সব আবেদনকারীকেই সুযোগ দেয়া হোক

  নাজমুল হোসেন ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সব আবেদনকারীকেই সুযোগ দেয়া হোক

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদফতর ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর ১৫ ক্যাটাগরির ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর ৫৯৯ পদের বিপরীতে লোকবল নিয়োগের নিমিত্তে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বুকভরা আশা নিয়ে এখানে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৮ লাখ চাকরিপ্রার্থী।

দীর্ঘদিন ধরে এসব আবেদনকারী অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন- কবে আসবে তাদের প্রবেশপত্র। কিন্তু দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও আবেদনকারীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রবেশপত্র পাননি।

তথ্য জানতে বাধ্য হয়ে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করেছেন জেলা খাদ্য অফিসে। জেলার শীর্ষ খাদ্য কর্মকর্তারা বারবার তাদের এই বলে আশ্বস্ত করেছেন- দ্রুতই তাদের পরীক্ষা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এভাবে পরীক্ষা নেবে, নিচ্ছে বলে ২ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও আসেনি কোনো প্রবেশপত্র; হয়নি কোনো পরীক্ষা। এক পর্যায়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তারা জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি অনিবার্য কারণবশত বাতিল করা হয়েছে মর্মে তাদের ওয়েবসাইটে নোটিশ দেয়া হয়েছে; অথচ তারা নিজেরাও এ বিষয়ে কিছু জানেন না। যেখানে স্বয়ং খাদ্য কর্মকর্তারাই জানেন না, সেখানে আবেদনকারী সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা কিভাবে জানবে! এত দীর্ঘ অপেক্ষার পর লাখ লাখ আবেদনকারীর কাছে এমন অপ্রত্যাশিত সংবাদ নিঃসন্দেহে বিনা মেঘে বজ্রপাততুল্য। এভাবে একটা নিয়োগ প্রক্রিয়া হঠাৎ করে বাতিল করা হল কোন যুক্তিতে, ভেবে পাচ্ছি না। এটা অনিয়মতান্ত্রিক ও আইনের পরিপন্থী।

এই একই নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রকাশ করে অনলাইনভিত্তিক আবেদন আহ্বান করা হয়। তবে এবার নন-গেজেটেড ২৪ ক্যাটাগরিতে পদসংখ্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ১৬৬ জন করা হয়।

এর ফলে পূর্ববর্তী আবেদনকারীদের সিংহভাগই বয়সের কারণে আবেদন করার সুযোগ পাননি। এমনকি পূর্বে যারা আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন নেই মর্মে কোনো বিধান বা শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইতিপূর্বে আবেদনকারীদের অধিকাংশ, যাদের সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়স পার হয়ে গেছে; তারা দ্বিগুণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

জানা গেছে, সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৭৮ হাজার চাকরিপ্রার্থী। তবে আগের চেয়ে এবারের নিয়োগে পরীক্ষার ফি বাবদ টাকার পরিমাণটা একটু কম ছিল। ২০১৪ সালে সব পদের বিপরীতে পরীক্ষার ফি ছিল ২০০ টাকা আর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষার ফি ছিল একেক পদের ক্ষেত্রে একেকরকম। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ১ থেকে ২৩ নং ক্রমিক পদের জন্য ছিল সার্ভিস চার্জসহ ১২২ টাকা এবং ২৪ নং পদের জন্য সার্ভিস চার্জসহ ৫৬ টাকা নেয়া হয়।

খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ক্রমিক নং ১ থেকে ২৩ নং পদে আবেদন পড়েছে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৫টি আর ২৪ নং পদে আবেদন পড়েছে ২৪ হাজার ৬৭৫টি। সেই হিসাবে পরীক্ষার ফি বাবদ সরকার পাচ্ছে ১৩,৫৩,৩২৫x১২২= ১৬,৫১,০৫,৬৫০ টাকা ও ২৪,৬৭৫x৫৬= ১৩,৮১,৮০০ টাকা অর্থাৎ মোট ১৬,৬৪,৮৭,৪৫০ টাকা। আর বিগত ২০১৪ সালের আবেদনকারীদের কাছ থেকেও সরকার মোটা অঙ্কের টাকা পেয়েছিল। তখন আনুমানিক ৮ লাখ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করে থাকলে এ বাবদ সরকার পেয়েছে ৮,০০,০০০x

২০০= ১৬,০০,০০০০০ টাকা। আর এর সঙ্গে ৪ টাকার ডাকটিকিট তো রয়েছেই। এসব বেকার চাকরিপ্রার্থী চাকরি পাওয়ার আশায় টাকা খরচ করে আবেদন করার পর কেন তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে না? এটা অনেকটা বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে বেকারদের পকেট কাটা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ না দেয়ায় খাদ্য অধিদফতর দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে আর এতে স্পষ্টতই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার পরিচয় ফুটে উঠছে। এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে দ্রুত দক্ষ ও মেধাবী লোকবল নিয়োগ এখন সময়ের দাবি। তবে পূর্বের আবেদনকারীদেরও নিয়মমাফিক সুযোগ দিতে হবে।

তা না হলে সরকারের কাছে প্রশ্ন থাকবে- বেকারদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ নেয়া ১৬ কোটি টাকা কোথায় গেল এবং কী কাজে ব্যয় হল? অন্যথায় তারা হয়তো আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। ফলস্বরূপ আবারও নিয়োগ কার্যক্রমটি নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জটিলতায় পড়তে হবে। আর বিষয়টিও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রকৌশলী ও লেখক, হবিগঞ্জ

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×