নিরাপদ বাহন নিরাপদ পথ

  মো. নিয়াজ উদ্দিন তুহিন ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপদ বাহন নিরাপদ পথ
প্রতীকী ছবি

সড়কে প্রতিনিয়ত ঝরছে প্রাণ। দোষী কে? শুধু শিক্ষার্থী মারা গেলে কিছুটা আন্দোলন হয়। আর অন্য ক্ষেত্রে সামান্য হাঁকডাকেই শেষ। আজ যে ড্রাইভার, কাল সেও সড়কে মরছে। আর আজ যে আন্দোলনের ডাক দিল, কাল তারই মোটরবাইকের তলায় থেঁতলে যাচ্ছে কারও পা।

আসলে সমাধানটা কোথায়? আমরা আসলে পরের দোষটা ধরতে খুব পটু। আমি যখন পথচারী তখন আমাকেই ভেবেচিন্তে নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা পার হতে হবে। জীবনটা যেহেতু আমার; সেহেতু সতর্ক আমাকেই থাকতে হবে। দেশে অদক্ষ ড্রাইভারের তো অভাব নেই। এছাড়া আমাদের গণপরিবহনগুলো তো একেকটা মৃত্যুকূপ। ফিটনেস বলতে তারা শুধু বাইরের রংকেই বোঝে।

গাড়ির স্পিড যখন ৬০-৮০ কিলোমিটার; হঠাৎ চাকা খুলে গেল, না হয় ব্রেক জ্যাম! এটা কি হওয়ার কথা? তার ওপর বৃষ্টি শুরু হলে তো গাড়ির ভেতর পানির ধারা বইতে থাকে। সেই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার তো আছেই।

প্রত্যেকটি বাসস্টপেজে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে তবেই চলাচলের অনুমতি দেয়া যায় না? আসলে সরকারের এ সেক্টরগুলোয় যারা আছেন, তারা একটু যত্নবান হলেই বিষয়গুলো সমাধান সম্ভব। গাড়ির ফিটনেস এবং অদক্ষ ড্রাইভার শনাক্তকরণের কাজটা বাসস্টপেজে হলে দুর্ঘটনা রোধ করা অনেকটা সহজ হবে। অন্যদিকে পথচারীদের অনিয়মের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিলে বিষয়টি একেবারেই হাতের মুঠোয় চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।

বৈশাখের শুরু থেকেই ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। নদীগুলো উত্তাল। আমাদের সবার চোখ যখন সড়কে, তখন নৌপথের অবস্থা আরও করুণ। মাঝপথে এসে প্রায়ই লঞ্চগুলোর ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। তেল শেষ হয়ে যায়। চাহিদা অনুযায়ী বয়া নেই। নেই অগ্নিনির্বাপণের ভালো ব্যবস্থা।

এ অবস্থায় মাঝপথে বিপদের সম্মুখীন হলে যাত্রীরা কী করবে? এর মধ্যে আবার অন্য লঞ্চের সঙ্গে প্রতিযোগিতা লেগে থাকে। যেখানে পুরো লঞ্চটাই ভাসমান, সেখানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে অন্য লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করা কতটা যৌক্তিক? ঝড়ের মৌসুম শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ আগের মতোই উদাসীন। একটা লঞ্চডুবিতে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দেয় কমপক্ষে এক-দেড়শ’ মানুষ। এ প্রাণগুলোর কি আদৌ কোনো মূল্য নেই? আশা করছি, বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই কর্তৃপক্ষ এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাববেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, এসএসআরএম

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×