অরিত্রীর আত্মহনন ও কিছু না বলা কথা

  সৈয়দা আফরোজা বেগম ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রীর আত্মহত্যার পর আমার মানসপটে ভেসে উঠছে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে পড়ার সময় আমার মেয়ের মানসিক কষ্টগুলোর কথা। সে তার বয়সী সাধারণ আর দশজন মেয়ে থেকে একটু বেশি ইমোশনাল, একটু বেশি আত্মমর্যাদাশীল ছিল; যে কারণে স্কুলের অনেক বিষয় বা নিয়ম যেমন- শিক্ষকদের নির্দয় ব্যবহার, অনেক সহপাঠীর নেতিবাচক আচরণ সে মেনে নিতে পারত না। এসব কথা আমি কখনও কাউকে বলিনি। কিন্তু অরিত্রীর অকালমৃত্যু আমাকে আমার মেয়ের স্কুলজীবনের মানসিক কষ্টগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আমার মেয়ে তথাকথিত ‘ভালো ছাত্রী’র দৌড়ে কখনও ছিল না। ছোটবেলা থেকেই সে বলত-

: আমার এসব ধরাবাঁধা পড়া, পরীক্ষা ভালো লাগে না।

: কী ভালো লাগে?

তার উত্তর-

: আমার ইচ্ছামতো পড়ব, যা ভালো লাগবে তা-ই পড়ব; ভালো না লাগলে পড়ব না।

আমি বলতাম-

: বাবা, স্কুলের পড়ালেখাও তো দরকার। তবে পাশাপাশি অন্য বইও পড়তে হবে মনকে বিকশিত করার জন্য।

আমি আর ওর বাবা ওকে স্কুলে ভর্তির আগে থেকেই বিভিন্ন বই কিনে দিতাম। ছড়া, কবিতা, গল্প- নানা ধরনের বই। তাকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য করে দিয়েছিলাম। সে এখনও বলে, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ক্লাসিক বইগুলো তার জীবনে অনেক সুপ্রভাব রেখেছে। ক্লাসের বাইরের বইয়ের প্রতিই তার আকর্ষণ ছিল বেশি। তার ছিল সৃজনশীল মন-মানসিকতা। সেজন্য সে যা পড়ত, তা বুঝে নিজের মতো লিখত। আমিও তাই করতাম ছাত্রজীবনে। মেয়ের এ সৃজনশীল ক্ষমতায় আমি খুবই খুশি ছিলাম। কিন্তু তার স্কুল এতে খুশি ছিল না; তারা চাইত মুখস্থ। আর এখানেই বাধত বিপত্তি।

স্কুলের শিক্ষকরা বলতেন, বইয়ে যা আছে; তা যেন ছাত্রীরা হুবহু মুখস্থ করে। আমার মেয়ের কথা- মা, আমি তো মুখস্থ করতে পারি না, তাই টিচাররা বকে। আমি আমার মতো লিখি, তা তারা পছন্দ করেন না। সে যখন ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী, তখন তার শ্রেণীশিক্ষক ছিলেন হাসনাহেনা নামের একজন শিক্ষিকা, যিনি অরিত্রীরও শ্রেণীশিক্ষক ছিলেন; তার নির্দয় আচরণের কিছু কথা না বলে পারছি না- যা ছাত্রীদের মর্মাহত করত। তিনি ক্লাসে একদিন আমার মেয়েকে পড়া মুখস্থ বলতে বললে সে তার মতো করে বলায় তিনি খুব ক্ষুব্ধ হন এবং মুখস্থ না বলার অপরাধে তাকে ক্লাসের বাইরে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। আমার মেয়ে সেদিন বাসায় এসে প্রচণ্ড রাগে-দুঃখে-ক্ষোভে কেঁদে কেঁদে বলেছে-

: ও যধঃব মুখস্থ, ও যধঃব ভিকারুননিসা।

আমি তাকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছিলাম না। তার একই কথা-

: যে স্কুল মুখস্থ ছাড়া কিছু বোঝে না, তারা ভালো না; আমি সেখানে পড়ব না।

এসব ব্যাপারে আমরা স্কুলে যাই, এটাও সে চাইত না; বলত- টিচাররা আমাদের শাস্তি দেবে। ক্লাস নাইনে সে তার ফলাফলের জন্য বিজ্ঞান বিভাগ পায়। কিন্তু ভাবুক প্রকৃতির মন-মানসিকতার কারণে সে কিছুতেই বিজ্ঞান পড়বে না! আমিও বুঝতাম, যে প্রকৃতির মেয়ে সে; তাতে বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন তার সঙ্গে যায় না।

সে বিজ্ঞান পড়বে না বলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ খুবই অবাক হল। ক্লাস নাইনে মানবিক বিভাগে ক্লাস শুরুর ২-৩ মাস পর একদিন স্কুল থেকে ফিরে আমাকে অফিসে ফোন করে হাউমাউ করে কান্না আর জিজ্ঞাসা-

: মা, আমি কি গরু-গাধা? আমি কি গরু-গাধা?

