হিজড়া ও সাপওয়ালিদের দৌরাত্ম্য

  তানজিনা আহ্মেদ ২২ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হিজড়া ও সাপওয়ালিদের দৌরাত্ম্য

একটা সময় ছিল যখন হিজড়া সম্প্রদায় নেচে গেয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করত। যে সমস্ত বাড়িতে বিয়ে হতো বা নতুন শিশুর আগমন ঘটত; তারা সেখানে গিয়ে নেচে নেচে গান করত এবং যে যা দিত, হাত পেতে নিয়ে চলে যেত।

কিন্তু এখন দিনকাল পাল্টে গেছে। কেউ আর নাচ-গানের জন্য এদের ডাকে না। এই বিশাল সম্প্রদায় নানাভাবে মানুষকে উৎপাত করে। কোনো বাড়িতে বিয়ের গেট দেখলে ঢুকে পড়ে। চাহিদা মতো টাকা না দিলে এমন অশালীন আচরণ করে, যা অকল্পনীয়। চার-পাঁচ বছরের বাচ্চার কাপড় শুকাতে দেখলেও এরা টাকা দাবি করে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। রিকশার সামনে এসে মানুষের সঙ্গে বাক্য বিনিময় করে। এক সময় দেখা যেত, এই যেমন রোজার মাসেই বাসায় এসে খুব বিনীতভাবে টাকা চাইত।

যে যা দিত, নিয়ে চলে যেত। কিন্তু এখন মানুষ এদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার কম নিয়ে নড়বে না। তারপর আছে আজেবাজে ভাষায় গালাগালি যা কানে শোনা যায় না। আমাদের মধ্যেও কিছু মানুষ আছে; যারা এদের নিয়ে মস্করা বা হাসাহাসি করে। এতে করে এরা আরও লাই পেয়ে যায়।

সবাইকে বুঝতে হবে, এই ক্লীব শ্রেণীর মানুষ আল্লাহ্রই সৃষ্টি; এদের নিয়ে রঙ্গ-তামাসা নাইবা করলাম। আমরা যদি এদের কাজে লাগাতে পারি, তাহলে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এরপর আসি সাপওয়ালি বাইদানীদের কথায়। রাস্তাজুড়ে সারি বেঁধে এরা হাঁটতে থাকে। ছোট ছোট বাক্সে সাপ আছে বলে ভয় দেখায়। তাদের ওখানে সাপ আছে কী নেই; তা বোধগম্য নয়। এরপর একটা খেলা তারা খেলে।

পথচারীদের বলে, আস্ত নোট দাও; আমি ভাংতি দিচ্ছি। কেউ কেউ নোট বের করলে তা টান মেরে নিয়ে দৌড় দেয়। এছাড়া মুখে সুন্দর সুন্দর বুলি আওড়ে পথচরীদের উদ্দেশে বলে, ওরে রাজার বেটা, ওরে রাজার বেটি; আমাদের টাকা দে। অনেক বছর আগে আমাদের দেশ থেকে বেদে সম্প্রদায় বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু বিলুপ্ত হয়নি সাপওয়ালি নামক বাইদানীরা। জরুরি ভিত্তিতে এদের পুনর্বাসন করা উচিত।

ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×