করোনাভাইরাসে কেন আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ
jugantor
করোনাভাইরাসে কেন আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ

  আফিয়া খাতুন  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৫০-৬০ দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে নানা ধরনের গল্পের বই, উপন্যাস ও গোয়েন্দা কাহিনী বের হতো। এই বইগুলোর কিছু কিছু বই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে পাওয়া যেত।

আমাদের বাড়িতে কলকাতার নানা ধরনের গল্পের বই আসত। এর মধ্যে গোয়েন্দা কাহিনীর বইও আসত। এই গোয়েন্দা কাহিনীর মধ্যে মোহন সিরিজ ও আরও অন্য গোয়েন্দা কাহিনীর বইও আসত। একটি গোয়েন্দা কাহিনীর নাম আজকে আমার মনে নেই; কিন্তু সেই গোয়েন্দা কাহিনীর নায়ক বা গোয়েন্দার নাম ছিল কিরীটি রায় এটুকু মনে আছে।

গভীর আগ্রহে সেসময়কার কিশোর-কিশোরীরা এই বইগুলি পড়ত। কিরীটি রায় সাহসী গোয়েন্দা। তিনি বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অপরাধীকে শনাক্ত করতেন এবং গ্রেফতার করতেন। কিন্তু এই গোয়েন্দা কাহিনীর একটা বিষয় ছিল, যা শুনে আজ অনেকের মনেই বিস্ময়ের সৃষ্টি হতে পারে।

যেমন, এই গোয়েন্দা কাহিনীর প্রায় প্রতিটিতে দেখা যেত এক বা একাধিক অপরাধী চীনা নাগরিক। তারা সেসময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করত এবং নানা ধরনর অপরাধে লিপ্ত হতো। তখন আমার এবং আমার মতো কিশোর-কিশোরীদের মনে একটি ধারণা জন্মেছিল যে, চীনারা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক।

যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলাম, তখন দেখলাম পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মধ্যে চীনও একটি। শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে চীন বিশ্বের একটি অন্যতম উন্নত দেশ। আমার কিশোর মনের ধারণাটি মনে পড়ার আর একটি কারণ হল আজ সমগ্রবিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশও এ করোনাভাইরাস থেকে বাদ যায়নি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, এ করোনাভাইরাসটি চীন দেশ থেকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে যায়।

আজ বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুবরণ করছে। মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সমগ্র বিশ্বের বিজ্ঞানীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস প্রতিরোধের যথাযথ প্রতিষেধক আবিস্কার করতে পারেননি।

মানুষের এবং যে কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন খাদ্য খেয়ে সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব, মানুষকে তা জানতে হবে। জীবন ও শরীরের জন্য যা ক্ষতিকর, তা বর্জন করাই শ্রেয়। দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় কোনো কোনো দেশের মানুষ বিভিন্ন রকমের জীবজন্তু ভক্ষণ করে থাকে। এখানে উল্লেখ করতে চাই, আমরা যখন দশম শ্রেণিতে পড়ি, সেসমসয় ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে ‘Shops and Bazars of Burma’ এই নামে একটি গল্প ছিল। তাতে দেখা যায়, কালো বড় বড় পিঁপড়া জালের ব্যাগে ভরে দোকানিরা তাদের দোকানে ঝুলিয়ে রাখত। বার্মার লোকরা ওই পিঁপড়া কিনে নিয়ে বাড়িতে স্যুপ বানিয়ে খেত।

এ ছাড়াও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় কোনো কোনো দেশের মানুষ সাপ, ব্যাঙ, ইদুর ইত্যাদি ভক্ষণ করে থাকে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে, চীনের একটি স্কুলে ২৭ ও ১৭ বছর বয়সী দুই ভাই ‘মারমেট’ নামক তীক্ষ্ম দাতওয়ালা কাঠবিড়ালী জাতের এক প্রাণির মাংস ভক্ষণ করে করোনিক প্লেগ নামক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্বের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, শত শত বছর আগে প্লেগ রোগ রোমান সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় এ রোগটি সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তখনও লাখ লাখ মানুষ এ রোগে মারা গিয়েছিল। অবশ্য বর্তমানে এসব রোগের টিকা বা ওষুধ আবিস্কার হয়েছে।

পৃথিবী আজ উন্নয়নের উচ্চশিখরে অবস্থান করছে। বিশ্বের অনেক দেশই নানা রকমের আবিস্কার করছে। এসব থেকে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের জনসংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছ। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে এবং প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের কারনে বিশ্বব্যাপী মারামারি, হানাহানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শক্তিশালী দেশ বা জাতি অপেক্ষাকৃত দুর্বল জাতির ওপর নানাভাবে শাসন-শোষন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

বিশ্বের কোনো কোনো দেশ জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নয়নের পাশাপাশি মানববিধংসী অস্ত্রও তৈরি করছে। একে অপরের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য ঝাপিয়ে পড়ছে এবং যুগে যুগে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

কিন্তু এই বিশ্ব শুধুমাত্র মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়নি। এই বিশ্বে নানা ধরনের প্রাণী, জীবজন্তু, গাছপালা, নদ-নদী, সাগর, পাহাড়-পর্বত আছে, যা মানুষ ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছে। মানুষ যথেচ্ছ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ভারসম্য বিনষ্ট করছে, যা প্রকৃতির উপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে বিশ্বে ঝড়, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি নানাভাবে পৃথিবীকে তছনছ করে দিচ্ছে। মানুষকে ভাবতে হবে- এ পৃথিবী শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়। এ বিশ্ব মানুষ্য সৃষ্টিও নয়। এর পেছনে একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। তার বিরাগভাজন হলে তিনিও রুষ্ট হন। অর্থাৎ প্রাকৃতিরও বিধান আছে।

এক সময় ইউরোপ, আমেরিকায় প্রচুর শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয় এবং তাদের দেশের লোকেরাই সেসময় শিল্প-কারখানাগুলোয় শ্রমিকের কাজ করত। পরে আফ্রিকা থেকে নিগ্রোদেরও বলপূর্বক নিয়ে এসে ইউরোপ ও আমেরিকায় শ্রমিকদের কাজ করানো হতো। বর্তমানে অনুন্নত দেশ থেকে শ্রমিকরা উন্নত দেশে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করছে এতে অনুন্নত দেশ উপকৃত হচ্ছে বটে; তবে উন্নত দেশের অনেক মানুষই ভোগ বিলাসে ব্যস্ত থাকেন। এখানে একটি উদাহরণ না দিলেই নয়।

আমেরিকায় অনেকে বিকৃত জীবন যাপন করে, যা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশটির সরকারও সমকামীদের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ ধরনের অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজ আমেরিকার মতো দেশ ও সমাজ মেনে নেয় কিভাবে?

আজ করোনায় আমেরিকাতেই বেশি মানুষ আক্রান্ত। এটা কি তাদের ঘৃণ্য মনোবৈকল্যের ফল? বাংলাদেশেও কয়েক বছর আগে গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছিল। এর ফলে বেশ কিছুদিন দেশে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। পুনরায় বৃক্ষ রোপণের ফলে বর্তমানে যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে এখনও আবর্জনা দিয়ে নদ-নদী ভরাট করা হচ্ছে। পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে। প্রকৃতির উপর চাপ সৃষ্টি করলে প্রকৃতিও বিরূপ আচরণ করে থাকে- এটুকু আমাদের ভাবতে হবে।

প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, এলিমেন্টারী স্কুল, ঢাকা

করোনাভাইরাসে কেন আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ

 আফিয়া খাতুন 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৫০-৬০ দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে নানা ধরনের গল্পের বই, উপন্যাস ও গোয়েন্দা কাহিনী বের হতো। এই বইগুলোর কিছু কিছু বই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে পাওয়া যেত।

আমাদের বাড়িতে কলকাতার নানা ধরনের গল্পের বই আসত। এর মধ্যে গোয়েন্দা কাহিনীর বইও আসত। এই গোয়েন্দা কাহিনীর মধ্যে মোহন সিরিজ ও আরও অন্য গোয়েন্দা কাহিনীর বইও আসত। একটি গোয়েন্দা কাহিনীর নাম আজকে আমার মনে নেই; কিন্তু সেই গোয়েন্দা কাহিনীর নায়ক বা গোয়েন্দার নাম ছিল কিরীটি রায় এটুকু মনে আছে।

গভীর আগ্রহে সেসময়কার কিশোর-কিশোরীরা এই বইগুলি পড়ত। কিরীটি রায় সাহসী গোয়েন্দা। তিনি বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অপরাধীকে শনাক্ত করতেন এবং গ্রেফতার করতেন। কিন্তু এই গোয়েন্দা কাহিনীর একটা বিষয় ছিল, যা শুনে আজ অনেকের মনেই বিস্ময়ের সৃষ্টি হতে পারে।

যেমন, এই গোয়েন্দা কাহিনীর প্রায় প্রতিটিতে দেখা যেত এক বা একাধিক অপরাধী চীনা নাগরিক। তারা সেসময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করত এবং নানা ধরনর অপরাধে লিপ্ত হতো। তখন আমার এবং আমার মতো কিশোর-কিশোরীদের মনে একটি ধারণা জন্মেছিল যে, চীনারা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক।

যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলাম, তখন দেখলাম পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মধ্যে চীনও একটি। শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে চীন বিশ্বের একটি অন্যতম উন্নত দেশ। আমার কিশোর মনের ধারণাটি মনে পড়ার আর একটি কারণ হল আজ সমগ্রবিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশও এ করোনাভাইরাস থেকে বাদ যায়নি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, এ করোনাভাইরাসটি চীন দেশ থেকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে যায়।

আজ বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুবরণ করছে। মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সমগ্র বিশ্বের বিজ্ঞানীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস প্রতিরোধের যথাযথ প্রতিষেধক আবিস্কার করতে পারেননি।

