ভাবতে হবে গভীরভাবে

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মুঈদ হাসান তড়িৎ

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ২৪৪টি পর্নো সাইট বন্ধ করে দিয়েছেন; এজন্য তাকে ধন্যবাদ। সংবাদ মাধ্যমে এ বিষয়ে খবরও প্রকাশ হয়েছে। খুবই ভালো কথা। কথা হল, দেশের ছেলেমেয়েদের যৌন সচেতনতা বিষয়ে কি কোনো শিক্ষা দেয়া হয়?

বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা যেসব সমস্যায় পড়ে, তা নিয়ে কি প্রকাশ্যে কথা বলা হয়? বইয়ে হালকা-পাতলা কিছু লেখা থাকলেও শিক্ষকরা লজ্জায় এ অধ্যায় পড়ান না! কিন্তু এ বয়সে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আসক্তি, শারীরিক পরিবর্তন, একটু অল্পতেই রেগে যাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।

আমাদের দেশের বাবা-মা’রা কখনও সন্তানের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন? কোনটা সঠিক, কোনটা খারাপ- তারা কিভাবে জানবে? টেলিভিশনে প্রচারিত কনডমের বিজ্ঞাপন কোনো অংশে পর্নো ভিডিওর চেয়ে কম না; এসব বিজ্ঞাপন টিভিতে প্রচারকালে রিমোট টিপে চ্যানেল পরিবর্তন করতে হয়। ’৯০-এর পরে দেশে যেসব আপত্তিকর সিনেমা তৈরি হয়েছে, সেগুলো পর্নের চেয়ে কম নয়! এসব ছবির নায়িকাদের কখনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে? এ ছবিগুলোর বিভিন্ন ক্লিপ এখনও নানা মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে!

খেলার মাঠ নেই, বিনোদন কেন্দ্র নেই, শিশুতোষ চলচ্চিত্র নেই, টিভিতে শিশু-কিশোর উপযোগী অনুষ্ঠান নেই। তাহলে তারা অবসর সময়ে কী করবে, আমরা ভেবেছি? নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি সবার আগ্রহ থাকে বেশি, যত বেশি লুকানোর চেষ্টা করা হবে, তত বেশি আগ্রহ বাড়বে!

পর্নো সাইট বন্ধে আমি খুশি হয়েছি, কিন্তু ফলাও করে প্রচার করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। গোপন রাখলেই হতো। আগে শিশুদের যৌন সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষা দেয়া উচিত। অভিভাবকদের সচেতন করা উচিত।

সন্তানরা কখন কী করছে, খোঁজ-খবর রাখা উচিত। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশা উচিত। ধর্মীয় মূল্যবোধে তাদের পরিচালিত করা উচিত। মডেলিংয়ের নামে যারা প্রায় নগ্ন ছবি তোলে আর তা প্রকাশ্যে দেখিয়ে বেড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর সব সাইট খুলে রাখলেও কেউ ভিডিও দেখার আগ্রহ প্রকাশ করবে না।

প্রতিষ্ঠাতা, শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন, ঢাকা