করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

  শহীদুল ইসলাম ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে উৎপত্তি লাভ করা করোনাভাইরাস এখন ওখানকার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের ১৪টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হননি।

বিশ্বের অন্তত ৬ কোটি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হবে বলে সতর্কবার্তা উচ্চারিত হচ্ছে। চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ ভাইরাসে ১ হাজার ৯৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা চীনে ৪১ ছাড়িয়েছে।

চীনের বাইরে যেসব দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই সাম্প্রতিক সময়ে চীনে ভ্রমণ করেছেন। ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করছে।

চীনে বাংলাদেশিদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। শুধু উহানে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যাই ৫০০। উহানফেরত একজন বাংলাদেশি গবেষকের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে চারশ’র মতো বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। চীন সরকার সেখানে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় আটকেপড়া বাংলাদেশিরা ওখান থেকে বের হতে পারছেন না।

চীনের সঙ্গে আমাদের সরাসরি বিমান যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চীনে আসা যাওয়া করছে। সুতরাং বিষয়টি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক।

উহানে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও চীনের অন্যান্য প্রদেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। চীনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সবাই আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে। দেশে আত্মীয়-স্বজনরাও খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ২৭ জানুয়ারি আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন- উহানে অবস্থানরত ছাড়াও চীনে যেসব বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই অন্য আরেকজনের দেহে ভাইরাসটি প্রবেশ করতে পারে। বিশ্বব্যাপী চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করা এই ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশেও একধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাসটা যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেই অন্য ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করছে সেহেতু সবার আগে যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে তা হল, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে। চীন থেকে বা আক্রান্ত দেশ থেকে যারা ফিরছে, তাদের ওপর নজরদারি জোরদার করতে হবে।

আল্লাহর অশেষ কৃপায় এখনও কোনো বঙ্গসন্তানের এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কোনোভাবেই যেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে ভয়াবহ এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

চীনের বাইরে আক্রান্তদের প্রায় সবাই চীনফেরত; সুতরাং চীন থেকে যারা ফিরছে, তাদের খুব ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। করোনাভাইরাস কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রবেশের ১০-১২ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। এ সময়কালে সহজেই এটি উক্ত ব্যক্তি থেকে অন্য আরও অনেকের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যারা চীন থেকে দেশে ফিরছে; তাদের শুধু পরীক্ষা করলেই হবে না, পূর্ণাঙ্গ তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে কিছুদিন তদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

সরকার ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালী সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডাক্তারদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। দেশের বিমানবন্দরে বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছে। যারা দেশে প্রবেশ করছে, তাদের শরীরে করোনাভাইরাস আছে কি না, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নৌ এবং স্থলবন্দরগুলোয়ও সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই ভালো উপায়। সুতরাং, আগে এটা নিশ্চিত করতে হবে- কোনোভাবেই যেন এই ভাইরাসটি দেশে প্রবেশ করতে না পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ; তিনি চীনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

চীনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সহায়তা করার জন্য দূতাবাসকে আরও তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি সরকারিভাবে ঘোষণা করা উচিত- খুব জরুরি না হলে কোনো বাংলাদেশি যেন চীন সফরে না যায়। কোনোভাবে যদি ভাইরাসটির সংক্রমণ মহামারীর রূপ নেয় তাহলে এর ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে।

সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। সুতরাং, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১২৩ ৩৩ ১২
বিশ্ব ১৩,১০,১০২২,৭৫,০৪০৭২,৫৫৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×