আমি জানতে চাই-

: কী হয়েছে! কে কী বলেছে?

সে কাঁদতে কাঁদতে যা বলল, তার মর্মার্থ হল- একজন টিচার ক্লাসে পড়ানোর সময় বলেছেন-

: তোদের কী পড়াব! আর্টস পড়ে তো গরু-গাধারা। তোদের কী পড়াব?

এ কথা বলে আমার মেয়ের আবারও বুকফাটা কান্না আর প্রশ্ন-

: মা, আমি কি গরু-গাধা? আমি তো সায়েন্স পেয়েও পড়িনি। আর এ কথা বলায় টিচার আমাকে জোরে ধমক দিয়েছে।

আমি মেয়ের এ কান্না মেনে নিতে পারিনি। তাই পরদিন স্কুলের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে বলি-

: বলেন, আমি কি গরু-গাধা? আমি তো সায়েন্স পড়িনি, বরাবর আর্টস নিয়ে পড়েছি। আমি এখন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা। আমি কি গরু-গাধা?

আমি আরও বলেছি-

: আমি শিক্ষক পরিবারের সন্তান, শিক্ষকদের খুবই সম্মান করি। আর আমিও শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনার স্কুলের শিক্ষকরা ছাত্রীদের কোমল ও সৃজনশীল মন নষ্ট করে দিচ্ছে, তাদের মন ভেঙে দিচ্ছে, তাদের পড়ার উৎসাহ নষ্ট করে ফেলছে। কিভাবে বাচ্চাদের মনের কাছাকাছি যেতে হয়, দয়া করে তাদের সেই ট্রেনিং দেবেন...

দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় একদিন আমার মেয়ে বলল-

: মা, টিচার আমাকে বলেছে- তুমি দুষ্ট মেয়ে; তোমার গার্ডিয়ান ডাকব। মা, আমি তো কিছু করিনি; তাহলে কেন গার্ডিয়ান ডাকবে বলো? আমি যাব না ওই পচা স্কুলে।

আমি চেষ্টা করে ওই শিক্ষকের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলাম-

: আমার মেয়ে কি কোনো অন্যায় করেছে কিংবা স্কুলের কোনো নিয়ম ভঙ্গ করছে যে, ওকে বলেছেন- গার্ডিয়ান ডাকব? এতে সে খুব অপমানিত বোধ করছে।

আমার কথার উত্তরে শিক্ষক জানালেন-

: ও পাশের মেয়ের সঙ্গে কথা বলে।

আমি জানতে চাইলাম-

: শিক্ষক থাকা অবস্থায় কি কথা বলে?

: না। তবে পাশের রুমে তো ক্লাস হয়।

আমি বলি-

: শিক্ষক না থাকলে মেয়েরা ক্লাসে কথা বলবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তাতে কেন গার্ডিয়ান ডাকার হুমকি দিলেন?

আম আরও বলি-

: প্রতি বছর আমি ক্লাস টিচারের কাছে জানতে চাই মেয়ের আচরণ সম্পর্কে। সবাই বলে থাকেন, সে খুব শান্তশিষ্ট, ইন্ট্রোভার্ট টাইপের। তার বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ নেই। ক্লাসে টিচার না থাকার সময় পাশের মেয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য একজন ছাত্রীকে গার্ডিয়ান ডাকার ভয় দেখালে ওই ছাত্রীর মনে যে কষ্ট হয়, এটা তো আপনাদের বুঝতে হবে। ওরা তো আপনাদের আদর্শ মানে। মা-বাবা থেকে ওরা শিক্ষকদের কথা বেশি মান্য করে। কিন্তু তা না বুঝলে এসব বাচ্চার কাছে তো আপনারা আদর্শ হয়ে থাকবেন না!

