দালাল চক্রের অসাধু তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ প্রত্যাশীরা

  আজিজ ইবনে মুসলিম ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দালাল চক্রের অসাধু তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ প্রত্যাশীরা

‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ- ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ কার্যক্রম সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে (ডিপোজিট ওয়ার্ক ব্যতীত) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ১২ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিমাসে ৩ থেকে ৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ পাচ্ছে।

বিগত ৩০ মাসে ৯৩ লাখ গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে। ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের ১৫৭টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৬৭টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

পাশাপাশি ২০১৮ সালে ৬৫ লাখের অধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ বিদ্যুৎ প্রত্যাশী সংযোগ প্রাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত দেশের দক্ষিণ ভাগ তথা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ও কিছু বিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত জনপদ।

এসব জনপদসহ দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং কার্যক্রমও চলছে দ্রুতগতিতে। যারা বিদ্যুৎ পেতে এখনও আবেদন করেননি, তাদের আবেদন করার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং হচ্ছে গ্রামগঞ্জে। তবে দালাল চক্রের অসাধু তৎপরতায় বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ কাজ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে প্রতিদিন।

দালাল চক্রটি কিছু অসাধু ঠিকাদারের ছত্রছায়ায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন কৌশলে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি অর্থ।

যেমন- বৈদ্যুতিক খুঁটি সরবরাহের জন্য মোটা অঙ্কের গাড়ি ভাড়া আদায়; প্রতিটি খুঁটি পোতার বকশিশ; লাইন টানার তোহফা; ঘরে ঘরে বিদ্যুতের লাইন সংযোগের নজরানা; গাছের ডালপালা কর্তনের হাদিয়া; খুঁটির ওপর ট্রান্সমিটার বসানোর ফি ইত্যাদি। এরপর নির্মাণ শ্রমিকের টিফিন ও জামাই আদরে তিন বেলা খাওয়ানো এবং থাকার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও আদায় করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ শ্রমিকদেরর থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য ব্যয়ভার ঠিকাদারের বহন করার কথা থাকলেও সুকৌশলে গ্রাহকদের কাছ থেকে দালালরা এটা আদায় করছে। দেশব্যাপী এ অভিযোগ নিরসনের প্রসঙ্গ টেনে কথা হয় পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া এবং জিএম মনোহর কুমার বিশ্বাস (পবিস), গলাচিপার ডিজিএম মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও পরিদর্শক রায়হান আকবরের সঙ্গে।

তারা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বিশেষ ঘোষণাপত্রের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে দালাল চক্র এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পরামর্শ দেন। তবে ভুক্তভোগীরা মনে করেন, কর্তৃপক্ষের (পবিস) এ বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে দালাল চক্র ও অবৈধ অর্থের লেনদেন বন্ধ করা সম্ভব। সঙ্গত কারণেই বিদ্যুৎ প্রত্যাশীরা এ ঝুঁকি নিতে অক্ষম।

সাবেক ব্যাংকার, গলাচিপা, পটুয়াখালী

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×