বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে মৌখিক পরীক্ষায় ব্যর্থতার সাতকাহন

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. হেলাল উদ্দিন

মনে বড় আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনা নিয়ে ৬৫ বছর বয়সে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করার অনুমতি লাভের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং কৃতিত্বের সঙ্গে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এরপর আমি ধৈর্যসহকারে বলিষ্ঠ মনোবল ও অতি আগ্রহ নিয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য তৈরি হই।

মৌখিক পরীক্ষার দিন মাননীয় বোর্ডের সামনে অপেক্ষায় আছি; আমার মতো এদিন বহু পরীক্ষার্থী অপেক্ষায় ছিলেন। তারাও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

অনেকের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় হয়েছে, তাদের অধিকাংশের বয়স চল্লিশের কোটা পেরিয়েছে কিনা, বলা যায় না। ঘণ্টাখানেক পর ৩৬৯৭ রোল নম্বরধারী আমার নাম ডাক পড়ল এবং আমি যথারীতি বোর্ডের সামনে উপস্থিত হলাম।

মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণকারী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অত্যন্ত জ্ঞানী-গুণী, আইন ও বিচারে মহৎ, শ্রদ্ধাশীল ও পারদর্শী বটে। এ ধরনের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গের সামনে মৌখিক পরীক্ষায় হাজির হয়ে এ বয়সে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করলাম।

আমার মতো ক’জন সমসাময়িক ও বয়স্ক পরীক্ষার্থী আছেন- তা আমার বলার বিষয় নয়; বলার বিষয় একটাই- আমার মনোবল ভেঙে পড়েনি। তবে দুঃখ একটাই- এত কষ্ট করে সার্টিফিকেট ও মার্কসিট জোগাড় করলাম অথচ মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখলাম, আমি নেই।

মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের জন্য আমার শ্রদ্ধায় কোনো ঘাটতি নেই। বোর্ডের সিদ্ধান্ত আমি আনন্দচিত্তে গ্রহণ করলাম ও মনে করলাম, এখানেই ইতি টানব। তবে তা সম্ভব হল না, কারণ বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম, ২৫ বছরোর্ধ্ব প্র্যাকটিসকারীদের যারা নিম্ন আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত, তাদের শুধু হাইকোর্টে প্র্যাকটিস অনুমতির জন্য মৌখিক পরীক্ষা দিলেই চলবে।

যাক, আমি দ্বিতীয়বার ২০১৯ সালের ২১ মার্চ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিলাম। এবার আমার রোল নম্বর ছিল ৪৮৪৮। দেখা গেল, এবারও আমার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এতে আমার দুঃখ, কষ্ট ও হতাশার কোনো কারণ নেই। আমি চেষ্টা করেছি। বয়সের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বয়স কি আর গোপন রাখা যায়? বিজ্ঞ নিম্ন আদালতে আইন পেশায় পঁচিশোর্ধ্ব প্র্যাকটিশনারদের বেলায় হাইকোর্টে প্র্যাকটিসের অনুমতির জন্য লিখিত পরীক্ষা ছাড়া মৌখিক পরীক্ষার বিধান কার্যকর করা হলে বয়স্ক আইনজীবীদের মধ্যে যারা ইচ্ছুক, তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন এবং এর ফলে হয়তো তাদের মনের আশা পূরণ হতেও পারে।

বিষয়টি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য একান্তভাবে সুদৃষ্টি কামনা করি। ‘বয়স্করা যে মেধাবী ও মহাজ্ঞানী হয় না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’ এ বিষয়টিও সহানুভূতি সহকারে বিবেচনা করা একান্ত প্রয়োজন। যাক, ২০১৯ সালে আমার মৌখিক পরীক্ষার দ্বিতীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও সাধুবাদ জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে অতি সংক্ষেপে সবিনয়ে প্রার্থনা করছি, Bangladesh Bar Council-এর ‘সদ্য নির্বাচিত’ কমিটি যদি Benevolent Fund থেকে বিভিন্ন কারণে বঞ্চিত আইনজীবীদের ওই ফান্ডের বকেয়া পরিশোধের রীতিসিদ্ধ নীতির সুব্যবস্থা গ্রহণ করে, যারা চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আইন পেশায় যোগদান করেছেন; তাদের বেলায় ওই ফান্ড পুনরায় চালু করার সুযোগ দিতে, যাতে বঞ্চিত আইনজীবীরা জীবনের শেষ মহূর্ত পর্যন্ত আর্থিকভাবে কিছুটা উপকৃত হতে পারেন। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে কমিটির কাছে উপরোক্ত আবেদন পেশ করছি। বিষয়টি কমিটি দৃষ্টিগোচরে নিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

অ্যাডভোকেট, জজকোর্ট, নেত্রকোনা