নন-রেসিডেন্সি কোর্সের চিকিৎসকদের বঞ্চনার অবসান হবে কবে?
jugantor
নন-রেসিডেন্সি কোর্সের চিকিৎসকদের বঞ্চনার অবসান হবে কবে?

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বর্তমানে তিন ধরনের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চলমান- এফসিপিএস (৫ বছর), রেসিডেন্সি (৫ বছর) এবং নন-রেসিডেন্সি (২ বছর)। সব কোর্সে দু’ক্যাটাগরির চিকিৎসক রয়েছেন- সরকারি ও বেসরকারি। বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পেয়ে থাকেন।

বিএসএমএমইউ’র অধীনে রেসিডেন্সি চিকিৎসকরা আগে থেকেই মাসিক ভাতার আওতাভুক্ত। সম্প্র্রতি সরকার এফসিপিএস কোর্সের বেসরকারি চিকিৎসকদেরও মাসিক ভাতার আওতাভুক্ত করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

তবে নন-রেসিডেন্সি কোর্সের চিকিৎসকদের দুঃখ এখনও ঘোচেনি। দু’বছরের এ কোর্সটি তাদের সম্পন্ন করতে হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দু’বছরের কারিকুলাম হওয়া সত্ত্বেও নানা কারণে দু’বছরেরও অধিক সময় লেগে যায়। সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকারি এবং মাসিক ভাতাভুক্ত অন্য কোর্সের চিকিৎসকদের মতো তাদেরও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়।

উল্লেখ্য, মাসিক ভাতা বাদে ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ভর্তি ফি ও কোর্স কারিকুলাম- যাবতীয় কার্যক্রম রেসিডেন্সি কোর্সেরই অনুরূপ। এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী কোর্স চলাকালীন অন্য কোথাও চাকরি বা ডিউটি করার অনুমতিও নেই।

আজীবন শুনে এসেছি- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার; কিন্তু ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হওয়ার দরুন শিক্ষার্থীদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যাচ্ছে।

যেখানে এত টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হবে, দু’বছরের পড়াশোনার খরচ চালাতে হবে, অন্য জেলায় চান্স পেলে নিজ খরচেই যেখানে স্থানান্তর হতে হবে; সেখানে ন্যূনতম সম্মানটুকুও কি আমরা পাব না? ছয় বছরের এমবিবিএস গ্র্যাজুয়েশন শেষে জীবনের এ পর্যায়ে এসে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের খরচের জন্য হাত পাততে হবে?

একটু ভেবে দেখুন তো, যে ডাক্তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, তার সংসারটি চলবে কী করে? যার বাবা বৃদ্ধ, মাস শেষে পেনশন যার একমাত্র সম্বল; তার পরিবারের দেখাশোনা সে করবে কী করে?

নিজের পেটের ক্ষুধা অগ্রাহ্য করলেও পরিবারের মানুষের ক্ষুধা অগ্রাহ্য করবে কীভাবে? এ হাহাকার আজ নন-রেসিডেন্সিতে অধ্যয়নরত প্রত্যেক ডাক্তারের। আমরা তো ঝুঁকি ভাতা বা প্রণোদনা চাচ্ছি না। চাই আমাদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ও সম্মানের সঙ্গে দু’বেলা পরিবারকে পেট ভরে খাবারের জোগান দিতে।

করোনাঝুঁকি ভাতা বা প্রণোদনার আওতাভুক্ত না হয়েও এ মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে প্রতিনিয়ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষার্থীরা। করোনার এ ভয়াবহ সময়ে আর্থিক সংকটের মুখে নিজের পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলে বিনা সম্মানিতে কাজ করা এখন প্রায় অসম্ভব, যা অত্যন্ত অমানবিকও। এ ধরনের উভয় সংকটময় পরিস্থিতি তাদের মেধা বিকাশেও বাধা দিচ্ছে।

যে মাথায় সারাক্ষণ ক্ষুধা নিবারণজনিত চিন্তা ঘূর্ণায়মান; সেখানে বুদ্ধি বিকাশের অবকাশ কোথায়? ক্ষুধার্ত অবস্থায় আর যাই হোক না কেন; সর্বোচ্চ সেবার আশা করাটা প্রহসন মাত্র। একই প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউর অধীনে পরিচালিত কোর্সের একটিতে সম্মানী পাওয়া যাবে; আরেকটিতে পাওয়া যাবে না- এ কেমন বিচার! রেসিডেন্সির অনুরূপ সব নিয়ম-কানুন মেনে সমপরিমাণ ত্যাগ, তিতিক্ষা, কষ্টের পর আরও কষ্ট ও মানবেতর জীবনযাপন- এ বৈষম্যের অবসান হবে কবে? পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের নিদর্শন নেই।

স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের যৌক্তিক দাবি পূরণে নিঃসন্দেহে কর্তৃপক্ষের ততটা বেগ পাওয়ার কথা নয়। এখন দরকার কেবল মানসিকতার পরিবর্তন। আমরা নিয়মের পরিবর্তন চাই। সময় এসেছে পরিবর্তনের।

ডা. আনুসা আনাদিল (ডিএ, এমএমসি, ঢাকা); ডা. নাবিল বিন আলম (আইএসএমসি-০৮), ডি-অর্থো (মিটফোর্ড, ঢাকা); ডা. আইভি আক্তার (এসবিএমসি-৩৯তম) ডিসিএইচ (আইসিএমএইচ, ঢাকা); ডা. তূর্ণা তানজিম (ডিবিএসটি, বিএসএমএমইউ); ডা. ফারজানা সাথী (ডিজিও, বিএসএমএমইউ); ডা. তানজুম (ডিজিও, ডিএমসি); ডা. নুরুল ইসলাম (ডিএ, আরএমসি); ডা. শাহিন রেজা (ডিএ, আইএসটি); ডা. সালেহীন খাঁ (ডি-অর্থো); ডা. রাশেদুল ইসলাম জুয়েল (ডিএ, আরপিএমসি); ডা. ফয়েজ আহমেদ (ডিসিএইচ, বিআইসিএইচ); ডা. ফারহানা পারভীন (ডিজিও, সিএমসি); ডা. রাজীব হোসেন ও ডা. তানজিম মাহির

নন-রেসিডেন্সি কোর্সের চিকিৎসকদের বঞ্চনার অবসান হবে কবে?

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বর্তমানে তিন ধরনের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চলমান- এফসিপিএস (৫ বছর), রেসিডেন্সি (৫ বছর) এবং নন-রেসিডেন্সি (২ বছর)। সব কোর্সে দু’ক্যাটাগরির চিকিৎসক রয়েছেন- সরকারি ও বেসরকারি। বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পেয়ে থাকেন।

বিএসএমএমইউ’র অধীনে রেসিডেন্সি চিকিৎসকরা আগে থেকেই মাসিক ভাতার আওতাভুক্ত। সম্প্র্রতি সরকার এফসিপিএস কোর্সের বেসরকারি চিকিৎসকদেরও মাসিক ভাতার আওতাভুক্ত করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

তবে নন-রেসিডেন্সি কোর্সের চিকিৎসকদের দুঃখ এখনও ঘোচেনি। দু’বছরের এ কোর্সটি তাদের সম্পন্ন করতে হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দু’বছরের কারিকুলাম হওয়া সত্ত্বেও নানা কারণে দু’বছরেরও অধিক সময় লেগে যায়। সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকারি এবং মাসিক ভাতাভুক্ত অন্য কোর্সের চিকিৎসকদের মতো তাদেরও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়।

উল্লেখ্য, মাসিক ভাতা বাদে ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ভর্তি ফি ও কোর্স কারিকুলাম- যাবতীয় কার্যক্রম রেসিডেন্সি কোর্সেরই অনুরূপ। এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী কোর্স চলাকালীন অন্য কোথাও চাকরি বা ডিউটি করার অনুমতিও নেই।

আজীবন শুনে এসেছি- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার; কিন্তু ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হওয়ার দরুন শিক্ষার্থীদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যাচ্ছে।

যেখানে এত টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হবে, দু’বছরের পড়াশোনার খরচ চালাতে হবে, অন্য জেলায় চান্স পেলে নিজ খরচেই যেখানে স্থানান্তর হতে হবে; সেখানে ন্যূনতম সম্মানটুকুও কি আমরা পাব না? ছয় বছরের এমবিবিএস গ্র্যাজুয়েশন শেষে জীবনের এ পর্যায়ে এসে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের খরচের জন্য হাত পাততে হবে?

