মেট্রোরেল আসছে...

  সেফাতুল করিম প্রান্ত ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেট্রোরেল আসছে...

সরকারের অন্যতম একটি মেগা প্রকল্প হচ্ছে মেট্রোরেল; যেটি নির্মাণে ব্যয় হবে ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বলাবাহুল্য, মেট্রোরেল ভবিষ্যতে এক আশীর্বাদরূপে আবির্ভূত হবে রাজধানীবাসীর জন্য।

দ্রুতগতির এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট! ফলে মানুষের দুর্ভোগ যেমন কমবে, তেমনি বাঁচবে মহামূল্যবান সময়, সাশ্রয় হবে জ্বালানির।

গণপরিবহন খাতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা যেখানে নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে মেট্রোরেল আমাদের জন্য নিসঃন্দেহে আশীর্বাদই বটে। কোনো বড় প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে চাইলে কিছুটা দুর্ভোগ নগরবাসীকে মেনে নিতে হবে- এটাই স্বাভাবিক।

এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণত জনদুর্ভোগ বাড়ে এবং সাধারণ মানুষ তা মেনেও নেন। তবে সদিচ্ছা আর সঠিক কর্মপরিকল্পনা থাকলে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করাও সম্ভব। মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের জন্য মিরপুর ১২ থেকে রোকেয়া সরণি হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশই ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। মিরপুরের মতো ব্যস্ত রাস্তায় সাধারণভাবেই এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে দীর্ঘ যানজট।

তার ওপর গণপরিবহনের এলোমেলো চলাচল, যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো, নির্ধারিত স্টপেজে না দাঁড়িয়ে যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রীর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ইত্যাদির ফলে যানজট বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মেট্রোরেল প্রকল্প চলাকালীন মূল সড়কে রিকশা-ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউই এ নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। বিকল্প রাস্তা থাকলেও মূল সড়কে দেদার চলছে রিকশা-ভ্যান। কর্তৃপক্ষ কিছু জায়গায় রিকশা-ভ্যানের নিষেধাজ্ঞার কথা ব্যানারে টাঙিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন।

মাঠ পর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে (ফায়ার সার্ভিসের সামনে) কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে ৫-১০ টাকা দিলেই চলাচল করতে দিচ্ছে রিকশা, সবজির ভ্যানসহ সবই। যেন দেখার কেউই নেই।

এ এলাকার ফুটপাতের অবস্থা আরও নাজুক। পুরো ফুটপাতই যেন এক অঘোষিত ভাসমান কাপড়, ফলমূল আর নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাজার! কিছুদিন পর পর ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় ফুটপাতগুলো।

আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় সংকুচিত রাস্তার অধিকাংশ অংশ। সংকুচিত সড়ক, যানজট, জলাবদ্ধতা, চলাচলের অনুপযোগী ফুটপাত আর মেট্রোরেলের বিশাল কর্মযজ্ঞ মিরপুরকে এক বিভীষিকাময় স্থানে পরিণত করেছে।

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×