ভাবতে হবে সবাইকে

  শাহজাহান আলী মূসা ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাবতে হবে সবাইকে

একটি সমাজের কতটা অবক্ষয় হলে নিজের অবুঝ শিশুসন্তানকে হত্যা করতে পারে তার বাবা এবং শাশুড়ি মেয়ের জামাইকে বিয়ে করতে পারে? সামাজিক রীতি পাল্টে বরযাত্রার পরিবর্তে হচ্ছে কনেযাত্রা! ভাবতেই অবাক লাগে।

কিন্তু অবাক লাগেনি দেশের কর্তাব্যক্তিদের, রাজনীতিকদের, বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের। কারণ তারা এ নিয়ে নীরব দর্শক। দেশে একের পর অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেই চলেছে। শিশুধর্ষণ ও পরবর্তী সময়ে হত্যা, নিজের নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা, মেয়ের জামাইকে শাশুড়ির বিয়ে করা, পরকীয়ার বলি শিশুসন্তান, বিয়ের রীতি পাল্টানো ইত্যাদি হচ্ছে তার কিছু নমুনা।

এসব ঘটনা বাংলাদেশে প্রায়ই ঘটছে। কিন্তু কোনো সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না; যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার হয়, তাও দীর্ঘসূত্রতার ফলে অনেক সময় তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

সুনামগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের অবুঝ শিশুসন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বাবা ও চাচা। তারা হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি; শিশুটির যৌনাঙ্গ কেটে ফেলেছে, কান কেটেছে; অবশেষে পেটে ছুরি ঢুকিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে, ভাবা যায়?

কীভাবে সম্ভব এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো? সম্ভব না হলেও সম্প্রতি এমনভাবেই হত্যা করেছে নরপিশাচরূপী বাবা তার শিশুপুত্র তুহিনকে; যা শোনে জাতির টনক নড়ার কথা। টনক নড়েছে বটে; তবে ঘটনা ঘটার পর। এই হল বাঙালি জাতির স্বভাব। অন্যদিকে আরেক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানায়। বিয়ের এক সপ্তাহ না যেতেই ভেঙে গেল বিয়ে। শুধু কী তাই?

একই বৈঠকে স্ত্রীকে তালাক দিলেন শ্বশুর-শাশুড়িকে আর মেয়ের জামাই মেয়েকে। তাতেই কি ঘটনা শেষ? না, শেষ নয়। নাটক আরও আছে। ভারতীয় উপমহাদেশে তো বটেই পৃথিবীর ইতিহাসেও এমন ঘটনা পাওয়া দুরূহ- শাশুড়িকে মেয়ের জামাই বিয়ে করেছে; তাও আবার ভরা মজলিশে! আরও অবাক হতে হয়, এ কাজে সহযোগিতা করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি! ছি ধিক্কার জানাই এসবে।

ইসলাম ধর্মমতে শাশুড়িকে বিয়ে করা হারাম। কিন্তু সেই হারাম কাজটিই গোপালপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে। কেউ না বুঝলেও একজন চেয়ারম্যান কীভাবে এই ন্যক্কারজনক কাজের সঙ্গী হয়, বোধগম্য নয়। অবশ্য ওই ঘটনার পর এলাকাবাসী ও প্রশাসনের টনক নড়েছে।

আরেকদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পরকীয়ার বলি হয়েছে শিশুকন্যা ও তার বাবা। চট্টগ্রাম শহরের নিমতলী এলাকার বুচুইক্যা কলোনিতে ছোট্ট মেয়েশিশু ও তার বাবাকে হত্যা করেছে শিশুটির মা ও কথিত প্রেমিক। দেশের আনাচে-কানাচে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কয়টা আসে সংবাদমাধ্যমে?

এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেছেন, দেশে সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয় কেন ঘটছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, তা নিয়ে ভাববেন সমাজবিজ্ঞানীরা। শুধু কি সমাজবিজ্ঞানীরাই ভাববেন? সমাজপতিরা কী করবেন? শিক্ষিত সমাজ কী করবে? বুদ্ধিজীবীরা কী করবেন? সুশীল সমাজ কী করবে? সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে হলে এর দায় সবাইকে নিতে হবে। ভাবতে হবে সবাইকে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, বনানী, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×