একটু ভেবে দেখুন তো, যে ডাক্তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, তার সংসারটি চলবে কী করে? যার বাবা বৃদ্ধ, মাস শেষে পেনশন যার একমাত্র সম্বল; তার পরিবারের দেখাশোনা সে করবে কী করে?

নিজের পেটের ক্ষুধা অগ্রাহ্য করলেও পরিবারের মানুষের ক্ষুধা অগ্রাহ্য করবে কীভাবে? এ হাহাকার আজ নন-রেসিডেন্সিতে অধ্যয়নরত প্রত্যেক ডাক্তারের। আমরা তো ঝুঁকি ভাতা বা প্রণোদনা চাচ্ছি না। চাই আমাদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ও সম্মানের সঙ্গে দু’বেলা পরিবারকে পেট ভরে খাবারের জোগান দিতে।

করোনাঝুঁকি ভাতা বা প্রণোদনার আওতাভুক্ত না হয়েও এ মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে প্রতিনিয়ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষার্থীরা। করোনার এ ভয়াবহ সময়ে আর্থিক সংকটের মুখে নিজের পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলে বিনা সম্মানিতে কাজ করা এখন প্রায় অসম্ভব, যা অত্যন্ত অমানবিকও। এ ধরনের উভয় সংকটময় পরিস্থিতি তাদের মেধা বিকাশেও বাধা দিচ্ছে।

যে মাথায় সারাক্ষণ ক্ষুধা নিবারণজনিত চিন্তা ঘূর্ণায়মান; সেখানে বুদ্ধি বিকাশের অবকাশ কোথায়? ক্ষুধার্ত অবস্থায় আর যাই হোক না কেন; সর্বোচ্চ সেবার আশা করাটা প্রহসন মাত্র। একই প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউর অধীনে পরিচালিত কোর্সের একটিতে সম্মানী পাওয়া যাবে; আরেকটিতে পাওয়া যাবে না- এ কেমন বিচার! রেসিডেন্সির অনুরূপ সব নিয়ম-কানুন মেনে সমপরিমাণ ত্যাগ, তিতিক্ষা, কষ্টের পর আরও কষ্ট ও মানবেতর জীবনযাপন- এ বৈষম্যের অবসান হবে কবে? পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের নিদর্শন নেই।

স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের যৌক্তিক দাবি পূরণে নিঃসন্দেহে কর্তৃপক্ষের ততটা বেগ পাওয়ার কথা নয়। এখন দরকার কেবল মানসিকতার পরিবর্তন। আমরা নিয়মের পরিবর্তন চাই। সময় এসেছে পরিবর্তনের।

ডা. আনুসা আনাদিল (ডিএ, এমএমসি, ঢাকা); ডা. নাবিল বিন আলম (আইএসএমসি-০৮), ডি-অর্থো (মিটফোর্ড, ঢাকা); ডা. আইভি আক্তার (এসবিএমসি-৩৯তম) ডিসিএইচ (আইসিএমএইচ, ঢাকা); ডা. তূর্ণা তানজিম (ডিবিএসটি, বিএসএমএমইউ); ডা. ফারজানা সাথী (ডিজিও, বিএসএমএমইউ); ডা. তানজুম (ডিজিও, ডিএমসি); ডা. নুরুল ইসলাম (ডিএ, আরএমসি); ডা. শাহিন রেজা (ডিএ, আইএসটি); ডা. সালেহীন খাঁ (ডি-অর্থো); ডা. রাশেদুল ইসলাম জুয়েল (ডিএ, আরপিএমসি); ডা. ফয়েজ আহমেদ (ডিসিএইচ, বিআইসিএইচ); ডা. ফারহানা পারভীন (ডিজিও, সিএমসি); ডা. রাজীব হোসেন ও ডা. তানজিম মাহির