মানুষের এবং যে কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন খাদ্য খেয়ে সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব, মানুষকে তা জানতে হবে। জীবন ও শরীরের জন্য যা ক্ষতিকর, তা বর্জন করাই শ্রেয়। দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় কোনো কোনো দেশের মানুষ বিভিন্ন রকমের জীবজন্তু ভক্ষণ করে থাকে। এখানে উল্লেখ করতে চাই, আমরা যখন দশম শ্রেণিতে পড়ি, সেসমসয় ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে ‘Shops and Bazars of Burma’ এই নামে একটি গল্প ছিল। তাতে দেখা যায়, কালো বড় বড় পিঁপড়া জালের ব্যাগে ভরে দোকানিরা তাদের দোকানে ঝুলিয়ে রাখত। বার্মার লোকরা ওই পিঁপড়া কিনে নিয়ে বাড়িতে স্যুপ বানিয়ে খেত।

এ ছাড়াও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় কোনো কোনো দেশের মানুষ সাপ, ব্যাঙ, ইদুর ইত্যাদি ভক্ষণ করে থাকে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে, চীনের একটি স্কুলে ২৭ ও ১৭ বছর বয়সী দুই ভাই ‘মারমেট’ নামক তীক্ষ্ম দাতওয়ালা কাঠবিড়ালী জাতের এক প্রাণির মাংস ভক্ষণ করে করোনিক প্লেগ নামক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্বের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, শত শত বছর আগে প্লেগ রোগ রোমান সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় এ রোগটি সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তখনও লাখ লাখ মানুষ এ রোগে মারা গিয়েছিল। অবশ্য বর্তমানে এসব রোগের টিকা বা ওষুধ আবিস্কার হয়েছে।

পৃথিবী আজ উন্নয়নের উচ্চশিখরে অবস্থান করছে। বিশ্বের অনেক দেশই নানা রকমের আবিস্কার করছে। এসব থেকে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের জনসংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছ। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে এবং প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের কারনে বিশ্বব্যাপী মারামারি, হানাহানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শক্তিশালী দেশ বা জাতি অপেক্ষাকৃত দুর্বল জাতির ওপর নানাভাবে শাসন-শোষন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

বিশ্বের কোনো কোনো দেশ জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নয়নের পাশাপাশি মানববিধংসী অস্ত্রও তৈরি করছে। একে অপরের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য ঝাপিয়ে পড়ছে এবং যুগে যুগে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

কিন্তু এই বিশ্ব শুধুমাত্র মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়নি। এই বিশ্বে নানা ধরনের প্রাণী, জীবজন্তু, গাছপালা, নদ-নদী, সাগর, পাহাড়-পর্বত আছে, যা মানুষ ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছে। মানুষ যথেচ্ছ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ভারসম্য বিনষ্ট করছে, যা প্রকৃতির উপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে বিশ্বে ঝড়, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি নানাভাবে পৃথিবীকে তছনছ করে দিচ্ছে। মানুষকে ভাবতে হবে- এ পৃথিবী শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়। এ বিশ্ব মানুষ্য সৃষ্টিও নয়। এর পেছনে একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। তার বিরাগভাজন হলে তিনিও রুষ্ট হন। অর্থাৎ প্রাকৃতিরও বিধান আছে।

এক সময় ইউরোপ, আমেরিকায় প্রচুর শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয় এবং তাদের দেশের লোকেরাই সেসময় শিল্প-কারখানাগুলোয় শ্রমিকের কাজ করত। পরে আফ্রিকা থেকে নিগ্রোদেরও বলপূর্বক নিয়ে এসে ইউরোপ ও আমেরিকায় শ্রমিকদের কাজ করানো হতো। বর্তমানে অনুন্নত দেশ থেকে শ্রমিকরা উন্নত দেশে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করছে এতে অনুন্নত দেশ উপকৃত হচ্ছে বটে; তবে উন্নত দেশের অনেক মানুষই ভোগ বিলাসে ব্যস্ত থাকেন। এখানে একটি উদাহরণ না দিলেই নয়।

আমেরিকায় অনেকে বিকৃত জীবন যাপন করে, যা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশটির সরকারও সমকামীদের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ ধরনের অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজ আমেরিকার মতো দেশ ও সমাজ মেনে নেয় কিভাবে?

আজ করোনায় আমেরিকাতেই বেশি মানুষ আক্রান্ত। এটা কি তাদের ঘৃণ্য মনোবৈকল্যের ফল? বাংলাদেশেও কয়েক বছর আগে গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছিল। এর ফলে বেশ কিছুদিন দেশে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। পুনরায় বৃক্ষ রোপণের ফলে বর্তমানে যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে এখনও আবর্জনা দিয়ে নদ-নদী ভরাট করা হচ্ছে। পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে। প্রকৃতির উপর চাপ সৃষ্টি করলে প্রকৃতিও বিরূপ আচরণ করে থাকে- এটুকু আমাদের ভাবতে হবে।

প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, এলিমেন্টারী স্কুল, ঢাকা