জনসমক্ষে ধূমপান বন্ধের পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাফি রেদোয়ান

প্রতীকী ছবি

ধূমপানে বিষপান- প্রচলিত এ কথাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করে জরিমানার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেও আইন করা হয়েছে।

তারপরও দেশে ধূমপায়ী ও তামাকসেবীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ধূমপান এমনই এক ভয়ানক নেশা, যেখানে ধূমপায়ী ছাড়াও স্বাস্থ্যগতদিক থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে ধূমপায়ীর আশপাশের লোকজনেরও।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ৪ কোটিরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ধূমপানের সঙ্গে জড়িত।

দেশের উঠতি বয়সের কিশোরদের প্রকাশ্যে ধূমপান এখন যেন একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিসে, মার্কেটে কিংবা কাঁচাবাজারে চলছে ধূমপানের মহোৎসব।

আইনের কার্যকারিতা দূরে থাক; ধূমপায়ীদের অত্যাচারে সাধারণ পথচারীদের ফুটপাত দিয়ে চলাও এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ধূমপায়ীরা সেখানেও আড্ডা জমায়।

এমনকি চলন্ত বাসেও ড্রাইভার কিংবা হেলপারকে ধূমপান করতে দেখা যায়। অনেক সময় এ থেকে বিরত থাকে না বাসের পেছনের সিটের কিছু ধূমপায়ী যাত্রীও।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর অন্তত ৪০ মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে কমপক্ষে ৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা যায়।

এছাড়া ধূমপানের কারণে নানা জটিল ও কঠিন অসুখে ভুগছেন দেশের হাজারও মানুষ। অনেক ধূমপায়ী সম্পৃক্ত হচ্ছেন নানাবিধ মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে।

তাই আইনের কার্যকারিতার পাশাপাশি প্রয়োজন মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ জাগিয়ে তোলা। বস্তুত এটাই এখন সময়ের দাবি।

প্রকৌশলী, ঢাকা