প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের লোকসান ৩ হাজার টাকা

  মো. রাশেদ আহমেদ ২২ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের লোকসান ৩ হাজার টাকা

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। গ্রামীণ জীবনে কৃষি হচ্ছে জীবিকার প্রধান উৎস। অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ধানের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৩৮ লাখ টন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬২ লাখ টন আর চলতি বছর অতীতের সব রের্কড পেছনে ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দিন দিন উৎপাদিত ধানের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন হল, যাদের শ্রমে-ঘামে এসব ধান উৎপাদিত হচ্ছে; তাদের অবস্থার কি আদৌ কোনো পরিবর্তন ঘটছে?

প্রতি বিঘা জমিতে ধানচাষে ন্যূনতম খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। কৃষকরা তাদের এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত ধান বিক্রি করছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে অন্তত ৩ হাজার টাকা।

দরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষকরা ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ধান উৎপাদন করলেও তাদের কপাল খুলছে না; বরং ফল হচ্ছে উল্টো। চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করে ধান বিক্রির টাকায় ঋণের সুদ পরিশোধ করতে না পারায় গরিব ও বর্গাচাষীরা পথে বসছে।

১৯৯৬ সালের কৃষিশুমারি অনুযায়ী দেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ৭৯.৮৭%, মাঝারি ও বড় কৃষকের সংখ্যা যথাক্রমে ১৭.৬১% ও ২.৫২%। অর্থাৎ দেশের সিংহভাগই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক; যারা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধান উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে অশনিসংকেত।

সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় তা কৃষকের কোনো কাজে আসছে না; বরং মাঝখানে দালাল চক্রের পকেটে ঢুকছে কোটি কোটি টাকা।

গত আমন মৌসুমে ৮ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করেও বাজারে ধানের দামের কোনো প্রভাব পড়েনি। চলতি বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা দরে ধান ও ৩৬ টাকা দরে ১২ লাখ টন চাল কিনবে সরকার।

কিন্তু কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল না কেনায় কপাল খুলছে না সাধারণ কৃষকের। অথচ ২০০৬ সালের জাতীয় খাদ্যনীতিতে অতিরিক্ত উৎস হিসেবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিপরীতে আবাদযোগ্য কৃষিজমি কমে যাওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রান্তিকালে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমাদের কৃষি। এসব সমস্যা সামনে রেখে ২০৩০ সালে ১৯ কোটি জনসংখ্যার জন্য শুধু দানাদার ৪ কোটি টনেরও বেশি খাদ্যের প্রয়োজন হবে।

সেদিক বিবেচনা করে কৃষি তথা খাদ্যশস্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন ও বিতরণ ব্যবস্থায় যথেষ্ট মনোযোগ দিতে হবে। কৃষিজমি ১৯৭১ সালে যেখানে ছিল প্রায় ১ কোটি হেক্টর, বর্তমানে তা প্রায় ৬৫ লাখ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

একটা সময় দেশের ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত ছিল। বর্তমানে এ সংখ্যা কিছুটা কমলেও জাতীয় উন্নয়নে এখনও কৃষির বিশেষ অবদান অনস্বীকার্য। এসব বিবেচনায় কৃষি ও কৃষকের চাহিদা নির্ণয় ও পূরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করা এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×