নারীর ওপর নির্যাতন ও কাজের চাপ বেড়েছে
jugantor
নারীর ওপর নির্যাতন ও কাজের চাপ বেড়েছে

  সুলেখা প্রয়াসী  

০৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে। এর আগে সিলেটের এমসি কলেজে ঘটেছে গণধর্ষণের ঘটনা। বর্তমানে সারা বিশ্ব প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

তথ্য বলছে, নারীর চেয়ে পুরুষ রোগীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নামক ভাইরাস’ দ্বারা নারীরা যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে মানবজাতি ও পৃথিবী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নারীরা বেশি আক্রান্ত হয় সবচেয়ে আপনজন ও কাছের মানুষ দ্বারা। বাংলাদেশে স্বাভাবিক সময়ে ৮০ শতাংশ নারী কোনো-না-কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। তবে বর্তমান লকডাউনে নারীর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে আরও বহুগুণ।

দীর্ঘদিন লকডাউনে চাকরি হারিয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য। এর ফলে পরিবারের চাহিদা মেটাতে না পেরে পুরুষের মেজাজ হয়ে যাচ্ছে খিটখিটে। পুরুষের সেই মেজাজ গিয়ে পড়ছে নারীর ওপর। চাপ দিচ্ছে যৌতুকের জন্য। ফলে নারী নিজে এবং তার মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনরা বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেক কর্মজীবি নারী তাদের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেক নারী নিরাপত্তার জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন, সেটা খরচ করতে বাধা দিলে শিকার হচ্ছেন নির্যাতনের।

মনে করা হয়েছিল, লকডাউনের ফলে মানুষের দাম্পত্য ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হবে, যা মানুষ অনেক চেষ্টা করেও আগে গড়ে তুলতে পারেনি। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, বাস্তবচিত্র এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

মহামারী, দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ ইত্যাদির সময় মানুষের মধ্যে ভয়, নিরাপত্তাহীনতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা বৃদ্ধি পায়; ফলে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। লকডাউন-কোয়ারেন্টিন ইত্যাদির ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে নারী তার সমস্যার কথা কারও সঙ্গে ভাগাভাগিও করতে পারছে না। সারা দিন যে ব্যক্তিটি তাকে নির্যাতন করেছে, দিনশেষে সেই ব্যক্তিটির সঙ্গেই এক বাসায় থাকতে হচ্ছে; ফলে হতাশার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে আরও বহুগুণে।

নারীকে সমাজ সব সময় দমন-পীড়নের মধ্যেই রাখে। নারী যত বড় কাজই করুক না কেন, তার কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় না। করোনাকালে নারীর ওপর নির্যাতন ও কাজের চাপ বেড়েছে-ব্র্যাক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পৃথক দুই জরিপেই এ তথ্য উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক অনিরাপত্তাবোধ, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘসময় ঘরে বন্দি থাকার কারণে নির্যাতনের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারী উত্তরদাতারা। মনে রাখা জরুরি, নারী আক্রান্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জীবন চলার পথে নারী-পুরুষ একে অপরের পুরিপূরক হওয়া।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ঢাকা

[email protected]

নারীর ওপর নির্যাতন ও কাজের চাপ বেড়েছে

 সুলেখা প্রয়াসী 
০৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে। এর আগে সিলেটের এমসি কলেজে ঘটেছে গণধর্ষণের ঘটনা। বর্তমানে সারা বিশ্ব প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

তথ্য বলছে, নারীর চেয়ে পুরুষ রোগীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নামক ভাইরাস’ দ্বারা নারীরা যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে মানবজাতি ও পৃথিবী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নারীরা বেশি আক্রান্ত হয় সবচেয়ে আপনজন ও কাছের মানুষ দ্বারা। বাংলাদেশে স্বাভাবিক সময়ে ৮০ শতাংশ নারী কোনো-না-কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। তবে বর্তমান লকডাউনে নারীর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে আরও বহুগুণ।

দীর্ঘদিন লকডাউনে চাকরি হারিয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য। এর ফলে পরিবারের চাহিদা মেটাতে না পেরে পুরুষের মেজাজ হয়ে যাচ্ছে খিটখিটে। পুরুষের সেই মেজাজ গিয়ে পড়ছে নারীর ওপর। চাপ দিচ্ছে যৌতুকের জন্য। ফলে নারী নিজে এবং তার মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনরা বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেক কর্মজীবি নারী তাদের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেক নারী নিরাপত্তার জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন, সেটা খরচ করতে বাধা দিলে শিকার হচ্ছেন নির্যাতনের।

মনে করা হয়েছিল, লকডাউনের ফলে মানুষের দাম্পত্য ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হবে, যা মানুষ অনেক চেষ্টা করেও আগে গড়ে তুলতে পারেনি। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, বাস্তবচিত্র এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

মহামারী, দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ ইত্যাদির সময় মানুষের মধ্যে ভয়, নিরাপত্তাহীনতা, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা বৃদ্ধি পায়; ফলে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। লকডাউন-কোয়ারেন্টিন ইত্যাদির ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে নারী তার সমস্যার কথা কারও সঙ্গে ভাগাভাগিও করতে পারছে না। সারা দিন যে ব্যক্তিটি তাকে নির্যাতন করেছে, দিনশেষে সেই ব্যক্তিটির সঙ্গেই এক বাসায় থাকতে হচ্ছে; ফলে হতাশার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে আরও বহুগুণে।

নারীকে সমাজ সব সময় দমন-পীড়নের মধ্যেই রাখে। নারী যত বড় কাজই করুক না কেন, তার কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় না। করোনাকালে নারীর ওপর নির্যাতন ও কাজের চাপ বেড়েছে-ব্র্যাক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পৃথক দুই জরিপেই এ তথ্য উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক অনিরাপত্তাবোধ, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘসময় ঘরে বন্দি থাকার কারণে নির্যাতনের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারী উত্তরদাতারা। মনে রাখা জরুরি, নারী আক্রান্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জীবন চলার পথে নারী-পুরুষ একে অপরের পুরিপূরক হওয়া।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ঢাকা

[email protected]