সংবিধান সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মেজর (অব.) মো. ইকবাল হায়দার

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কিংবা জোটের মনোনয়নপ্রাপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দিবারাত্রি নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। আমার জানামতে, সর্বশেষ সংশোধনীসহ ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মুদ্রিত সংবিধান, যা আইনমন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

সংবিধানের উপক্রমিকার ১ম প্যারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে- বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছায় তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা রচিত জনগণের অধিকারের দলিল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’।

তাই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। সর্বোপরি, সংবিধান দেশের মূল দলিল, তাই এর উৎস ও বিধানাবলি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।

অতীব দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি কোনো সরকারই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেনি। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থাৎ সব বিষয়ের বিধি-বিধান সম্পর্কে পবিত্র সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করছেন।

তারা ততটা শিক্ষিত নন। তাই সংবিধান সমন্ধে তারা কোনো কিছুই অবহিত নন। আমার মতে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জনগোষ্ঠীকে বোকা হিসেবে মূল্যায়ন করে জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিকরা দেশ শাসন করছেন।

জনগণ যদি প্রজাতন্ত্রের মালিক হয়ে থাকেন, তবে পবিত্র সংবিধান সম্পর্কে তাদের অবহিত না করার বিষয়টি সুস্পষ্ট সংবিধান পরিপন্থী কাজ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আমার মনে হয়, যদি কেউ জনগণের পক্ষে এ বিষয়ে আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে সরকার অবশ্যই হেরে যাবে।

আশা করি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দল বা জোট জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে, তারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান সম্পর্কে প্রজাতন্ত্রের মালিক তথা জনগণকে অবহিত করবেন।

রয়নধষযুফবৎনফ-মসধরষ.পড়স