মধ্যবিত্তের দেশে করোনা

  রেজাউল ইসলাম রেজা ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ছোবলে বিশ্ব আজ চরম সংকটময় মুহূর্তে অবস্থান করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্ব এখন করোনা মহামারীর ক্রান্তিলগ্নে।

নানা বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন মানুষজন। বিশ্বজুড়ে লকডাউন পন্থা অবলম্বনের কারণে বেশিরভাগ মানুষ ঘরবন্দি। জীবন হয়েছে স্থবির।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কাজকর্ম বন্ধ থাকার কারণে আয়ের উৎসও বন্ধ।

খরচ হচ্ছে প্রতিদিন; কিন্তু আয় নেই। সঞ্চিত টাকা দিয়ে আর কতদিন? এটাই এখন মধ্যবিত্তের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাদের আয় নির্দিষ্ট কিংবা মাসিক বেতনে কাজ করেন, তারা অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন। কেউবা বিনা নোটিশে চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে খুব কষ্টে দিন পার করছেন তারা।

হিমশিম খাচ্ছেন সংসার চালাতে। লোকলজ্জার কারণে না পারছেন কাউকে বলতে; না পারছেন লাইনে দাঁড়িয়ে হাত পেতে সাহায্য নিতে কিংবা মাঠে শ্রমিকের মতো কাজ করে উপার্জন করতে। এর ফলে চাপা কষ্ট নিয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছেন, ‘তাদের কথা কেউ ভাবছেন না।’

সমাজের নিুবিত্ত কিংবা অসহায় মানুষজন সরকার বা উচ্চবিত্ত মানুষের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পেলেও মধ্যবিত্তদের কপালে কিছুই জুটছে না। একদিকে অর্থনৈতিক কষ্ট, আরেকদিকে সামাজিক অবস্থানের মধ্যে পড়ে জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মধ্যত্তি শ্রেণি মানবেতর জীবনযাপন করছেন দিনের পর দিন।

কেউবা বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য খরচের ভার সামলাতে না পেরে শহর থেকে পাড়ি জমাচ্ছেন গ্রামে। করোনার ভয়াবহতা যেন মধ্যবিত্তের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের এ শ্রেণি অর্থাৎ মধ্যবিত্তদের চাহিদা, প্রত্যাশা বেশি নয়। এদের বড় সম্পদই আত্মসম্মান। খেয়ে-পরে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকাটাই এদের জীবন।

কবে শেষ হবে করোনা? কবে আবার সুদিন আসবে, আসবে নতুন ভোর? এই প্রশ্নই এখন সবার মনে। এ সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে আরও দেরি হলে মধ্যবিত্ত মানুষগুলোকে কে দেখবে? তারা কি খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারবে?

সমাজের নিুবিত্ত, অসহায় মানুষের মতো এদের নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মানুষ মানুষের জন্য- এটা মাথায় রেখে কাজ করলে কিছুটা হলেও তাদের দুঃখ, কষ্ট কমিয়ে আনা সম্ভব।

শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত