সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

  মেজর মো. ইকবাল হায়দার (অব.) ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৮১ সালে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন নিস্তেজ হয়ে পড়ে, সেই ক্রান্তিলগ্নে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনুরোধে শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের সভাপতির গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অদ্যাবধি তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে সুসংহত ও শক্তিশালী করেন। এর ফলেই শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে সক্ষম হন। তিনি একাধারে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষ ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার জোট তথা আওয়ামী লীগ বিপুল আসনে জয়ী হয়। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি চমৎকার মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন।

বর্তমান মন্ত্রিপরিষদে বিগত সরকারের ৩৬ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে অনেক সিনিয়র হেভিওয়েট রাজনীতিবিদও রয়েছেন। নতুন মন্ত্রিপরিষদে ৩১ জন নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী স্থান লাভ করেছেন। নিজ দলের ও জোটের ৩৬ জন সাবেক মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন সত্যিই যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশে বিদ্যুৎ সেক্টরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। আজ দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। এটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের নিরলস পরিশ্রমের ফলে। বিদ্যুৎ সেক্টরকে উন্নয়ন করার নিমিত্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ রয়েছে।

তিনি জনগণকে অর্থাৎ যারা বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও যত্নবান হতে একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রাহক প্রান্তে পৌঁছাতে সরকারের মোট ব্যয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- তিনি তার অফিস ও বাসভবনে বিদ্যুতের সুইচ নিজ হাতে বন্ধ করেন।

প্রিয় পাঠক, আপনারা নগদ টাকার বিনিময়ে দোকান বা বাজার হতে যে কোনো পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। কিন্তু দোকান হতে রেডিমেড বিদ্যুৎ ক্রয় করা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই বিদ্যুতের অপচয় কোনোমতেই কাম্য নয়।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে যে প্রথম সংবিধান রচিত হয়, তাতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ‘১৬’তে গ্রামাঞ্চল বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এ মর্মে উল্লেখ রয়েছে। সবারই জানা আছে, বিদ্যুৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি। যে দেশে বিদ্যুতের ব্যবহার যত বেশি, সে দেশ তত উন্নত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি দক্ষিণ এশিয়ার একজন নেতাও বটে। শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এজন্য তিনি অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত সরকারের উন্নয়নমূলক অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ঢাকা

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×