আলবদর ও আলশামস শব্দ নেই কেন বাংলা একাডেমির অভিধানে

  তৌহিদ-উল ইসলাম ২১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আলবদর ও আলশামস শব্দ নেই কেন বাংলা একাডেমির অভিধানে

একুশের বইমেলায়, বিশেষ করে বাংলা একাডেমির স্টলে যে বইগুলো সবচেয়ে অধিক বিক্রি হয় তা হল, বাংলা একাডেমির অভিধান। একাডেমির অনেক প্রকার অভিধান রয়েছে।

বানান অভিধান, উচ্চারণ অভিধান, আঞ্চলিক ভাষার অভিধান আরও কত কি! গত বইমেলায় আমি আধুনিক বাংলা অভিধান কিনতে গিয়ে পাইনি। স্টলের বিক্রেতারা জানাল, শেষ হয়ে গেছে। চোখ পড়ল একটা নতুন বইয়ে।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দের অভিধান। বইটির প্রথম প্রকাশ ২০১৫ সাল। আমি দ্বিতীয় পুনর্মুদ্রণ, ফেব্রুয়ারি ২০১৮-এর একখানা কপি দেড়শ’ টাকায় কিনলাম।

এ অভিধানটি সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন মোহাম্মদ হারুন রশিদ। আমাদের বাংলা ভাষায় নানা কারণে বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস শব্দ তিনটি আরবি ভাষা থেকে বের হয়ে ইসলাম ধর্মের ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে এসে শেষটায় বাঙালির দেশপ্রেমের কাছে তাদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।

বর্ণিত অভিধানের ১৫ পৃষ্ঠায় আলবদর শব্দের অর্থ পূর্ণিমার চাঁদ এবং দ্বিতীয়ত মদিনার কাছে একটি জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ১৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে আলশামস শব্দটি, যার অর্থ দেয়া হয়েছে সূর্য এবং এখানে আর কিছু নেই।

বাংলা সাহিত্যে কেউ কখনও চাঁদের পরিবর্তে আলবদর শব্দের প্রয়োগ নিশ্চয় করেন না; আর সূর্যের পরিবর্তে ব্যবহার করেন না আলশামস শব্দটি। বাঙালির মুখে মুখে শব্দ দুটো এখন গালি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।

শব্দ দুটোর শাব্দিক অর্থ যাই হোক না কেন, এর ব্যবহারিক অর্থই আমাদের কাছে মুখ্য। বাংলা একাডেমির অভিধানের কথা ছেড়ে দিয়ে গুগলে সার্চ দিলে পাই- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা দানকারী নিন্দিত আধাসামরিক বাহিনী।

দেশের এক সময়ের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এ দুই বাহিনীর আমিরের পদ গ্রহণ করেছিলেন। আলী আহসান মুজাহিদ ও আবদুল কাদের মোল্লা সাহেবেরও এতে যথেষ্ট অবদান রয়েছে ইত্যাদি এমন অনেক তথ্য রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে আমরা রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও অন্যান্য বধ্যভূমিগুলোয় অসংখ্য বুদ্ধিজীবীর বিকৃত লাশের সন্ধান পাই; যাদের হাত ছিল পেছনে বাঁধা, চোখ ছিল কোটর থেকে তুলে ফেলা, মাথার খুলি চূর্ণবিচূর্ণ; আবার কারও হৃৎপিণ্ড বের করে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে পৈশাচিক আক্রোশে। ১৪ ডিসেম্বর তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

পুনশ্চ : একুশের বইমেলার কয়েক মাস পর রংপুরে একটা বইমেলার আয়োজন করা হল। আমি বাংলা একাডেমির স্টল থেকে জামিল চৌধুরী সম্পাদিত একখানা আধুনিক বাংলা অভিধান (২য় মুদ্রণ, সেপ্টেম্বর ২০১৭) কিনলাম।

এ অভিধানেও অনেক আরবি-ফারসি শব্দের অর্থ দেয়া আছে, যেগুলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত। এ অভিধানের ১৬৮ পৃষ্ঠায় আলবেদা, আলবোলা এ জাতীয় আরবি শব্দ দেখা যায়।

এখানে আলবদর, আলশামস শব্দ দুটোর স্থান দিয়ে ১৯৭১ সালে এ নাম ধারণকারীদের কুকীর্তির কথা উল্লেখ করলে অভিধানের মান খুব একটা ক্ষুণ্ণ হতো কি?

আমার মনে হয়, বাংলা একাডেমির বুদ্ধিজীবী মহল আলবদর, আলশামসকে আজও ভয় পাচ্ছে; আর সে কারণেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কাছে ওরা ‘পূর্ণিমার চাঁদ’, নয়তো ‘আকাশের সূর্য’ হয়েই থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষক, লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×