এইচএসসি’র ফলাফলের সময় তৎকালীন প্রেক্ষাপটে ওর বাবা ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। যেসব ছাত্রী এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করে থাকে, জিপিএ-৫ পায়; স্কুল থেকে প্রতি বছর তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। আমার মেয়ে সংবর্ধনা নেবে না! কত বুঝালাম- তোমার বাবার হাত থেকে সংবর্ধনার ক্রেস্ট নেবে, সবাই দেখবে; এটা তো তোমার গর্বের বিষয়। তার জবাব- দরকার নেই আমার এই গর্বের। I hate my school Viqarunnisa; ওরা আমাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দিয়েছে।

আমার বলতে কষ্ট হচ্ছে, তারপরও বলছি- ওর এ মনোভাবের পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের নির্দয়তা ও শিক্ষার্থীদের মন না বোঝা, তাদের কোমল মনে আঘাত দেয়া; উৎসাহ-উদ্দীপনা না দিয়ে নিরুৎসাহিত করা। পাশাপাশি কিছু সহপাঠীর অসহযোগিতামূলক আচরণ। সব শিক্ষক এরকম, তা আমি বলছি না। আবার সব ছাত্রীই এ রকম সেনসিটিভ, তাও না। কিন্তু যারা বেশি সেনসিটিভ, যাদের আত্মমর্যাদাবোধ অনেক প্রবল; তারা শিক্ষকদের ‘অশিক্ষকসুলভ আচরণ’ মানতে পারে না। ফলে তারা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে।

আমার মেয়ে তার কিছু সহপাঠী ও শিক্ষকের আচরণের জন্য সমগ্র স্কুলকে অপছন্দ করে, ঘৃণা করে; বিষয়টা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। আমি তাকে বলেছি-

: স্কুল তো নিয়ম-কানুন শেখার জায়গা, স্কুলের এত ভুল ধরতে নেই।

কিন্তু তার এক কথা-

: আমাদের স্কুল নিয়ম-কানুনের কথা বলে কেবল শাস্তি দেয় আর মানসিক নির্যাতন করে।

মেয়ের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে ভাবি, আমরা তো এই বাংলাদেশ প্রজন্মেরই শিক্ষার্থী ছিলাম এবং আমাদের শিক্ষকদের বেশিরভাগ ছিলেন খুবই মানবিক ও সংবেদনশীল। স্কুল ছিল আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি, আমাদের আনন্দের জায়গা। আমার আরও একটি পর্যবেক্ষণ হল- এ স্কুলের কোনো ক্লাসেই নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পর্কিত কোনো বিষয় থাকে না বা এ বিষয়ে পড়ানোও হয় না। অথচ একটি ছোট্ট ছাত্রী কোনো অন্যায় করলে তাকে টিসি দেয়া হয় বা হুমকি দেয়া হয়। আমি এ বিষয়ে একবার অধ্যক্ষকে বলেছিলাম, আপনারা লঘু পাপে গুরু শাস্তি দেন। আগে মেয়েদের শেখান, তারপর শাস্তি দেবেন।

আমি শিক্ষক পরিবারের সন্তান। দাদা ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ক্লাস টু-তে পড়ার সময় তিনি আমার হাতে একটি ছোটদের গল্পের বই আর একটি ওয়ার্ডবুক দিয়ে ৭ দিনের মধ্য গল্পগুলো পড়তে ও ইংরেজি শব্দের বাংলা অর্থ বুঝতে বলেছিলেন। তিনি সেই পাকিস্তান আমলে (শেষ দিকে) বুঝেছিলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল হতে হলে ক্লাসের বাইরের বই পড়তে হবে, আধুনিক শিক্ষার জন্য ইংরেজি পড়তে হবে। অথচ আমি দেখেছি এবং শুনেছি- কিছু অভিভাবক আছেন, যারা সন্তানের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার মূল্যায়ন না করে তাদের কাছে কেবল ভালো ফলাফল চান; এক কোচিং সেন্টার থেকে আরেক কোচিং সেন্টারে দৌড়ান। এই শ্রেণীর অভিভাকদের কারণে তাদের সন্তানরা শিক্ষাকে ভয় পায়; মা-বাবার শাসনের ভয়ে নকল করে ভালো ফলাফলের চিন্তা করে। কোনো কোনো বাবা-মা আছেন, যারা পিইসি বা ক্লাস ওয়ানের প্রশ্ন ফাঁস হলে তা কিনতে দৌড়ে যান। এ শ্রেণীর বাবা-মারা এভাবে সন্তানের মেধা ও সৃজনশীলতাকে অপমান করে তাদের অনৈতিক পথে ঠেলে দেন। আমাদের সমাজে এ ধরনের অভিভাবক কম নেই। একটি বাচ্চার মন নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অমানবিক আচরণের পাশাপাশি এসব বাবা-মাও কম দায়ী নন। ভিকারুননিসা নূন স্কুলে এ রকম অভিভাবকের সংখ্যা কম নয়!

