কোটার আবর্তে হারিয়ে যাবে মেধাবীরা?

  আল-আমীন ২৮ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা

শিক্ষাজীবন শেষে একজন শিক্ষার্থীকে আবার যুদ্ধ করতে হয় একটি চাকরির জন্য। বর্তমানে একটি ভালো চাকরি পাওয়া মানে সোনার হরিণের দেখা পাওয়া। তবে যাদের মামা-খালু আছে, স্বভাবতই চাকরি নিয়ে তাদের তেমন চিন্তা করতে হয় না। অন্যদিকে যারা কোনো না কোনো কোটার আওতাভুক্ত, তারাও চাকরির ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত। সামান্য একটু মেধা আর একটা কোটা- ব্যস, চাকরি ঠেকায় কে?

অথচ যারা সত্যিকারের মেধাবী, তাদের যত চিন্তা। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো বিষয়ে পড়াশোনা করলেও ভালো চাকরি হবে কিনা, তা নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%, নারী কোটা ১০%, জেলা কোটা ৫%, প্রতিবন্ধী কোটা ৫% এবং উপজাতি কোটা ৫%। বাকি থাকল মাত্র ৪৫%। এই ৪৫% হচ্ছে মেধাবীদের তথাকথিত ভরসা। তথাকথিত বলার কারণ হল, এখানে অলিখিত আরেকটি কোটা আছে। সেটা হল ‘লবিং কোটা’। মামা কিংবা খালুর সুবাদে যার লবিংয়ের জোর যত বেশি, সে চাকরি প্রাপ্তির যোগ্যতায় ততবেশি উপযুক্ত।

অনেক ক্ষেত্রে আগেই ঠিক করা থাকে- কাকে কাকে চাকরি দেয়া হবে। শুধু লোক দেখানো মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয় মাত্র। এমনিতেই চাকরির সংকট, তার ওপর আবার এতসব ঘটনা মেধাবীদের দুশ্চিন্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বস্তুত এসবের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে থাকে মেধাবীরা। তবে এটাও সত্যি, কোটাভুক্তদের মধ্যে অনেকেই মেধাবী থাকতে পারে। কিন্তু সে সংখ্যা খুব বেশি হবে না বলে আমার বিশ্বাস। কোটাভুক্তদের প্রয়োজনে আরও অনেক সুযোগ দেয়া যেতে পারে, তবে সেটা অন্য কোনো উপায়ে। অবশ্যই কাউকে বঞ্চিত করে নয়।

একজন মেধাবীকে টপকিয়ে আরেকজন অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) কেন এগিয়ে থাকবে? এ কেমন ব্যবস্থাপনা? কোটাভুক্তদের এমন কোনো সুযোগ দেয়া হোক, যাতে সরাসরি অন্য কেউ বঞ্চিত না হয়। কোটাভুক্তদের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক ভাতা দেয়া যেতে পারে অথবা সবার সঙ্গে সমভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাকরি প্রাপ্তির পর তাদের বেতন অন্যদের চেয়ে কিছু বা অনেক বেশি দেয়া যেতে পারে। তাহলে অন্তত মেধার অবমূল্যায়ন হবে না। মেধাবীরাও আর কোটা আতঙ্কে থাকবে না। আমরা যদি সমাধিকারে বিশ্বাসী হই- তাহলে প্রশ্ন হল, প্রচলিত কোটা ব্যবস্থা কি সমাধিকারের আওতায় পড়ে? কাজেই প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করে তারপর কোটাভিত্তিক সুবিধা প্রদান করা উচিত।

গাজীপুর

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter