কৃষক বাঁচাবে কে?

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সেলিম আল রাজ

গল্পটা ছিল এমন- নবাব সাহেবকে জানানো হল, দেশে ভাতের অভাব। সাধারণ মানুষ দু’বেলা অন্ন জোগাড়ে অক্ষম। আয়েশি নবাব তড়িৎবেগে বলে দিলেন, তাহলে তারা পোলাও খাবে।

বাস্তবজ্ঞানশূন্য নবাবের এমন উত্তরই বলে দেয়, প্রকৃতপক্ষে তিনি কতটুকু দায়িত্ববান। অবশ্য আজ আর সেই নবাব নেই; অন্যদিকে দেশে ভাতেরও অভাব নেই।

প্রাচীনকাল থেকে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে সোনার ফসল ফলায়।

চলতি বোরো মৌসুমে সারা দেশে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে সোনার ধান উৎপাদনকারী কৃষকের মুখে হাসি থাকার কথা। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।

কেন কৃষকের মুখে হাসি নেই- এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো নবাব সাহেব বের করতে পারতেন না; কিন্তু এ সরকারও কি তা বুঝে না? একজন কৃষক ধান চাষ করতে গিয়ে প্রতি ১০ শতাংশে কত খরচ হচ্ছে, এর বিপরীতে তিনি কত মণ ধান পান এবং সেগুলো কী দামে বিক্রয় করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিমণ ধানের যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সে অনুযায়ী সাধারণ কৃষক কি ধান বিক্রয় করতে পারছেন?

প্রতি ১০ শতাংশে জমি চাষ, লাগানো-বাছানো, সার প্রয়োগ, সিকিউরিটি ভাড়া, কর্তন, মাড়াই ইত্যাদি বাবদ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হচ্ছে কৃষকের; অথচ বাজারে ধানের দাম ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। ফলে ধানচাষ করে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারি হচ্ছে কৃষকের। গচ্চা যাচ্ছে পকেটের টাকা। এতে কৃষক অচিরেই ধানচাষে আগ্রহ হারাবেন, যা কাম্য নয়।

রাষ্ট্রকে অতীত ইতিহাস মনে রাখতে হবে। একসময় এদেশে প্রচুর পাট উৎপাদন হতো। বর্তমানে পাটের চাষ একদম সীমিত। অথচ একসময় জাতীয় অর্থনীতিতে পাটের সোনালী আঁশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই পাটচাষের কেন এ দুরবস্থা, এর কারণও সবার জানা।

সোনালি আঁশের এ করুণ পরিণতি আমাদের ভাবায় কি? যদি ভাবায়, তাহলে দেশের অসহায় অতি সাধারণ কৃষকের দিকে নজর দিন। তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করুন।

কৃষক যদি অভিমান করে ধানচাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার খুশিতে শহরে-নগরে আরামকেদারায় বসে যারা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন; তাদের কী উপায় হবে! অতএব ধানের উপযুক্ত মূল্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখুন। কৃষিসেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিন। এতে কৃষক বাঁচাবে, দেশ বাঁচাবে।

প্রভাষক, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ

গৌরীপুর, ময়মনসিংহ