টিকিট কালোবাজারির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জামালপুরবাসী

  মুশফিক রাফান ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টিকিট কালোবাজারির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জামালপুরবাসী

জামালপুর থেকে ঢাকাগামী চারটি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। এগুলো হল, তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা দুটি আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ও অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস আর দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ছেড়ে আসা বাকি দুটি ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ও তিস্তা এক্সপ্রেস।

একমাত্র আধুনিক এসি ট্রেন হল আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস, তাই তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকিট পাওয়া মানে যেন সোনার হরিণ পাওয়া। স্টেশন কাউন্টার নির্ধারিত তারিখে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট প্রদান শুরু হয় আর যথারীতি টিকিট বিক্রি শুরুর এক ঘণ্টা পরই দেখা যায়, টিকিট শেষ; বিশেষ করে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকিট।

অতএব যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে অ্যাপস-এর ব্যবস্থাপনাও বেহাল। সময়মতো কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট অ্যাপস থেকে পাওয়া যায় না।

টিকিট থাকার পরও অ্যাপসে ‘নেই’ দেখায়; যার দরুন পরবর্তী সময়ে কালোবাজারির কাছ থেকে দ্বিগুণ, কখনও তিনগুণ দামে টিকিট কিনতে হয়। জামালপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত শোভন শ্রেণীর টিকিটের দাম ১৬০ টাকা। কাউন্টারে টিকিট না থাকায় সেক্ষেত্রে কালোবাজারির কাছ থেকে ওই টিকিট কিনতে হচ্ছে ৪০০ টাকায়। কখনও আরও বেশি দাম দিতে হয়।

তিস্তা এক্সপ্রেসের স্নিগ্ধা শ্রেণীর জামালপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার একটি টিকিটের দাম ৩৬৮ টাকা। সেই টিকিট কালোবাজারিরা বিক্রি করছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা; ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি।

স্নিগ্ধা শ্রেণীর টিকিট কাউন্টার থেকে কেনার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হয়; তাহলে এত অল্প সময়ে কাউন্টার থেকে এত বড় ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যায় কিভাবে? আর পরে তা দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে তা কালোবাজারির কাছে পাওয়া যায় কী করে? মাঝেমধ্যে এসব কালোবাজারির লোকদেখানো শাস্তি হলেও তাদের দৌরাত্ম্য আগে যেমন ছিল, এখনও তেমন আছে।

দুর্ভোগ আর পকেট কাটা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। আসলে ভূত শর্ষের মধ্যে। রেলের যারা বুকিং ক্লার্ক, সরকারের বেতন খেয়ে যারা জনগণের সেবা করার কথা; তারা এটাকে বাণিজ্য হিসেবে নিয়েছে। কোনো রকম বিনিয়োগ ছাড়া এ বাণিজ্যে অঢেল মুনাফা এবং তা প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে। দুই টাকা দামের কালোবাজারিদের না ধরে এই ‘বড়চোর’ জবাবদিহিতার আওতায় আনুন; তাদের শাস্তি দিন।

সড়কপথে চলাচলের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি সীমাহীন হওয়ায় সাধারণ মানুষ মাত্রাতিরিক্ত দামে কালোবাজারির কাছ থেকেই টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এ কোন সমাজ? এ কোন রাষ্ট্র? কোথাও কোনো এত বড় একটা অনিয়মের বিহিত নেই।

টিকিট কালোবাজারি নামের এ ক্যান্সার থেকে সাধারণ মানুষ তথা সমাজকে রক্ষার কোনো ব্যবস্থা স্বাধীনতার এতবছর পরে গড়ে উঠেনি। মাননীয় রেলমন্ত্রী, আপনি দয়া করে বলবেন- কেন গড়ে উঠেনি?

জামালপুর সদর, জামালপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×