করোনাকালে আমাদের পরিবেশ

  আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা ২০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়েছিল এক প্রাণঘাতী ভাইরাস। আজ সেই ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব আতঙ্কিত। সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো মানুষ আজ চার দেয়ালে বন্দি। অসহায় মানুষ জানে না, কবে কাটবে তাদের বন্দিদশা। মৃত্যুর সংখ্যা ঠিক কত পেরুলে তবে শান্ত হবে এ ভাইরাসটি।

মানুষ প্রকৃতির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। প্রকৃতির অন্য উপাদানগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় না থাকলে মানুষের পক্ষেও সম্ভব না সুস্থ ও সুন্দরভাবে এই সুন্দর পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা। অথচ আমরা এই সত্যকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছি পরিবেশ বিধ্বংসী উন্নয়নের পথে। মেতে উঠেছি ধ্বংসের খেলায়। বাধ্য হয়ে প্রকৃতিকেই এগিয়ে আসতে হল আমাদের এ তথাকথিত অগ্রযাত্রা থামাতে; যে অগ্রযাত্রায় নিয়মিত উজাড় হচ্ছে হাজার হাজার মাইল বনভূমি, পুড়ছে আমাজন, ধুঁকছে প্রাণীর ফুসফুস, গলছে উত্তর-দক্ষিণের বরফ, বাড়ছে সমুদ্রের লোনা পানি, বিষাক্ত হয়ে উঠছে বাতাস।

সারা বিশ্বের মানুষকে চার দেয়ালে বন্দি করে ফেলে প্রকৃতি আজ মুক্ত করে দিয়েছে তার বুকে বেঁচে থাকা অন্যান্য প্রাণীদের। গত বছরের তুলনায় বিশ্বে দূষণের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বায়ুস্তরে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ নেমে এসেছে অর্ধেকে। এ বছর মার্চে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের পরিমাণ যা রেকর্ড করা হয়েছে, তা ১৯৯০ সালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণের সমান।

দূষণের শহর ঢাকা যেখানে শব্দের মাত্রা থাকে প্রায় ১১০-১২০ ডেসিবল, সেটা চলে এসেছে মানুষের শ্রাব্যসীমার মধ্যে। পৃথিবীর সর্বাধিক বায়ুদূষণের দেশগুলোর তালিকায় বিগত কয়েক বছর ধরে শীর্ষে স্থান করে নেয়া ঢাকা এখন ২৩ নম্বরে বলে জানিয়েছে বায়ু নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’।

২২ এপ্রিল ছিল ধরিত্রী দিবস। ৫০তম ধরিত্রী দিবসে সাম্প্রতিককালের সব থেকে দূষণমুক্ত সময় পার করেছে আমাদের পৃথিবী। আমাদের উচিত হবে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ এই সংকট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষা আর স্বাস্থ্য খাতের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেবে বলে আমার বিশ্বাস। আশা করি, বিশ্বসম্প্রদায় এ বিষয়ে একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

শিক্ষার্থী, কৃষিতত্ত্ব বিভাগ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত