চামড়া শিল্পে বিপর্যয় কাদের যোগসাজশে?

  নাজমুল হোসেন ২১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চামড়া শিল্পে বিপর্যয় কাদের যোগসাজশে?

জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হল চামড়া; অথচ স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার।

সিন্ডিকেট ও মূল্য বিপর্যয়ের কারণে এবার চামড়া খাতে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকার রফতানি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাইকাররা চামড়া কেনার পর বিক্রি করতে গিয়ে তাদের মাথায় হাত।

কারণ ট্যানারির মালিকরা আড়তদারদের ক্রয়মূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম দিতে চাচ্ছেন। দেশের কোরবানির পশুর চামড়ার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হল পুরান ঢাকার পোস্তা। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় পাইকাররা অল্পসংখ্যক চামড়া পোস্তায় নিয়ে এসেছেন।

মূলত দুই পক্ষ অর্থাৎ ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের লেনদেন জটিলতার কারণে সারা দেশে চামড়া শিল্পে এমন উদ্ভট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, ঈদের দিন দুপুর থেকেই পুরান ঢাকার পোস্তায় প্রবেশ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

অথচ আগে সেখানে পাইকারদের আনাগোনা তেমন লক্ষণীয় ছিল না। লাখ টাকা দিয়ে কেনা কোরবানির গরুর চামড়ার দাম ছিল মাত্র ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকার খাসির চামড়া মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে রূপ নেয়- মসজিদ, মাদ্রাসা বা এতিমখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন পর্যন্ত এসব চামড়া নিতে আগ্রহ দেখায়নি। দেশে চামড়া নিয়ে এতটা অনাগ্রহ পূর্বে কখনই দেখা যায়নি।

১৯৮৯-৯০ সালে ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে কেনা গরুর চামড়া বিক্রি হতো ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায়। ১৬শ’ থেকে ১৮শ’ টাকার খাসির চামড়া বিক্রি হতো কমপক্ষে দেড়শ’ টাকায়।

এবারের ঈদে অনেকেই কোরবানির জন্য ২০ লাখ, ২৫ লাখ বা ৩০ লাখ টাকায় গরু কিনেছেন- গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচার হলেও কেউ সেসব গরুর চামড়া ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন, এমন সংবাদ কোথাও শোনা যায়নি।

কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বেচাকেনা বা সংরক্ষণ নিয়ে প্রতিবছর কমবেশি সিন্ডিকেট বা নানা রকম কেলেঙ্কারির ঘটনা এ দেশে নতুন কিছু নয়। সরকারের পক্ষ থেকে কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পরে ট্যানারি মালিকরা সেই দামে চামড়া কিনেন না; কিনলেও বাকিতে কিনে সময়মতো টাকা পরিশোধ করেন না।

এ বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ট্যানারি মালিকদের ৭শ’ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যেন এই শিল্প থেকে সরকারসহ জড়িত সবাই লাভবান হয়। কিন্তু তারপরও কাদের যোগসাজশে এ বিপর্যয়?

কাঁচা চামড়ায় এই বিপর্যয়ের কারণে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। পাশাপাশি কোরবানির পশুর চামড়ার ওপর নির্ভরশীল মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কাঁচা চামড়ার এ বিপর্যয়ের দায় কার- এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।

দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ব্যবসায়ী ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দুঃখে, ক্ষোভে পশুর কাঁচা চামড়া রাস্তায় বা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন, গর্তে পুঁতে ফেলেছেন বা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন।

এর ফলে গরু, খাসি বা ছাগলের কাঁচা চামড়ার প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যার রফতানি মূল্য অন্তত সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা। সংকট নিরসনে সরকার এই প্রথম কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্যানারি মালিকরা বলছে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। চামড়া শিল্পে উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতিতি থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায়, এটাই প্রশ্ন।

চলমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে এবার সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ভালো মানের চামড়া না পেলে এই শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং ট্যানারি মালিকরাই।

চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে অবশ্যই পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। চামড়া শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, সর্বোপরি দেশের স্বার্থরক্ষায় চামড়া শিল্পকে যারা বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে, তাদের আইনের আওতায় আনুন।

প্রকৌশলী

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×