সরকারি কর্মকর্তারা টাকার বালিশ ব্যবহার করছেন কেন?

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জিয়াউল ইসলাম

মাথার নিচে বালিশ তৈরিতে শিমুল তুলার কোনো তুলনা হয় না। এটা যেমন তুলতুলে নরম; তেমনি স্বাস্থ্যকর।

আমাদের বাড়িতে একসময় সব মিলিয়ে ৮টি বিশালাকৃতির শিমুলগাছ ছিল।

শীত মৌসুমে যখন গাছগুলোয় ফুল ধরত, তখন বাড়িটাকে মনে হতো টকটকে লাল শিমুল ফুলের বাগান। মজার ব্যাপার হল, শিমুল ফুল ফোটাকালীন গাছে কোনো পাতা থাকত না; শুধুই লাল আর লালের সমারোহ!

এক পর্যায়ে গাছগুলো থেকে তুলা সংগ্রহ করে তা বাড়ির উঠোনে শুকানো হতো। রোদে শুকাতে থাকা তুলা চৈত্রের বাতাসে উড়ে এসে আমার চোখে-মাথায় লাগত।

মনে হতো, আকাশে সাদা মেঘের বুক থেকে ছোট ছোট মেঘের কণা ঝরে পড়ছে সারা বাড়িতে। পুরো বাড়িটা তখন তুলাময় (ধবধবে) রূপ ধারণ করত। আমার দাদু হয়তো ভেবেছিলেন, তার নাতি-পুতিদের কোনোদিন উন্নতমানের তুলার বালিশের অভাবে ‘টাকার বালিশ’ ব্যবহার না করতে হয়।

বর্তমানে শিমুল তুলার বড় দুর্দিন। বালিশ তৈরির অর্ডার দিলে ধোনকাররা উন্নতমানের শিমুল তুলার কথা বলে কার্পাস তুলা কিংবা গার্মেন্টসের অস্বাস্থ্যকর ঝুট মিশিয়ে দেন।

দেশের সরকারি কর্মকর্তারা ধোনকারদের এহেন জালিয়াতি কোনোমতেই বরদাশত করতে পারেন না। এত বড় দুর্নীতি! এ দুর্নীতির সুযোগ না দেয়ার জন্যই সরকারি কর্মকর্তারা বাড়িতে বালিশ (Home made pillow) তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করেছেন।

স্বাস্থ্যকর শিমুল তুলার ঘাটতি মেটাতে এক্ষেত্রে তারা বালিশে ব্যবহার করেন পাঁচশ’-এক হাজার টাকার নোট। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের সুনিদ্রা নিশ্চিত হচ্ছে; অন্যদিকে শিমুল তুলার নামে ধোনকাররা দুর্নীতি করার সুযোগও পাচ্ছে না।

এ জন্যই বোধকরি বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত লেখক লিখেছিলেন- দ্বিতীয়বার জন্মালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে জন্মাতে চান!

প্রবাসী বাংলাদেশি, যুক্তরাজ্য

ziaulislam77-gmail.com