ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়

  আতাউল করিম খোকন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৪ সালের কথা। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের আলোকিত ও স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলা তানভীন সুইটি তখন যশোরে থাকতেন। একদিন স্থানীয় দোকান থেকে পাথরের একটি মালা কিনেন তিনি। ব্যবহারের এক পর্যায়ে মালাটি ছিঁড়ে গেলে নিজের চেষ্টায় সেটি ঠিক করে ব্যবহার উপযোগী করার পর তার ভাবনায় আসে- এ ধরনের মালা বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করলে কেমন হয়! এরপর আর থেমে থাকেননি তানভীন সুইটি। মালা তৈরি ও বিপণনের পাশাপাশি কারুপণ্যের নান্দনিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করেন নিজেকে।

তানভীন সুইটির জন্ম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার কালিয়াকৈর গ্রামে। ২০১৫ সালে স্বামীর চাকরির সুবাদে চলে আসেন ময়মনসিংহ শহরে। এখানে আসার পর সানকিপাড়া কাজল টাওয়ারে (ক্যান্টনমেন্ট মোড়) গড়ে তোলেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- সুইটি জুয়েলারি অ্যান্ড ফরচুন হ্যান্ডিক্রাফটস। কাঠ, মাটি, বাঁশ, পাট, পাথর ও পুঁতির তৈরি জুয়েলারি সামগ্রী ছাড়াও হাতের তৈরি নকশিকাঁথা, বেবিকাঁথা, বেডশিট, বিভিন্ন ধরনের কুশন কভার, ওয়ান পিস-টুপিস-থ্রিপিস ইত্যাদি বিক্রি হয় এখানে।

নারীদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবিন্দপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় হস্ত ও কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন তানভীন সুইটি। তিন মাস চলেছিল এ প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন ৬০ জন নারী, যারা এখন ঘরে বসেই কাজ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের তৈরি পণ্য এখন বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। তাছাড়া তানভীন সুইটি নিজেও এসব নারীর উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বাজারজাতের কাজটি করে থাকেন। তানভীন সুইটির স্বপ্ন- বৃহৎ পরিসরে নিজস্ব জায়গায় সুইটি জুয়েলারি অ্যান্ড ফরচুন হ্যান্ডিক্রাফটসের কারখানা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ময়মনসিংহের বেকার নারীরা সফল প্রশিক্ষণ শেষে কাজ করার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।

সুইটি জুয়েলারি অ্যান্ড ফরচুন হ্যান্ডিক্রাফটসের কারখানায় গিয়ে দেখা গেল- ১৫-২০ জন নারী কাজ করছেন। তাদের দক্ষ ও নিপুণ হাতে তৈরি পুঁতি ও পাথরের (জুয়েলারি) পণ্যগুলো ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় রূপ পাচ্ছে। কাজ শেষে যখন এগুলো সুইটি জুয়েলারি অ্যান্ড ফরচুন হ্যান্ডিক্রাফটসের শোরুমে জায়গা করে নেবে, তখন নিশ্চয়ই উজ্জ্বল জ্যোতি ছড়াবে, যা দেখে আকৃষ্ট হবেন ক্রেতা।

ছিঁড়ে যাওয়া মালার হারানো অবয়ব ফিরিয়ে আনার পর তানভীন সুইটির মনে হয়েছিল- তিনি পারবেন। মূলত এ ইচ্ছাশক্তিই তাকে আজ একজন সফল নারী উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। যে ইচ্ছাশক্তিতে বলীয়ান হয়ে মানুষ পাড়ি দেয় উত্তাল সমুদ্র, অতিক্রম করে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, সেই ইচ্ছাশক্তি তানভীন সুইটিকেও নিশ্চয়ই পৌঁছে দেবে সাফল্যের চূড়ায়...

ব্যুরো চিফ, যুগান্তর, ময়মনসিংহ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×