জাপান ফেরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা আশায় বুক বাঁধছেন...

  শাহ মো. মাজাহারুল হক ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাপান ফেরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা আশায় বুক বাঁধছেন...
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। বিশেষ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাপান সফরের পর এ সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চেয়ে চমৎকার।

আর এ কারণেই আশায় বুক বেঁধেছেন জাপান ফেরত লক্ষাধিক দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক। জাপানে এসব শ্রমিকের প্রচণ্ড চাহিদা থাকলেও কেবলমাত্র আইনি জটিলতায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না থাকায় ফেরত পাঠানো এসব দক্ষ শ্রমিকরা আর জাপান যেতে পারছেন না। দেশ হারাচ্ছে কোটি কোটি ডলার রেমিটেন্স।

পড়াশোনা, স্কলারশিপ অথবা অন্য কোনো কাজে জাপান গিয়ে দেশে ফেরত না এসে জাপানি ভাষা শেখার পর সে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন অসংখ্য বাংলাদেশি। ভিসা নবায়ন করতে না পারায় তারা পরে ওভারস্টেয়ার হয়ে যান। কিন্তু জাপানি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে বাংলাদেশের শ্রমিকরা অত্যন্ত ‘মাজিমে’ (সিনসিয়ার) বা নিষ্ঠাবান কর্মী হিসেবে পরিচিত।

তারা বাংলাদেশি শ্রমিকদের আবারও তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য উদগ্রীব হলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির শ্রম আইন। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কোনো কর্মী নিয়োগের আইন নেই। চীনা শ্রমিকরা কর্মদক্ষ হলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে জাপানিরা এ কারণে বাংলাদেশিদেরই দেখতে ভালোবাসেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় যেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা মাসে আয় করে ১০-১২ হাজার টাকা, সেখানে জাপানে একজন শ্রমিক আয় করে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে ১০-১২ গুণ বেশি রেমিটেন্স পাঠাতে পারে একজন জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি।

জাপান ফেরত বাংলাদেশিরা মনে করছেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারেন জাপান সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে একটি চুক্তি করে দক্ষ এসব শ্রমিককে আবারও জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা যেমন কমবে, তেমনি বিদেশি মুদ্রা অর্জনের আরও নতুন একটি উৎস সৃষ্টি হবে।

জাপানে আগে কখনও বড় সংখ্যায় বিদেশি কর্মী নেয়ার কথা ভাবা হয়নি। কিন্তু দেশটিতে বিভিন্ন খাতে অদূর ভবিষ্যতে কর্মীর অভাব ঘটবে এমন ধারণা করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা এবং সেজন্যই আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি কর্মীকে জাপানে কাজের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর জাপানে কাজ ও অভিবাসনে আগ্রহীদের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় দেশটির সরকার।

এদিন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সরকার জাপানের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিল পাসের মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিক নেয়া সংক্রান্ত এতদিনের আলোচনাকে একটি বাস্তব রূপ দেন।

এতদিন জাপান শুধু দক্ষ শ্রমিকদের গ্রহণ করত। এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্বল্প দক্ষ শ্রমিকরাও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এ দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবে। সে দেশে নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদি কাজে লোকবলের অভাব হওয়ায় বিদেশিদের জন্য দরজা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাপান তার দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল নীতিমালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তবে প্রাথমিকভাবে এজন্য আটটি পূর্ব এশীয় দেশকে নির্বাচন করা হয়েছে- যেসব দেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবেই জাপানে কাজ করতে আসতেন। এ দেশগুলোর মধ্যে আছে ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার প্রভৃতি।

এ সম্ভাব্য তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। অথচ জাপানে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা বাংলাদেশি শ্রকিদের নিয়োগ দিতে চাইলেও শ্রমিক নিয়োগে দু’দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি না থাকায় ওভারস্টেয়ার সব বাংলাদেশিকে ধরে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে জাপানের ইমিগ্রেশন পুলিশ। নতুন এ আইনের ফলে এ বছরের এপ্রিল থেকে এশিয়ার দেশগুলো হতে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করে জাপান। প্রধানমন্ত্রী আবের সরকার মূলত শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা মেটানোর জন্যই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে জাপান শ্রমিক নিয়োগে নীতিমালা সহজ করলেও এর সুযোগ বাংলাদেশিরা গ্রহণ করতে পারছে না দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অভাবে। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামান্য প্রচেষ্টাই পারে জাপান ফেরত এসব শ্রমিকের মাধ্যমে দেশের রেমিটেন্সের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে।

আইনজীবী

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×