কবে সুদিন ফিরবে চামড়াশিল্পে?
jugantor
কবে সুদিন ফিরবে চামড়াশিল্পে?

  সাদিয়া আফরিন  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মনে আছে ভেনিজুয়েলার কথা? এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে মুখ থুবড়ে পড়েছিল দেশটির অর্থনীতি। বিপুল তেলের মজুদ সমৃদ্ধ দেশটি একমুখী অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে হয়েছিল অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় মুহ্যমান।

একমুখী অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকলে আগামীর বাংলাদেশেও ঘটতে পারে ভেনিজুয়েলা সংকটের পুনরাবৃত্তি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে থাকা পোশাকশিল্পে ক্রমবর্ধমান সংকট যেন সে রকম কিছুরই আভাস দিচ্ছে। করোনার থাবায় তৈরি পোশাকের দাম ও রফতানি হ্রাস, বিদেশি অর্ডার বাতিল ও পোশাক কারখানা বন্ধের ঘটনা সেই আশঙ্কাকে ত্বরান্বিত করছে।

পোশাকশিল্পের এ মহামন্দায় অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট এড়াতে অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং পোশাকশিল্পের পরিপূরক হিসেবে বিকল্প কোনো খাত প্রস্তুত ও জোরদারকরণ এখন সময়ের দাবি।

এক সময় পাটশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির বৃহত্তম খাত থাকলেও দেশি-বিদেশি বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা হ্রাস ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এ দেশে পাটশিল্প বিকাশের সম্ভাবনা আজ মৃতপ্রায়। চামড়া বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের পর প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী ও রফতানিযোগ্য পণ্য।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গত অর্থবছরে পোশাকশিল্পের পর সর্বোচ্চ ১০১ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের রফতানি আয়ের মাধ্যমে চামড়াশিল্প রফতানি আয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। চামড়া খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশীয় অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনয়নকল্পে বিকল্প খাত হিসেবে চামড়াশিল্প নজরদারি পাওয়ার অধিক দাবিদার। চামড়াশিল্পের বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম। অধিক সমন্বয় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এ সম্ভাবনাময় খাতটিকে দেশের অর্থনীতির দুঃসময়ের কাণ্ডারি করে তুলবে। দেশীয় ট্যানারি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কাঁচা চামড়ার জোগানের প্রায় ৭০ ভাগ আসে কোরবানি পশুর চামড়া থেকে।

বাংলাদেশে চামড়াশিল্পের কাঁচামাল প্রাপ্তির বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে কোরবানির চামড়া যথাযথ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। গত বছর চামড়ার কাঁচামালের নজিরবিহীন মূল্য বিপর্যয়ের কারণে ধস নেমেছিল চামড়াশিল্পে। বিগত তিন দশকের ইতিহাসে গতবছর চামড়ার দাম ছিল সর্বনিম্ন।

গতবছরের মতো এবারও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভ আর ক্রেতার অভাবে কোরবানির চামড়া পানিতে ফেলে দেয়া ও বিপুল চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বেশকিছু অঞ্চলে। সারা দেশে বেশিরভাগ গরুর চামড়া আকার অনুযায়ী গড়ে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ২ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরপর দু’বছর চামড়ায় এ নজিরবিহীন বিপর্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চামড়া ব্যবসায়ে নিরুৎসাহিত করছে।

কোরবানির এ মৌসুমে ক্ষুদ্র বিক্রেতা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার নেপথ্যে থাকা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির দরুন মুখ থুবড়ে পড়ছে কোরবানির চামড়া বাণিজ্যের প্রায় সব সম্ভাবনা। বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শেষ মুহূর্তে কাঁচা চামড়া রফতানির ঘোষণাকে দুষছেন অনেকে। ঈদুল আজহার আগেই সরকার, চামড়া খাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকে গৃহীত ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত সিন্ডিকেটের দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব ছিল বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।

কথায় আছে, ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’। সময়মতো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত ও গৃহীত পদক্ষেপের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবারও গত বছরের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে দেশের প্রান্তিক চামড়া ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

আগামীতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়িয়ে চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে সরকারি তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারি উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও। অপ্রতুল বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এ শিল্প বিকাশের অন্যতম প্রতিবন্ধক। চামড়া খাতের উন্নয়নকল্পে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোসহ সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চামড়া খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের অনীহা দূরীকরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি চামড়া ব্যবসায় জড়িত সবার সদিচ্ছা প্রয়োজন।

চামড়া খাতের সব সমস্যা সমাধান ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে এ শিল্পকে যথার্থভাবে দাঁড় করানো গেলে বিপুল কর্মসংস্থান হবে। চাপ কমবে শ্রমবাজারে, ফলে বেকারত্বের হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে। করোনাকালীন বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

মহামারীকাল আরও প্রলম্বিত হলে বাংলাদেশে অর্থনীতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। অনাগত আশঙ্কা নিরসনকল্পে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই চামড়া খাতে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে চামড়াশিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনবে, সেই অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ

কবে সুদিন ফিরবে চামড়াশিল্পে?

