ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানবেতর অবস্থা থেকে বাঁচান

  মো. দেলওয়ার হোসেন মোল্লা ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানবেতর অবস্থা থেকে বাঁচান
ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানববন্ধন। ফাইল ফটো

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে অনেক চিন্তা করতেন, অনেক আশা পোষণ করতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে; এ হচ্ছে আমাদের স্বপ্ন। এ পরিপ্রেক্ষিতে গণমুখী সমবায় আন্দোলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা সমবায়ের পথ সমাজতন্ত্রের পথ, গণতন্ত্রের পথ।’

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে আইআরডিপি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ প্রদান করেন। আইআরডিপির কর্মসূচি সারা দেশের গ্রামাঞ্চলে বাস্তবায়নের জন্য থানা পর্যায়ে থানা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ এসোসিয়েশন গঠিত হয়; যার সংক্ষিপ্ত নাম টিসিসিএ।

টিসিসিএ পরিচালনার জন্য রয়েছে সমবায়ী প্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি; আইআরডিপি কর্তৃক নিয়োগকৃত ৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

পল্লী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. আখতার হামিদ খানের উদ্ভাবিত দ্বিস্তরবিশিষ্ট সমবায় পদ্ধতিকে আধুনিক সমবায় ব্যবস্থা হিসেবে বঙ্গবন্ধু আইআরডিপির টিসিসিএ’র মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেন। টিসিসিএ হল থানা পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি আর এর অন্তর্ভুক্ত গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের দ্বারা গঠিত কৃষক সমবায় সমিতি (কেএসএস) হল প্রাথমিক সমিতি।

এ প্রাথমিক সমিতি গঠন ও তদারকির জন্য টিসিসিএ’র নিজস্ব জনবল হিসেবে টিসিসিএ’র প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক, গ্রাম্য হিসাবরক্ষক ও হিসাব সহকারী নিয়োগ প্রদান করা হয়। আইআরডিপি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অধস্তন কর্মচারী হিসেবে টিসিসিএ কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করেন।

টিসিসিএ কর্মচারীরা উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ভ্রমণ করে প্রাথমিক সমিতিগুলো সংগঠিত করেছেন। অনেক প্রত্যাশা বুকে ধারণ করে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ মনে করে টিসিসিএ’র চাকরিতে যোগদান করেছেন।

উল্লেখ্য, টিসিসিএ’র চাকরির নিয়োগপত্রে বেতন স্কেল উল্লেখ করে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। টিসিসিএ’তে আইআরডিপির কর্মকর্তা হিসেবে প্রকল্প কর্মকর্তাকে থানা পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তার চেয়ে উচ্চতর বেতন স্কেল প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত সমবায়ী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে তারা নিজেকে ধন্য মনে করতেন এবং উচ্চাকাক্সক্ষা পোষণ করতেন।

গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষক সম্প্রদায়কে সংগঠিত করে প্রাথমিক সমিতি গঠন দুরূহ বিষয় হলেও টিসিসিএ কর্মচারীরা অনেক কষ্ট স্বীকার করে স্বল্প সময়ে তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। প্রাথমিক সমিতি সদস্যদের কাছ থেকে শেয়ার ও সঞ্চয় খাতে অর্থ আদায় করে তা প্রাথমিক সমিতির নামে কেন্দ্রীয় সমিতিতে তথা টিসিসিএ’তে জমা করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৮২ সালে আইআরডিপি থেকে বিআরডিপিতে রূপান্তরের পর থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত হলে থানার পরিবর্তে উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ) নামে নামকরণ করা হয়। বিআরডিবির ইউসিসিএ’র কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ১৯৭৪ সালে যারা টিসিসিএ’র কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেছেন, তাদের অধিকাংশই বয়সজনিত কারণে চাকরিতে নেই।

চাকরিতে অবসর প্রথা থাকলে অবসর সুবিধা থাকা বাঞ্ছনীয়। চাকরি বিধি প্রণীত না হওয়ার কারণে ১৯৭৪ থেকে চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেও অবসর সুবিধা পাননি- এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় আর কী হতে পারে!

টিসিসিএ’র চাকরিতে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করলেও তারা না পেয়েছেন নিয়মিত বেতন-ভাতা, না পাচ্ছেন চাকরি শেষে অবসর সুবিধা। প্রাথমিক সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে শেয়ার সঞ্চয়ের অর্থ আদায় করে দেয়ার পর ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বিরাট অঙ্কের অর্থে পরিণত হয়েছে। এগুলো কেন্দ্রীয় সমিতির নামে বিভিন্ন ব্যাংকে সংরক্ষিত আছে। ব্যাংক এ অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করছে।

সারা দেশের সব উপজেলায় এ খাতে সদস্যদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ কয়েকশ’ কোটি টাকা। এ অর্থ বিনিয়োগের ফলে সমবায়ী সদস্যরা পরোক্ষভাবে জিডিপিতে অবদান রাখছেন।

ইউসিসিএ কর্মচারীরা সমবায় সমিতির সদস্যদের আধুনিক কৃষি ও চাষাবাদ পদ্ধতি বাস্তবায়নের পরামর্শ প্রদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেশে অধিক ফসল উৎপাদনে সহায়তা করেছে, যা জিডিপিতে অবদান রাখছে।

তা সত্ত্বেও চাকরিবিধি প্রণয়নসহ তাদের চাকরির সমস্যাগুলো সমাধানের দায়িত্ব বিআরডিবি কর্তৃপক্ষের থাকলেও অদ্যাবধি এ ব্যাপারে বিআরডিবি বাস্তবসম্মত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে; বরং ইউসিসিএ কর্মচারীদের চাকরিবিধি ইতিপূর্বে অনুমোদিত হলেও বিআরডিবির কোনো এক কর্মকর্তার ইন্দনে তা বাতিল করা হয়। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ইউসিসিএ’র কর্মচারীদের অবদান জাতীয় পর্যায়ে মূল্যায়িত হওয়া উচিত।

ইউসিসিএ কর্মচারীদের সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে বিআরডিবি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। এটি বর্তমানে ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইউসিসিএ কর্মচারীরা দেশের বোঝা বা দায় নয়, বঙ্গবন্ধু সমবায় পদ্ধতির মাধ্যমে পল্লীর জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন; তা বাস্তবায়নের প্রকৃত কারিগর তারা। একজন নগণ্য সমবায় প্রতিনিধি হিসেবে বিআরডিবি তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন- ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানবেতর অবস্থা থেকে বাঁচান।

সভাপতি, মেহেন্দীগঞ্জ ইউসিসিএ লি.

মেহেন্দীগঞ্জ, বরিশাল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×