কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ নই আমরা?
jugantor
কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ নই আমরা?

  সাহিন আলী  

১৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। প্রতিবছরই বিভিন্ন ফসল বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করতে সক্ষম দেশের কৃষকরা। তবুও যেন পেঁয়াজ সংকট কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না। ফলে গত কয়েক বছর ধরেই এর মাশুল গুনতে হচ্ছে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে।

বাজারে পেঁয়াজের চড়ামূল্য থাকায় এবং দিনদিন মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে তা গরিবের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। প্রশ্ন হল, দেশের কৃষকরা কি পারে না পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন করে এ সংকট থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে? উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই পারে। তবে কৃষকরা কেন তা করছে না?

এর উত্তরে বলা যায়-পেঁয়াজ সাধারণত রবি মৌসুমে চাষ করা হয় এবং এটি সেচনির্ভর ফসল। দোআঁশ ও পলি দোআঁশ মাটিতে পেঁয়াজের চাষ ভালো হয়। উৎপাদন ভালো হলে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪০ মণ পেঁয়াজ পাওয়া সম্ভব।

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, মানসম্পন্ন বীজের অভাবে পেঁয়াজ চাষে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না। আবার উৎপাদনকৃত পেঁয়াজের একটা বিরাট অংশ যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়াও পেঁয়াজ উৎপাদনে মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা খরচ পড়ে।

কিন্তু নতুন পেঁয়াজের মণপ্রতি বাজারমূল্য কখনও কখনও ৬০০ টাকারও কম হয়। এতে অনেক কৃষক ঋণের জাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়; পরিণামে পেঁয়াজ চাষে তাদের অনীহা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে বাৎসরিক প্রায় ৩০ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন হয় প্রায় ২৫ লাখ টন। পেঁয়াজ সংরক্ষণের তেমন ব্যবস্থা না থাকায় ঘরোয়া পদ্ধতিতেই এটি সংরক্ষণ করা হয়। ফলে প্রায় ৫-৭ লাখ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। যদি কোনোভাবে এ উৎপাদনের পরিমাণ ৩৫ লাখ টনের ওপরে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে আমাদের আর আমদানির জন্য অন্য কোনো দেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের সংঘবদ্ধভাবে বেশকিছু কাজ করা উচিত। যেমন:

১. সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সঠিকভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা; ২. সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত পরিমাণে মানসম্পন্ন পেঁয়াজ বীজ সংরক্ষণ করা; ৩. নতুন পেঁয়াজের মূল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে কৃষকের লোকসান গুনতে না হয় এবং ৪. রবি মৌসুমের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা।

এগুলো সফলভাবে সম্পাদিত হলে আমাদের দেশ পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ চাহিদা পূরণে সক্ষম হলে একদিকে আমাদের বিদেশ-নির্ভরতা কমবে; অন্যদিকে এটি ধনী-গরিব সবার নাগালের মধ্যে থাকবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ নই আমরা?

 সাহিন আলী 
১৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। প্রতিবছরই বিভিন্ন ফসল বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করতে সক্ষম দেশের কৃষকরা। তবুও যেন পেঁয়াজ সংকট কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না। ফলে গত কয়েক বছর ধরেই এর মাশুল গুনতে হচ্ছে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে।

বাজারে পেঁয়াজের চড়ামূল্য থাকায় এবং দিনদিন মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে তা গরিবের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। প্রশ্ন হল, দেশের কৃষকরা কি পারে না পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন করে এ সংকট থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে? উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই পারে। তবে কৃষকরা কেন তা করছে না?

এর উত্তরে বলা যায়-পেঁয়াজ সাধারণত রবি মৌসুমে চাষ করা হয় এবং এটি সেচনির্ভর ফসল। দোআঁশ ও পলি দোআঁশ মাটিতে পেঁয়াজের চাষ ভালো হয়। উৎপাদন ভালো হলে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪০ মণ পেঁয়াজ পাওয়া সম্ভব।

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, মানসম্পন্ন বীজের অভাবে পেঁয়াজ চাষে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না। আবার উৎপাদনকৃত পেঁয়াজের একটা বিরাট অংশ যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়াও পেঁয়াজ উৎপাদনে মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা খরচ পড়ে।

কিন্তু নতুন পেঁয়াজের মণপ্রতি বাজারমূল্য কখনও কখনও ৬০০ টাকারও কম হয়। এতে অনেক কৃষক ঋণের জাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়; পরিণামে পেঁয়াজ চাষে তাদের অনীহা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে বাৎসরিক প্রায় ৩০ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন হয় প্রায় ২৫ লাখ টন। পেঁয়াজ সংরক্ষণের তেমন ব্যবস্থা না থাকায় ঘরোয়া পদ্ধতিতেই এটি সংরক্ষণ করা হয়। ফলে প্রায় ৫-৭ লাখ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। যদি কোনোভাবে এ উৎপাদনের পরিমাণ ৩৫ লাখ টনের ওপরে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে আমাদের আর আমদানির জন্য অন্য কোনো দেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের সংঘবদ্ধভাবে বেশকিছু কাজ করা উচিত। যেমন:

১. সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সঠিকভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা; ২. সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত পরিমাণে মানসম্পন্ন পেঁয়াজ বীজ সংরক্ষণ করা; ৩. নতুন পেঁয়াজের মূল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে কৃষকের লোকসান গুনতে না হয় এবং ৪. রবি মৌসুমের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা।

এগুলো সফলভাবে সম্পাদিত হলে আমাদের দেশ পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ চাহিদা পূরণে সক্ষম হলে একদিকে আমাদের বিদেশ-নির্ভরতা কমবে; অন্যদিকে এটি ধনী-গরিব সবার নাগালের মধ্যে থাকবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়