পুলিশি হয়রানির প্রতিকার পাওয়া সহজ হয়েছে
jugantor
পুলিশি হয়রানির প্রতিকার পাওয়া সহজ হয়েছে

  শ্রীকান্ত দেবনাথ  

০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে, তবে সে যে পেশায় থাকুক না কেন; তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতে মামলা করা যায়। কিন্তু প্রতিটি পেশার দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি যদি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন না করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?

সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা যদি পেশাগত দায়িত্ব পালন না করে বা অবহেলা করে বা হয়রানি করে তাহলে সাধারণ জনগণ হিসেবে সে বিষয়ে প্রতিকার জানা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে সাধারণ জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে সফল হতে পারবে। আজ আমরা জেনে নিই, পুলিশের অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের প্রতিকার।

বর্তমান করোনা সংকটের আগে জনগণ আদালত বা থানায় মামলা করতে পারত, কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করার একমাত্র উপায় হল থানা। কিন্তু এমন একটি অভিযোগ মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, তা হল- থানায় বিভিন্ন কারণে মামলা নিতে চায় না। পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব হল, আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত মামলা গ্রহণ করা; কিন্তু যদি মামলা গ্রহণ না করে, তখন পুলিশের এমন অপেশাদারি আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের প্রতিকার কী?

দেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের রয়েছে গৌরবময় সাফল্য ও ইতিহাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ যে দায়িত্ব পালন করছে, তা ব্যাপক প্রশংসনীয় হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা, আস্থা ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারপরও কিছু কিছু পুলিশের অপেশাদার আচরণের কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সময় কিছু মুষ্টিমেয় পুলিশের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে মামলায় দায়িত্বশীল আচরণ না করা, মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়া, ঘুষ নেয়া, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন নির্যাতন, চাঁদা আদায় করা, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি, প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের অপেশাদারি ও অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে কী করা উচিত বা কোথায় অভিযোগ করবেন, তা অনেকেই জানেন না। একসময় মনে করা হতো, পুলিশের অপেশাদারি আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই।

অনেকে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না মনে করে অভিযোগে আগ্রহ দেখান না। কিন্তু পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে- ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ৪২ হাজার ৬৩২ জন পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার ৪২ হাজার ৪৭৬ জন, ইনপেক্টর পদমর্যাদার ১৪৫ জন এবং এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ১১ জন রয়েছেন।

আগে থেকেই পুলিশের অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুযোগ থাকলেও অভিযোগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বরে পুলিশ হেডকোয়াটার্সে ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ চালু করা হয়েছে। মূলত তখন থেকেই জনগণ পুলিশের কোনো অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরাসরি, কুরিয়ার সার্ভিসে, ডাকযোগে, মোবাইলে বা ই-মেইলে অভিযোগ করতে পারছে। এ কমপ্লেইন সেল দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। অভিযোগ জানানোর মোবাইল নম্বর দুটি হচ্ছে- ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬। ই-মেইল- complain-police.gov.bd

এই সেল চালুর পর থেকে ওই সেলে ২০১৭ সালে ৬১৯টি ও ২০১৮ সালে ১ হাজার ৩৭১টি ও ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৫০৩টি অভিযোগ এসেছে।

আইনজীবী, ঢাকা

পুলিশি হয়রানির প্রতিকার পাওয়া সহজ হয়েছে

 শ্রীকান্ত দেবনাথ 
০১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে, তবে সে যে পেশায় থাকুক না কেন; তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতে মামলা করা যায়। কিন্তু প্রতিটি পেশার দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি যদি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন না করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?

সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা যদি পেশাগত দায়িত্ব পালন না করে বা অবহেলা করে বা হয়রানি করে তাহলে সাধারণ জনগণ হিসেবে সে বিষয়ে প্রতিকার জানা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে সাধারণ জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে সফল হতে পারবে। আজ আমরা জেনে নিই, পুলিশের অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের প্রতিকার।

বর্তমান করোনা সংকটের আগে জনগণ আদালত বা থানায় মামলা করতে পারত, কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করার একমাত্র উপায় হল থানা। কিন্তু এমন একটি অভিযোগ মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, তা হল- থানায় বিভিন্ন কারণে মামলা নিতে চায় না। পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব হল, আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত মামলা গ্রহণ করা; কিন্তু যদি মামলা গ্রহণ না করে, তখন পুলিশের এমন অপেশাদারি আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের প্রতিকার কী?

দেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের রয়েছে গৌরবময় সাফল্য ও ইতিহাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ যে দায়িত্ব পালন করছে, তা ব্যাপক প্রশংসনীয় হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা, আস্থা ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারপরও কিছু কিছু পুলিশের অপেশাদার আচরণের কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সময় কিছু মুষ্টিমেয় পুলিশের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে মামলায় দায়িত্বশীল আচরণ না করা, মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়া, ঘুষ নেয়া, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন নির্যাতন, চাঁদা আদায় করা, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি, প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের অপেশাদারি ও অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে কী করা উচিত বা কোথায় অভিযোগ করবেন, তা অনেকেই জানেন না। একসময় মনে করা হতো, পুলিশের অপেশাদারি আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই।

অনেকে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না মনে করে অভিযোগে আগ্রহ দেখান না। কিন্তু পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে- ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ৪২ হাজার ৬৩২ জন পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার ৪২ হাজার ৪৭৬ জন, ইনপেক্টর পদমর্যাদার ১৪৫ জন এবং এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ১১ জন রয়েছেন।

আগে থেকেই পুলিশের অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুযোগ থাকলেও অভিযোগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বরে পুলিশ হেডকোয়াটার্সে ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ চালু করা হয়েছে। মূলত তখন থেকেই জনগণ পুলিশের কোনো অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরাসরি, কুরিয়ার সার্ভিসে, ডাকযোগে, মোবাইলে বা ই-মেইলে অভিযোগ করতে পারছে। এ কমপ্লেইন সেল দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। অভিযোগ জানানোর মোবাইল নম্বর দুটি হচ্ছে- ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬। ই-মেইল- complain-police.gov.bd

এই সেল চালুর পর থেকে ওই সেলে ২০১৭ সালে ৬১৯টি ও ২০১৮ সালে ১ হাজার ৩৭১টি ও ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৫০৩টি অভিযোগ এসেছে।

আইনজীবী, ঢাকা

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন