ভ্যাট চালান ও আমাদের অসচেতনতা

  নুসরাত জাহান ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্যাট চালান ও আমাদের অসচেতনতা

ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর, সংক্ষেপে মূসক- এই শব্দটির সঙ্গে আমাদের দেশের নাগরিক সমাজ ১৯৯১ সাল থেকেই মোটামুটি পরিচিত। প্রথমদিকে দেশের অল্প কিছু পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ওপর মূসক আরোপ করা হলেও পর্যায়ক্রমে অধিকাংশ পণ্য, সেবা-পরিষেবা, আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় প্রভৃতিও মূল্য সংযোজন করের আওতায় আনা হয়েছে।

ভ্যাট শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হলেও আমরা কতজন নাগরিক ভ্যাটের রসিদ মূসক-১১ এর সঙ্গে পরিচিত? গড়ে গণনা করলে হয়তো হাতের করগুলোও শেষ হবে না। মূসক-১১ এমন একটি রসিদ, যেটি একজন ভোক্তা যদি কোনো মূসক চালান গ্রহণ বা ক্রয় করে; তাহলে বিক্রেতা তাকে এই রসিদটি প্রদান করতে বাধ্য। এই রসিদ গ্রহণের মাধ্যমে একজন ভোক্তা নিশ্চিত হতে পারে, তার প্রদেয় ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।

আমরা বর্তমানে দেশের নামিদামি শপিং মলগুলোতে যখন কেনাকাটার উদ্দেশ্যে যাই, দেখা যায় পণ্যের গায়ে মূল্য দুই হাজার টাকা লিখা থাকলেও কাউন্টারে বিল করার সময় তা হয়ে যাচ্ছে ২২শ’ বা ২,২৭৫ টাকা। অর্থাৎ প্রকৃত দামের চেয়ে দুই থেকে তিনশ’ টাকা বেশি। চক্ষুলজ্জার ভয়ে বেশিরভাগ সময়ই আমরা এই অতিরিক্ত ভ্যাটের কারণ সম্পর্কে জানতে চাই না বা কেউ যদি জানতে চায়ও, তখন বিক্রেতারা কাস্টমারকে কিছু একটা বুঝিয়ে বলে দেয়- ব্র্যান্ডের জিনিস বা মূল্যের সঙ্গে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট যোগ করতে হয়। কাস্টমারেরাও সেটা মেনে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে।

সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ক্রেতার দায়িত্ব হচ্ছে, যথাযথ ভ্যাট চালানের রসিদ বুঝে নেয়া। কিন্তু খুবই দুঃখজনক ব্যাপার হল, আমরা অধিকাংশই এই ভ্যাটের রসিদ সম্পর্কে অবগত নই।

ফলে অতিরিক্ত ভ্যাট প্রদানের মধ্য দিয়ে বিক্রেতাদের এই অনৈতিকতাকে আমরা ক্রমশ প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি নিজেদের অজান্তেই। কখনও কখনও দু’একজন সচেতন নাগরিক যদি ভ্যাটের রসিদ চেয়ে বসে, তখন বিক্রেতারা অপ্রস্তুত হয়ে যান এবং নানা অজুহাত দেখাতে থাকেন, যেমন- ভ্যাটের রসিদ বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ইত্যাদি। তাদের মধ্যে ভ্যাট চালানের রসিদ প্রদানে অপারগতা স্পষ্ট। আসুন, আমরা সবাই আরও সচেতন হই। ভ্যাট প্রদান আমাদের নাগরিক কর্তব্য। ভ্যাটের পণ্য গ্রহণ করার আগে ভ্যাট চালানের রসিদ অবশ্যই চেয়ে নিতে হবে।

শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×