নগরবাসীকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন তরুণ মেয়র
jugantor
নগরবাসীকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন তরুণ মেয়র

  আতাউল করিম খোকন  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) উদ্যোগে ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটুর নেতৃত্বে কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নগরবাসী তাকে সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধা মনে করছেন। কোভিড-১৯ মহামারীর এ দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিটি মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু অসহায়, ছিন্নমূল ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

দেশে কোভিড-১৯ মহামারী প্রাদুর্ভাবের সূচনা থেকেই জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশিপাশি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাতধোয়ার ব্যবস্থা, সড়কগুলোয় জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রে এবং নগরীর ৮টি পয়েন্টে জীবাণুনাশক ট্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে নগরবাসীকে করোনামুক্ত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সিটি মেয়র। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ৩০ হাজার পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৪৪ হাজার পিস মাস্ক, নগরীরর ৫২৫টি স্থানে ব্লিচিং পাউডার ও পানিভর্তি ড্রামসহ সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, সচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫টি স্থানে প্রচারণা বুথ স্থাপন ছাড়াও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১০০টি মাইকের মাধ্যমে করোনা মোকাবেলায় জনসাধারণের করণীয় সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া মানুষকে সচেতন করতে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। লকডাউনকালে মানুষ যাতে তা যথাযথভাবে পরিপালন করে, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে মাইক হাতে নিজেই ছুটেছেন নগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। কর্মহীন-হতদরিদ্রদের পাশাপাশি প্রয়োজন আছে- এমন পরিবারগুলোর কাছে রাতের আঁধারে নিজেই পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ।

সিটি মেয়রের নিরলস এ কর্মতৎপরতায় শহরবাসীর মধ্যে কভিড-১৯ মোকাবেলায় ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ত্রাণ কার্যক্রম ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবাসহ গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু যুগান্তরকে জানান, এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গত কয়েক মাসে তার গৃহীত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম হল- প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য উপহার হিসেবে প্রাপ্ত প্রায় ৮শ’ মেট্রিক টন চাল ও ৩৫ লাখ টাকার আলু সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেয়র টিটু ব্যক্তিগতভাবে দলীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ৬৮ হাজার প্যাকেট চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, সাবান ইত্যাদি বিতরণ করেন। ৭৫০টি পরিবারের মধ্যে শিশুখাদ্য হিসেবে দুধ, চিনি, ডাল, চাল, আলু ও সুজি বিতরণ করা হয়। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহম্মেদের সৌজন্যে প্রাপ্ত এক হাজার পাঁচশ’ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী এবং ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সৌজন্যে প্রাপ্ত চার হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর বাইরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শহরে ১০০টি হ্যান্ড স্প্রে দ্বারা জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।

কোভিড-১৯ অতিমারীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এবং নিজের মানবিক বোধ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ রাখার রাখার চেষ্টা করছেন তরুণ এই মেয়র। ‘নগরীর একটি মানুষও যেন অভুক্ত না থাকে’ সেই লক্ষ্যে কর্মহীন ও হতদরিদ্র নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ পৌরসভার এক সময়ের ৮নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর থেকে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ইকরামুল হক টিটু। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড থেকে ৩৩টি ওয়ার্ডে সীমানা সম্প্রসারণ করে ২০১৭ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলে ইকরামুল হক টিটু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং একই বছরে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রথম মেয়র হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তরুণ জননন্দিত এ নেতা। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি তার নিরলস উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা দিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনকে দৃষ্টিনন্দন করতে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

যুগান্তর, ময়মনসিংহ ব্যুরো

নগরবাসীকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন তরুণ মেয়র

 আতাউল করিম খোকন 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) উদ্যোগে ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটুর নেতৃত্বে কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নগরবাসী তাকে সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধা মনে করছেন। কোভিড-১৯ মহামারীর এ দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিটি মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু অসহায়, ছিন্নমূল ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

দেশে কোভিড-১৯ মহামারী প্রাদুর্ভাবের সূচনা থেকেই জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশিপাশি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাতধোয়ার ব্যবস্থা, সড়কগুলোয় জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রে এবং নগরীর ৮টি পয়েন্টে জীবাণুনাশক ট্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে নগরবাসীকে করোনামুক্ত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সিটি মেয়র। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ৩০ হাজার পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৪৪ হাজার পিস মাস্ক, নগরীরর ৫২৫টি স্থানে ব্লিচিং পাউডার ও পানিভর্তি ড্রামসহ সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, সচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫টি স্থানে প্রচারণা বুথ স্থাপন ছাড়াও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১০০টি মাইকের মাধ্যমে করোনা মোকাবেলায় জনসাধারণের করণীয় সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া মানুষকে সচেতন করতে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। লকডাউনকালে মানুষ যাতে তা যথাযথভাবে পরিপালন করে, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে মাইক হাতে নিজেই ছুটেছেন নগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। কর্মহীন-হতদরিদ্রদের পাশাপাশি প্রয়োজন আছে- এমন পরিবারগুলোর কাছে রাতের আঁধারে নিজেই পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ।

সিটি মেয়রের নিরলস এ কর্মতৎপরতায় শহরবাসীর মধ্যে কভিড-১৯ মোকাবেলায় ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ত্রাণ কার্যক্রম ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবাসহ গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু যুগান্তরকে জানান, এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গত কয়েক মাসে তার গৃহীত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম হল- প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য উপহার হিসেবে প্রাপ্ত প্রায় ৮শ’ মেট্রিক টন চাল ও ৩৫ লাখ টাকার আলু সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেয়র টিটু ব্যক্তিগতভাবে দলীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ৬৮ হাজার প্যাকেট চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, সাবান ইত্যাদি বিতরণ করেন। ৭৫০টি পরিবারের মধ্যে শিশুখাদ্য হিসেবে দুধ, চিনি, ডাল, চাল, আলু ও সুজি বিতরণ করা হয়। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহম্মেদের সৌজন্যে প্রাপ্ত এক হাজার পাঁচশ’ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী এবং ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সৌজন্যে প্রাপ্ত চার হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর বাইরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শহরে ১০০টি হ্যান্ড স্প্রে দ্বারা জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।

কোভিড-১৯ অতিমারীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এবং নিজের মানবিক বোধ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ রাখার রাখার চেষ্টা করছেন তরুণ এই মেয়র। ‘নগরীর একটি মানুষও যেন অভুক্ত না থাকে’ সেই লক্ষ্যে কর্মহীন ও হতদরিদ্র নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ পৌরসভার এক সময়ের ৮নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর থেকে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ইকরামুল হক টিটু। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড থেকে ৩৩টি ওয়ার্ডে সীমানা সম্প্রসারণ করে ২০১৭ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলে ইকরামুল হক টিটু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং একই বছরে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রথম মেয়র হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তরুণ জননন্দিত এ নেতা। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি তার নিরলস উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা দিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনকে দৃষ্টিনন্দন করতে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

যুগান্তর, ময়মনসিংহ ব্যুরো