অরিত্রী মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার বাবা-মা তাকে ভালো ফলাফলের জন্য কতটা পীড়ন করতেন, জানি না। তবে শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ একজন শিক্ষার্থীর মনোকষ্ট এবং আত্মহননের দায় এড়াতে পারেন না কোনোমতেই। অনেকেই অরিত্রীর বিপক্ষে গিয়ে নানা কথা লিখছেন। যেমন- নকল করলে শাস্তি দেয়া যাবে না, টিসি দেয়া যাবে না; এটা ঠিক না কিংবা স্টুডেন্টের কথামতো শিক্ষকদের চলতে হবে নাকি, শিক্ষকের অপমান থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা বৈধতা পেল- এ ধরনের অনেক নেতিবাচক কথা বলেছেন অনেকে। তাদের বলব- শিশু মনস্তত্ত্ব পড়তে। একজন শিশু বা কিশোরের মন কল্পনাপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়; যা অনেক সময় বড়দেরও হয় না। শিশু-কিশোর বয়সেই মানুষ ভুল করে বেশি। এজন্য তাদের শাস্তি দিয়ে সমাধানের চিন্তাভাবনা পরিহার করে বরং সন্দুর করে ভুলগুলো ধরিয়ে দিন এবং বলুন- যাতে এ ধরনের ভুল সে পুনরায় না করে। শাস্তি দিলে তার মন মরে যাবে। শিশুমনের মৃত্যু ঘটানো তো হত্যারই সমান। ওরা ছাত্র, বড়রা শিক্ষক। তাই ছোটরা ভুল করলে তা সংশোধনের দায়িত্ব বড়দেরই। যারা অভিভাবক বা শিক্ষক, তারাই ছোটদের কোমল মনকে আদর-স্নেহ দিয়ে ভরিয়ে দিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে দেবেন। যখনই তা করবেন না, তখনই অরিত্রীর আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটবে। ঘটতেই থাকবে।

অরিত্রীর আত্মহননের ঘটনার পর অনেকেই এসব স্কুলের ভেতরের অনেক সমস্যার কথা বলেছেন। তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বলতে চাই- স্কুলগুলোকে মানবিক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হোক, শিশু-কিশোরদের আত্মসম্মানবোধকে সম্মান দেয়ার শিক্ষা দেয়া হোক, সৃজনশীলতা কিভাবে ধারণ করতে হয় ও তা শানিত করতে হয়, কিভাবে মায়ের মমতা, বোনের স্নেহ, ভাইয়ের আদর আর বাবার মতো নির্ভর করার মধ্য দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সামনের দিকে অভয়চিত্তে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সেই প্রশিক্ষণ দেয়া হোক। এ প্রসঙ্গে আর একটা কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। আমার যে মেয়েকে মুখস্থ না বলার অপরাধে শিক্ষক হাসনাহেনা ক্লাসের বাইরে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন; সেই মেয়ে তার সৃজনশীল মেধার জোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে এখন মাস্টার্স সম্পন্ন করার পথে। সবিনয়ে বলতে চাই- কারও মনে দুঃখ দেয়ার জন্য এ লেখা লিখিনি। স্কুলে পড়ার সময় আমার মেয়ের যে কষ্টগুলো তাকে বিষণ্ণতার চাদরে ঢেকে ফেলেছিল, তাকে স্কুলবিমুখ করে তুলেছিল- সেসব স্মৃতি মনে পড়াতেই এ লেখার অবতারণা; যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা শিক্ষার্থীদের মনোজগৎ বুঝতে পারেন, শিক্ষার্থীদের ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসা অর্জনের চেষ্টা করেন। আমি চাই না, এ দেশের একজন শিক্ষার্থীও যেন তার স্কুলকে অপছন্দ করুক, কষ্টের জায়গা মনে করুক বরং সবার কাছে স্কুল হয়ে উঠুক আনন্দময় স্থান, দ্বিতীয় বাড়ি।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×