তারুণ্যের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু
jugantor
তারুণ্যের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু

  মো. রাশেদ আহমেদ  

২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান

ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।

তরুণ সমাজের কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি তরুণদের কাছে একাধারে জীবন সংগ্রামের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ও আদর্শের প্রতীক; অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কারিগর, উদার ব্যক্তিত্ব, সফল রাজনীতিবিদ। আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজও তরুণ সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রায় বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে আমরা জানতে পেরেছি, তার চিন্তা-চেতনা ছিল তারুণ্যকেন্দ্রিক। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও আবেগই পরবর্তী সময়ে প্রতিবাদী রূপ ধারণ করে তার মন ও মননে সূচনা ঘটিয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের। বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন, অধিকার পেতে হলে নীরব থাকলে চলবে না; সবাইকে জাগাতে হবে, তাদের মনে গেঁথে দিতে হবে স্বাধীনতার মন্ত্র।

৭ মার্চের ভাষণ তারই প্রমাণ বহন করে। ৭ মার্চের ভাষণের ধারাবাহিকতায় গোটা বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন স্লোগান ছিল একটাই- বীর বাঙালি অস্ত্র ধর; বাংলাদেশ স্বাধীন কর। মুক্তিযুদ্ধে হাজারও তরুণ বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গ করেছিল স্বাধীনতার জন্য। তারুণ্যের সেই আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়।

নতুন প্রজন্মের কাছে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে মাত্র ১০ মাসের মাথায় শহীদের রক্তে লিখিত সংবিধান দেশবাসীকে উপহার দেন।

সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ মূলনীতি লিপিবদ্ধ করে তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। আবার অনেকের চোখে তিনি একজন সফল কূটনীতিবিদ। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ১৪০টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন; জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে সদস্যপদ লাভ করেছিল বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল অসহায় মানুষের সেবা করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা। বর্তমানে বাংলাদেশে আদর্শ বা উদার রাজনীতির সংকট চলছে। যে তরুণরা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা; তারা আজ রাজনীতিবিমুখ। এখন চলছে অর্থ আর ক্ষমতার রাজনীতি।

বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শের রাজনীতির কাছে বড্ড অচেনা বর্তমান রাজনীতি। আর সে জন্যই তরুণ সমাজ আজ রাজনীতিবিমুখ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হার না-মানা সংগ্রামমুখর জীবন কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখার অবকাশ নেই। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামমুখর কর্মময় জীবন ও আদর্শ থেকে দেশের তরুণ সমাজকে শিক্ষা নিতে হবে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

তারুণ্যের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু

 মো. রাশেদ আহমেদ 
২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান

ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।

তরুণ সমাজের কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি তরুণদের কাছে একাধারে জীবন সংগ্রামের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ও আদর্শের প্রতীক; অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কারিগর, উদার ব্যক্তিত্ব, সফল রাজনীতিবিদ। আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজও তরুণ সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রায় বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে আমরা জানতে পেরেছি, তার চিন্তা-চেতনা ছিল তারুণ্যকেন্দ্রিক। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও আবেগই পরবর্তী সময়ে প্রতিবাদী রূপ ধারণ করে তার মন ও মননে সূচনা ঘটিয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের। বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন, অধিকার পেতে হলে নীরব থাকলে চলবে না; সবাইকে জাগাতে হবে, তাদের মনে গেঁথে দিতে হবে স্বাধীনতার মন্ত্র।

৭ মার্চের ভাষণ তারই প্রমাণ বহন করে। ৭ মার্চের ভাষণের ধারাবাহিকতায় গোটা বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন স্লোগান ছিল একটাই- বীর বাঙালি অস্ত্র ধর; বাংলাদেশ স্বাধীন কর। মুক্তিযুদ্ধে হাজারও তরুণ বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গ করেছিল স্বাধীনতার জন্য। তারুণ্যের সেই আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়।

নতুন প্রজন্মের কাছে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে মাত্র ১০ মাসের মাথায় শহীদের রক্তে লিখিত সংবিধান দেশবাসীকে উপহার দেন।

সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ মূলনীতি লিপিবদ্ধ করে তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। আবার অনেকের চোখে তিনি একজন সফল কূটনীতিবিদ। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ১৪০টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন; জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে সদস্যপদ লাভ করেছিল বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল অসহায় মানুষের সেবা করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা। বর্তমানে বাংলাদেশে আদর্শ বা উদার রাজনীতির সংকট চলছে। যে তরুণরা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা; তারা আজ রাজনীতিবিমুখ। এখন চলছে অর্থ আর ক্ষমতার রাজনীতি।

বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শের রাজনীতির কাছে বড্ড অচেনা বর্তমান রাজনীতি। আর সে জন্যই তরুণ সমাজ আজ রাজনীতিবিমুখ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হার না-মানা সংগ্রামমুখর জীবন কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখার অবকাশ নেই। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামমুখর কর্মময় জীবন ও আদর্শ থেকে দেশের তরুণ সমাজকে শিক্ষা নিতে হবে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন