মাছ চাষের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মশা নিধনও সম্ভব

  নূশরাত বিথী ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাছ চাষের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মশা নিধনও সম্ভব

মানুষ ফাইলেরিয়া, ম্যালেরিয়া, এনকেফ্যালাইটিস ইত্যাদি রোগে ভোগে। এ রোগগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণ হচ্ছে মশা। মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে।

এ দেশে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ৯৮ ভাগ মানুষই হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলের। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে কম-বেশি এসব রোগের প্রকোপ রয়েছে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে মশা নিধন যখন প্রশ্নের মুখে, তখন মোটামুটি স্থায়ীভাবে মশা নিধন করার জন্য কিছু প্রজাতির মাছ চাষের কথা চিন্তা করা যেতে পারে।

যেসব অঞ্চলে মশার উপদ্রব বেশি, সেখানে মাছ চাষের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মশা নিধনও সম্ভব। মশার চারটি দশা- ডিম, শূককীট, মুককীট ও পূর্ণাঙ্গ মশা। বিভিন্ন মাছ বিভিন্ন পরিবেশে মশার এই চারটি দশারই শত্রু। সাধারণত মাছ মশার ডিম, শূককীট, মুককীট ছাড়াও পূর্ণাঙ্গ মশাদের খেয়ে তাদের বংশ বিস্তারে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম। ল্যাটা, কৈ, তেচোখা, খলসে প্রভৃতি মাছ মশার যম হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া সব মাংসাশী মাছই কমবেশি মশার বংশবিস্তারে বাধা সৃষ্টি করে। আমাদের জলাশয়গুলো বিভিন্ন কারণে দূষিত হয়। মানুষের ব্যবহারোপযোগী বা মাছ চাষের উপযোগী থাকে না। অনেক মাছ আছে, যেগুলো জলের এই দূষণ থেকে জলকে মুক্ত করতে পারে। কলকারখানার বর্জ্য পদার্থে জল দূষণ হলে, কিছু কিছু মাছ আছে যেগুলো ওই জলে বেঁচে থাকতে পারে ও জলকে দূষণমুক্ত করে। এরকম একটি মাছ হচ্ছে তেলাপিয়া।

শাকাহারি কিছু মাছ, যেমন গ্রাসকাপ এসব জলাশয়ে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও জলাশয়কে কচুরিপানামুক্ত করে। বিভিন্ন ধরনের কচুরিপানা জলাশয়ে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ে।

সেক্ষেত্রে মাছচাষীরা শাকাহারি মাছ স্বল্পমূল্যে চাষ করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মশা নিধনেও ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়ায় মূলত এডিস ইজিপ্টাই মশা? এরা একেবারেই পরিষ্কার জমা জলে বংশ বিস্তার করে।

যেসব অঞ্চলের জলাশয়ে গ্যাম্বুসিয়া, তেচোখা, গাপ্পি ইত্যাদি প্রজাতির বেশ কিছু ছোট ছোট মাছ অথবা শিং ও মাগুর মাছ থাকে, সেসব অঞ্চলে ডেঙ্গু জ্বরের প্রভাব কম থাকে। কারণ এসব মাছ এডিস মশার লার্ভাকে খেয়ে ফেলে।

দেশি মাগুর নোংরা ও ঘোলা জলেও স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকে এবং তাদের বৃদ্ধি হয়। এ মাছের চাষ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ছোট জলাশয়ই (পাঁচ কাঠা থেকে এক বিঘার মধ্যে) বেশি উপযুক্ত।

মাগুর মাছ চাষের জন্য জলের গভীরতাও খুব বেশি প্রয়োজন নেই। তাই পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে মশার উপদ্রব বেশি, সেখানে অগভীর জলাশয়ে মাগুর মাছ চাষ করা যাবে।

মশার বংশ বিস্তার রুখতে গাপ্পি মাছও লার্ভা অবস্থায় মশা নিধনের মাধ্যমে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। নর্দমায় থাকা মশার লার্ভা এসব মাছ চটপট খেয়ে নেয়। সারা বছর জমা জল থাকে, এমন নর্দমা ও জলাশয়ে গাপ্পি মাছ অবমুক্ত করা যেতে পারে।

মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, গাপ্পি মাছ অনেকটা ছোট আকৃতির। কম অক্সিজেনযুক্ত ও অপেক্ষাকৃত দূষিত জলেও এই মাছের বেঁচে থাকতে কোনো সমস্যা হয় না। সাধারণভাবে এ প্রজাতির মাছের গড় আয়ু ৩ থেকে ৪ বছর।

প্রতি ঘণ্টায় একটি মাছ ২০০ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলতে পারে। মৎস্য দফতরের কয়েকজন কর্মী জানান, প্লাস্টিকের ড্রামে বিশেষ পদ্ধতিতে গাপ্পি মাছ চাষ করা যেতে পারে; আর্থিক খরচও বেশি নয়।

ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×