বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে
jugantor
বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে

  এ কে এম মাসুদ  

০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন সময় বলার পরও র‌্যাগিং ইত্যাদি নানা ইস্যুতে ছাত্রদের নির্যাতন-হয়রানি বন্ধ করা যায়নি। এই যে পিটিয়ে একজন ছাত্রকে একেবারে মেরে ফেলা- এ ধরনের বাজে ও নোংরা সংস্কৃতি তো একদিনে গড়ে ওঠেনি।

মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে, বিশেষ করে, বুয়েটের মতো মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হবে এবং মৃত্যুবরণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আবরার হত্যার ঘটনা প্রমাণ করেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

যে নিষ্ঠুর ঘটনাটি ঘটেছে বুয়েটে তা যে রাজনীতির ছত্রছায়ায় ঘটেছে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। ছাত্ররা দাবি করেছে, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আসলে আমাদের ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবজনক অতীত রয়েছে। ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনও রয়েছে।

তবে এখন যে পর্যায়ে আমরা রয়েছি, এ পর্যায়ে এসে গোটা দেশে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। বিশেষত, বুয়েটের সামগ্রিক যে অবস্থান তাতে এ প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি আদৌ দরকার কি না, সেটি একটি প্রশ্ন। বর্তমান যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে আপাতত বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখা যেতে পারে বলে আমি মনে করি।

প্রফেসর এ কে এম মাসুদ : সভাপতি, বুয়েট শিক্ষক সমিতি

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে

 এ কে এম মাসুদ 
০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন সময় বলার পরও র‌্যাগিং ইত্যাদি নানা ইস্যুতে ছাত্রদের নির্যাতন-হয়রানি বন্ধ করা যায়নি। এই যে পিটিয়ে একজন ছাত্রকে একেবারে মেরে ফেলা- এ ধরনের বাজে ও নোংরা সংস্কৃতি তো একদিনে গড়ে ওঠেনি।

মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে, বিশেষ করে, বুয়েটের মতো মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হবে এবং মৃত্যুবরণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আবরার হত্যার ঘটনা প্রমাণ করেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

যে নিষ্ঠুর ঘটনাটি ঘটেছে বুয়েটে তা যে রাজনীতির ছত্রছায়ায় ঘটেছে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। ছাত্ররা দাবি করেছে, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আসলে আমাদের ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবজনক অতীত রয়েছে। ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনও রয়েছে।

তবে এখন যে পর্যায়ে আমরা রয়েছি, এ পর্যায়ে এসে গোটা দেশে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। বিশেষত, বুয়েটের সামগ্রিক যে অবস্থান তাতে এ প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি আদৌ দরকার কি না, সেটি একটি প্রশ্ন। বর্তমান যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে আপাতত বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখা যেতে পারে বলে আমি মনে করি।

প্রফেসর এ কে এম মাসুদ : সভাপতি, বুয়েট শিক্ষক সমিতি