এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা কেমন আছেন?

  মো. মঈনুদ্দিন চৌধুরী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা কেমন আছেন?

এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা কর্মস্থলে কেমন আছেন- এ প্রশ্নের উত্তর একেকজনের কাছে একেকরকম। তবে এককথায় বলা যায়, রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজগুলোর শিক্ষকদের মধ্যে মোটামুটি উচ্চ কার্যসন্তুষ্টি বিরাজ করছে।

অন্যদিকে জেলা, উপজেলা কিংবা গ্রামাঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষকদের মধ্যে নিম্ন কার্যসন্তুষ্টি বিরাজ করছে। তবে অনুপাত প্রথার কারণে সরকারিভাবে পদোন্নতির ব্যবস্থা না থাকায় শহরের শিক্ষকরাও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।

রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় অবস্থিত কলেজগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো হওয়ায় এসব কলেজের শিক্ষকরা একদিকে যেমন সরকার থেকে আর্থিক সুবিধা (এমপিও) লাভ করেন; অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকেও তারা কলেজ অংশের বাড়িভাড়া, ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর ডিগ্রির জন্য আলাদা ইনক্রিমেন্ট, চিকিৎসাভাতা, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গোষ্ঠী বীমা, বোনাস ইত্যাদি বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেন।

ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের কলেজগুলোয় পদোন্নতির সিস্টেমও গ্রামাঞ্চলের কলেজগুলো থেকে ভিন্নতর।। যেমন- সরকার থেকে পদোন্নতি না পেলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান মোতাবেক এসব কলেজে পদোন্নতির নিজস্ব সিস্টেম রয়েছে।

গ্রামাঞ্চলের কলেজ শিক্ষকরা প্রতিমাসে সরকারি অংশ ব্যতীত (দু’একটি কলেজ ব্যতীত) সত্যিকার অর্থে কিছুই পান না। তবে দুই ঈদে যৎসামান্য উৎসব ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে নামমাত্র কিছু টাকা পান।

অধিকাংশ শিক্ষক অনেক দূর থেকে কর্মস্থলে আসায় তাদের বেতন-ভাতার একটি নির্দিষ্ট অংশ যাতায়াত ভাড়া বাবদ ব্যয় হয়ে যায়। অনুপাত সিস্টেমে সীমিত সংখ্যক শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতি লাভ করলেও বাকিরা প্রভাষক হিসেবেই অবসর গ্রহণ করেন। সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির কথা তো স্বপ্নেও ভাবা যায় না।

পত্রিকাসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের কোনো কোনো কলেজে গভর্নিং বডির কতিপয় স্বল্পশিক্ষিত সদস্য কারণে-অকারণে বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের উপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে থাকেন। কোনো কোনো স্থানীয় ও প্রভাবশালী সদস্য শিক্ষকদের কাছে মোটা অঙ্কের ‘ডোনেশন’ দাবি করেন।

শিক্ষকরা অক্ষমতা প্রকাশ কিংবা প্রতিবাদ করলে কলেজ ছেড়ে অন্য কলেজে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়; কিন্তু তারা জানেন না যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী শিক্ষকদের এভাবে বিদায় করা যায় না।

আবার কোথাও শিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদের দিয়ে পদত্যাগ পত্র লেখানো হয়। প্রাণের ভয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা আদালতের আশ্রয় নিতেও সাহস পান না। এর ফলে শিক্ষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করেন।

সৃষ্টি সুখের উল্লাস অনুভব করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের সুশিক্ষা দানের মাধ্যমে তাদের আদর্শ মানবসম্পদ রূপে গড়ে তুলতে চান। মানসিকভাবে নির্যাতন করলে তাদের পক্ষে আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষাদান করা সম্ভব নয়। কেননা, মানসিক নির্যাতন ও সৃজনশীলতা একসঙ্গে থাকতে পারে না।

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ, বুড়িচং, কুমিল্লা

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×