 সাদিয়া আফরিন 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মনে আছে ভেনিজুয়েলার কথা? এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে মুখ থুবড়ে পড়েছিল দেশটির অর্থনীতি। বিপুল তেলের মজুদ সমৃদ্ধ দেশটি একমুখী অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে হয়েছিল অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় মুহ্যমান।

একমুখী অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকলে আগামীর বাংলাদেশেও ঘটতে পারে ভেনিজুয়েলা সংকটের পুনরাবৃত্তি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে থাকা পোশাকশিল্পে ক্রমবর্ধমান সংকট যেন সে রকম কিছুরই আভাস দিচ্ছে। করোনার থাবায় তৈরি পোশাকের দাম ও রফতানি হ্রাস, বিদেশি অর্ডার বাতিল ও পোশাক কারখানা বন্ধের ঘটনা সেই আশঙ্কাকে ত্বরান্বিত করছে।

পোশাকশিল্পের এ মহামন্দায় অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট এড়াতে অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং পোশাকশিল্পের পরিপূরক হিসেবে বিকল্প কোনো খাত প্রস্তুত ও জোরদারকরণ এখন সময়ের দাবি।

এক সময় পাটশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির বৃহত্তম খাত থাকলেও দেশি-বিদেশি বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা হ্রাস ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এ দেশে পাটশিল্প বিকাশের সম্ভাবনা আজ মৃতপ্রায়। চামড়া বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের পর প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী ও রফতানিযোগ্য পণ্য।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গত অর্থবছরে পোশাকশিল্পের পর সর্বোচ্চ ১০১ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের রফতানি আয়ের মাধ্যমে চামড়াশিল্প রফতানি আয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। চামড়া খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশীয় অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনয়নকল্পে বিকল্প খাত হিসেবে চামড়াশিল্প নজরদারি পাওয়ার অধিক দাবিদার। চামড়াশিল্পের বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম। অধিক সমন্বয় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এ সম্ভাবনাময় খাতটিকে দেশের অর্থনীতির দুঃসময়ের কাণ্ডারি করে তুলবে। দেশীয় ট্যানারি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কাঁচা চামড়ার জোগানের প্রায় ৭০ ভাগ আসে কোরবানি পশুর চামড়া থেকে।

বাংলাদেশে চামড়াশিল্পের কাঁচামাল প্রাপ্তির বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে কোরবানির চামড়া যথাযথ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। গত বছর চামড়ার কাঁচামালের নজিরবিহীন মূল্য বিপর্যয়ের কারণে ধস নেমেছিল চামড়াশিল্পে। বিগত তিন দশকের ইতিহাসে গতবছর চামড়ার দাম ছিল সর্বনিম্ন।

গতবছরের মতো এবারও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষোভ আর ক্রেতার অভাবে কোরবানির চামড়া পানিতে ফেলে দেয়া ও বিপুল চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বেশকিছু অঞ্চলে। সারা দেশে বেশিরভাগ গরুর চামড়া আকার অনুযায়ী গড়ে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ২ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পরপর দু’বছর চামড়ায় এ নজিরবিহীন বিপর্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চামড়া ব্যবসায়ে নিরুৎসাহিত করছে।

কোরবানির এ মৌসুমে ক্ষুদ্র বিক্রেতা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার নেপথ্যে থাকা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজির দরুন মুখ থুবড়ে পড়ছে কোরবানির চামড়া বাণিজ্যের প্রায় সব সম্ভাবনা। বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শেষ মুহূর্তে কাঁচা চামড়া রফতানির ঘোষণাকে দুষছেন অনেকে। ঈদুল আজহার আগেই সরকার, চামড়া খাতের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের বৈঠকে গৃহীত ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত সিন্ডিকেটের দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব ছিল বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।

কথায় আছে, ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’। সময়মতো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত ও গৃহীত পদক্ষেপের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবারও গত বছরের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে দেশের প্রান্তিক চামড়া ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

আগামীতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়িয়ে চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে সরকারি তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারি উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও। অপ্রতুল বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এ শিল্প বিকাশের অন্যতম প্রতিবন্ধক। চামড়া খাতের উন্নয়নকল্পে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোসহ সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চামড়া খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের অনীহা দূরীকরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি চামড়া ব্যবসায় জড়িত সবার সদিচ্ছা প্রয়োজন।

চামড়া খাতের সব সমস্যা সমাধান ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে এ শিল্পকে যথার্থভাবে দাঁড় করানো গেলে বিপুল কর্মসংস্থান হবে। চাপ কমবে শ্রমবাজারে, ফলে বেকারত্বের হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে। করোনাকালীন বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

মহামারীকাল আরও প্রলম্বিত হলে বাংলাদেশে অর্থনীতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। অনাগত আশঙ্কা নিরসনকল্পে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই চামড়া খাতে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে চামড়াশিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনবে, সেই অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