গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপায় কী?

  ডা. মো. আরিফুল ইসলাম ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপায় কী?
প্রতীকী ছবি

গ্রামে বারবার এমবিবিএস চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও কিছুদিন পর তারা তদবির করে বদলি, প্রেষণ, লিয়েন, ওএসডি কিংবা শিক্ষাছুটি নিয়ে আবার শহরে চলে আসেন।

শিক্ষাছুটি কিংবা প্রেষণের মাধ্যমে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে এসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শহরেই পোস্টিং নেন, তারা আর গ্রামের কমিউনিটির কাছে ফিরে যান না; যে কারণে গ্রামের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় গ্রামের মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কি সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। এর বিকল্প সমাধান হতে পারে ৩ বছরের তাত্ত্বিক ও ১ বছরের ইন্টার্নশিপ করা ডিপ্লোমা-ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ডিগ্রিধারী ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা।

যারা বাংলাদেশে মেডিকেল ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে- ‘ডি’ ক্যাটাগরির ডিপ্লোমা চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন পেয়ে থাকেন। যারা সরকারি চাকরিতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদায়ন পেয়ে থাকেন।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বিগত দশ বছরে এমবিবিএস, বিডিএস, ১০ হাজার নিয়োগের ঘোষণা এলেও ডিপ্লোমা চিকিৎসক (উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) নিয়োগের ব্যাপারে কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর আওতাধীন অসংখ্য উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদ ফাঁকা থাকলেও নিয়োগবিধি না থাকার অজুহাতে নিয়োগ বন্ধ আজ ৭ বছর।

নিয়োগবিধি তৈরির বিষয়ে বরাবরই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উদাসীন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফাঁকা পদ দ্রুত পূরণের ঘোষণা থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ বিষয়ে জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের পরে এই যুদ্ধপীড়িত ও যুদ্ধাহত নব স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, অনেক গরিব, দুস্থ, অসহায় মানুষের সামান্য রোগের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদানও সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সেটা মনে করতে হলে আমাদের সেই পূর্বের কথা স্মরণ করতে হবে যখন সামান্য কলেরা রোগে গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য হয়ে যেত, অসংখ্য মানুষ মারা যেত।

যা জনবান্ধব বঙ্গবন্ধুর সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। ঠিক তখনই স্বল্প সময়ে সবার জন্য মৌলিক অধিকার চিকিৎসাসেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করার জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ১৯৭৩-১৯৭৮ইং মোতাবেক ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এলএমএফ, মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এমএমএফ ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকদের কোর্স কারিকুলাম অনুসারে চিকিৎসা বিদ্যায় ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ‘ডিএমএফ’ কোর্স আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসেন।

১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক অধিভুক্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস্)-এর মাধ্যমে ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা কোর্সটি প্রথম যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এদেশে ৮টি সরকারি ম্যাটস্ ও প্রায় ২০৯টি বেসরকারি ম্যাটস্ ডিপ্লোমা চিকিৎসকের ‘ডিএমএফ’ কোর্সটি পরিচালনা করে আসছে।

সিরাজগঞ্জ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×