের জন্য নির্মিত যন্ত্রপাতি ঐ কাজ ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহৃত হতে পারে না। তাই পরীক্ষণের চেয়ে নিরীক্ষণের পরিধি বেশি।

* নিরীক্ষণে অর্থ ব্যয় সীমিত : অর্থাৎ পরীক্ষণের জন্য যে সব মূল্যবান যন্ত্রপাতি দরকার হয় সেগুলো নিরীক্ষণে দরকার হয় না, বরং সহজ-সরল প্রত্যক্ষণেই তা সম্ভব। তাছাড়া জটিল কোনো পরীক্ষণে প্রচুর অর্থব্যয় হয় এবং পরিপূর্ণ নিশ্চয়তার জন্য তা একাধিকবার করতে হয়। সে তুলনায় নিরীক্ষণে অর্থব্যয় খুব সীমিত।

* নিরীক্ষণে বিশেষ পরিবেশ প্রয়োজন হয় না : অর্থাৎ পরীক্ষণ-প্রক্রিয়া যেখানে কৃত্রিম পরিবেশ ছাড়া সম্ভব নয় সেখানে নিরীক্ষণের কাজ অতি সহজেই স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশে করা যায়। তাই পরীক্ষণের তুলনায় নিরীক্ষণ অধিকতর সুবিধাজনক।

প্রকৃতপক্ষে নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ দুটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষণ ছাড়া কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ অর্থহীন। আবার অনেক বিষয় আছে যেখানে পরীক্ষণ সম্ভব নয় সেখানে নিরীক্ষণের উপরই নির্ভর করতে হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter