ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে

  ইফতেখার আহমেদ টিপু ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতার পর সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চারগুণ। স্বাধীনতার বছরে ধান, আলু ও গম মিলিয়ে ১ কোটি ১৮ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল। সাড়ে ৭ কোটি মানুষের জন্য উৎপাদিত খাদ্যের এ পরিমাণ ছিল অপর্যাপ্ত। সাড়ে চার দশক পর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ধান, গম ও আলুর উৎপাদন হয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ টন। ধান, আলু, গম মিলিয়ে খাদ্য উৎপাদন চারগুণ বাড়ায় খাদ্যাভাবের দেশ হিসেবে শত শত বছর ধরে যে লজ্জা বাংলাদেশকে বহন করতে হতো, তা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

স্বাধীনতার পর সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি থেকে বেড়ে প্রায় ১৭ কোটিতে পৌঁছেছে। জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়া সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুধা থেকে মুক্তি পেয়েছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনাপারের মানুষ। স্বাধীনতার পর খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের মানুষের গড় খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে। এ সময়কালে যে দেশটির বেশিরভাগ মানুষ ছিল হাড্ডিসার, তাদের দৈহিক গঠনেও পরিবর্তন এসেছে। এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুফল হিসেবে। কৃষকের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত হয়েছে এ সাফল্য। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের মধ্যে চতুর্থতম। আর মাছের রাজা ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা অন্য দেশগুলোর জন্য অনুসরণযোগ্য। এ বছর ইলিশের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মাছে-ভাতে বাঙালি- এ পরিচয়টি হারিয়ে যেতে বসেছিল দেড় দশক আগে। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণেরও বেশি। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের সামনে অপার সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি নানা সীমাবদ্ধতার জন্য। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ভারতকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় মাছ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্ব^ী ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম আরও দ্রুতগতিতে মাছ উৎপাদনে এগিয়ে যাওয়ায় সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদনে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে। এ অগ্রগতির সব প্রশংসা মাছচাষিদেরই প্রাপ্য। কারণ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারের পক্ষ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করা হলেও তার মাত্র ১০ শতাংশ দেয়া হয়েছে মাছচাষিদের। সাগরে যারা মাছ ধরেন, তাদের যে কী প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করতে হয়, তা সবার জানা। উপকূল এলাকাজুড়ে দেশি-বিদেশি জলদস্যুদের উৎপাত। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ট্রলার অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরা তাদের কাছে অসহায়। বাঙালির পরিচয় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। মাত্র দেড় লাখ বর্গকিলোমিটারের চেয়েও কম আয়তনের বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটিরও বেশি। নদ-নদী, খাল-বিল ও পুকুরসহ জলাধারের সংখ্যা হ্রাস পেলেও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছচাষ করায় উৎপাদন বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মাছের উৎপাদন ৩৭ লাখ টনেরও বেশি এবং আগামী চার বছরের মধ্যে তা ৪৫ লাখ টনে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাছচাষিদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলে আগামী এক দশকে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব।

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.